গুম, খুন কাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। এরপর ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই ১৫ জন সেনা কর্তাকে বেসামরিক আদালতে পেশ না করার কারণে অনেকের ধারণা ইউনুস সরকার ও সেনাবাহিনীর সম্পর্কের মধ্যে যেকোনো সময় ঝড় উঠতে পারে। এই আভাস বুঝতে পেরে বিএনপি ঐক্যমত্ত কমিশনের বৈঠকে গিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ডক্টর মহম্মদ ইউনুসকে সাবধান করে বলেছে, প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাথে আপনার সম্পর্ক ভালো থাকুক তা বিনপি চায়। কারণ বিনপি বুঝতে পারছে লম্বা সময়ের জন্য একটা অশান্তি, অরাজকতা সৃষ্টি করতে না চাইলে একটা সশস্ত্র বাহিনীর সাথে এক পক্ষের সাথে আর এক পক্ষকে লড়াইয়ে লিপ্ত করে সরকার যেকোনো একটি পক্ষ নিলে কোনো সমাধানের আশা করা যায়না। বিএনপি দীর্ঘ সময় ধরে সেনাবাহিনীর অন্দর থেকে জন্মলাভ করে রাজনীতি করে এবং সেনাবাহিনীর কাছে তাদের নেতা জিয়াউর রহমানকে হারিয়ে এবং তাদের শীর্ষ নেতা তারেক রহমানকে চিরতরে একরকমের অসুস্থ এই সেনাবাহিনী দেওয়ার পরেও বিএনপি জানে এই বাহিনীকে ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে কোনো ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার প্রচেষ্টা ন্যায় বিচারের প্রচেষ্টা হতে পারেনা। বিএনপি জানে এই পরিস্থিতিটা। কারণ যখন এক এগারো সরকারের সময় তারেক রহমানকে সেনা হেফাজতে প্রায় একবছরেরও বেশি সময় রেখে দিনের বেশির ভাগ সময়ে উল্টো করে বেঁধে পেটানো হতো। এমনকি তার মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে দেয়া হয়েছিল। এই অবস্থায় তারেক রহমান আদালতে এসে আকুতি জানিয়ে একথা বলার পরেও তার মুক্তি মেলেনি।
এখন যারা সংস্কার পরিকল্পনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন যেমন আলী রেওয়াজ, বদিউর আলম মজুমদার সহ অন্যান্যরা এমনকি মহম্মদ ইউনুস সকলে সেনা হেফাজতে নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাকে এবং প্রধানমন্ত্রীর পুত্রকে বেধড়ক পেটানোকে সংস্কার পরিকল্পনার অংশ বলে মনে করছিলো। কাজেই বিএনপি জানে তার যে বিচার দরকার সেই অপরাধের বিচার কেউ করতে চাইছে না। এখন তারা যেসব অপরাধের বিচার করতে চাইছে তাতে দেশকে একটা দীর্ঘ সময় অরাজকতায় নিয়ে যাওয়ার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের স্বপ্ন আছে। আর সেই কারণে বিএনপি ইউনুসকে এই কথাটা মনে করিয়ে দিলো।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ বছর খানেক ধরে আলিরেয়াজের দরবারে ঐক্যমত্ত কমিশন ও সংস্কার কমিশনে গিয়ে বিভিন্ন আলোচনা শুনে আসছিলেন ও বিএনপির মতামত দিয়ে আসছিলেন। তিনি মনে করিয়েছেন অতি বিপ্লবী হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। তিনি বিএনপির তরফ থেকে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, তাদের আশা ছিল তরুণ নেতা আখতার হুসেন সহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে নিউ ইয়র্ক নিয়ে গিয়ে ইউনুস এইটাই বোঝাবেন যে অতি বিপ্লব কোনও ভালো ফল বয়ে আনবে না। বাংলাদেশের পক্ষে এইসময়ে এই উদ্যোগে সামিল হওয়া সম্ভব নয়। সেনাবাহিনীর ভিতরে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি করা বাংলাদেশের জন্য কিছুতেই মঙ্গল হবেনা। তিনি আরও বলেন, ইউনুস যখন জুলাই সনদ নাট্য মঞ্চে ঐক্যমত্ত কমিশনের সভায় এসে বসলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সরকারের মধ্যে এরকম দমবন্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এসে রাজনৈতিক দলগুলিকে ঐক্যমত্তে আনবার প্রচেষ্টা হিসেবে। বাংলাদেশের সকল অর্গানে ব্যালান্স যাতে থাকে সেইটা চেষ্টা করতে হবে ইউনুস সাহেবকে। আমরা চাইনা প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে কোনোরকম ভারসাম্যতা নষ্ট হোক।












Discussion about this post