বিখ্যাত হিন্দি ছবি ‘অমর আকবর অ্যান্টনি’র ততোধিক বিখ্যাত এই গানটি নিশ্চই সকলের মনে আছে – ‘ পর্দা হ্যায় পর্দা, পর্দা হ্যায় পর্দা, পর্দেকে পিছে পর্দানাশি হ্যায়’।
হাসিনা এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী জেড আই খান্না পান্নাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যা চলছে, তা নিয়ে রীতিমতো কৌতুহল তৈরি হয়েছে। আর ওই কৌতুহল মনে করিয়ে দেয় অমর আকবর অ্যান্টনির বিখ্যাত ওই গান। জেড আই খান পান্না প্রথমে জানিয়েছিলেন, তিনি স্বেচ্ছায় হাসিনার হয়ে গুমের দুটি মামলায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে(আইসিটি) সওয়াল করতে চান। এর জন্য তিনি নয়াপয়সা নেবেন না। এখন তিনি বেসুরে গান ধরেছেন। বলেছেন, আইসিটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই তিনি সন্দিহান। বৃহস্পতিবার ফেসবুক লাইভে জেষ্ঠ এই আইনজীবী তাঁর সিদ্ধান্ত বদলের কথা জানান। এই প্রসঙ্গে তিনি বেশ কয়েকটি কারণ তুলে ধরেন। তাই, হাসিনার হয়ে আদালতে সওয়াল করা থেকে তিনি বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি এও বলেন, ট্রাইব্যুনাল নিয়ে ‘বিরূপ’ মন্তব্যের জন্য ‘আদালত অবমাননা’ দায়ে অভিযুক্ত বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের হয়ে আদালতে সওয়াল করতে চান।
ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, ‘এখন যেটা দেখলাম যে মাননীয় শেখ হাসিনারও এ আদালতে (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) আস্থা নেই। সো এই কারণে আর যে আদালতের প্রতি বঙ্গবন্ধু কন্যার আস্থা নাই, সে আদালতে তো আমি তাঁকে ডিফেন্ড করতে পারি না। আমি আদালতে অন্তত বঙ্গবন্ধু কন্যার পক্ষে বা তাঁকে ডিফেন্ড করার জন্য দাঁড়াব না। উচিত না, অনৈতিক। যা হবার হবে, দেখা যাবে। আদালতে যদি আমি যথাযথভাবে নির্বিঘ্নে ডিফেন্ড করতে না পারি, তাহলে তো সেখানে আইনজীবী হিসেবে নিয়োজিত হয়ে কোনও লাভ নেই। আমার বন্ধু তথা সহযোদ্ধা, আমার সহকর্মী ফজলুর রহমানের হয়ে আদালতে ডিফেন্ড করব। তাঁর বিরুদ্ধে এ ট্রাইব্যুনাল আদালত অবমাননার অভিযোগ তুলেছে।’
বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে এটা স্ববিরোধী। সুপ্রিম কোর্টের বরিষ্ঠ আইনজীবী একবার বলছেন, যে আদালতের প্রতি বঙ্গবন্ধু কন্যার আস্থা নেই, সেই আদালতে তিনি হাসিনার হয়ে সওয়াল করবে না। আবার বলছেন, যে ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে অসম্মানজনক কথা বলায় তাঁর সহকর্মী ফজলুর রহমানকে ট্রাইব্যুনাল আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করেছে। তাঁর হয়ে তিনি এই আদালতে সওয়াল করবেন। প্রশ্ন হল, হাসিনার হয়ে আইসিটিতে সওয়াল না করার সিদ্ধান্ত কি তিনি স্বেচ্ছায় নিয়েছেন না কি, তাঁকে বাধ্য করা হয়েছে? বাধ্য যদি করা হয়ে থাকে, তাহলে কোন তরফে তাঁর ওপর চাপ তৈরি করা হল।
একটি বিষয় লক্ষ্য করলে দেখা যাবে জুলাই-অগাস্ট অভ্যুত্থানের পর থেকে এই জেড আই খান পান্না তাঁর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমাজমাধ্যম নানা ধরনের পোস্ট করতে শুরু করেন। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে হঠাৎ সুপ্রিম কোর্টের এই বরিষ্ঠ আইনজীবী গণমাধ্যমকে বলেন, হাসিনার হয়ে আইসিটি-তে সওয়াল করার সুযোগ পেলে তিনি অবশ্যই সওয়াল করবেন। সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আসল কারণ কিন্তু অন্য জায়গায়।
তাঁর বিরুদ্ধে একজন হাটে হাঁড়ি ভেঙেছেন। জামায়াতে ইসলামি ভেঙে তৈরি হওয়া এবি পার্টির শীর্ষ নেতা মুজিবুর মঞ্জুর সম্প্রতি একটি টক শোতে বলেন, গত বছর আইসিটি পুনর্গঠনের সময় এই জেড আই খান পান্না জানিয়েছিলেন, তিনি এই আদালতের চিফ প্রসিকিউটার হতে আগ্রহী। লজ্জায় মুখ বাঁচাতে তাই বাধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেড আই খান পান্না।
প্রকাশ্যে গুলি। একবার নয়, একাধিকবার। বলা হচ্ছে গুলি মাথার এফোঁড় ওফোঁড় করে বেরিয়ে গিয়েছে। যারা গুলি চালিয়েছে, তারা এসেছিল বাইকের...
Read more












Discussion about this post