ভাবা যায়?
ভাবা না গেলেও ভাবতে হচ্ছে। ভাবিয়ে তুলছে। বলা ভাল, পরিস্থিতি ভাবিয়ে তুলতে বাধ্য করছে। একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র কীভাবে শত্রুতা করতে পারে, তার কত নিদর্শন যে আগমীদিনে দেখতে হবে, তা সত্যিই বলা যাচ্ছে না। প্রতিবেশী দেশের মাটি হয়ে উঠেছে জঙ্গিদের বিচরণ ভূমি। সেখানে বসে তৈরি হয়েছে নাশকতার নীল নকশা। তার জন্য প্রাণ দিতে হয়েছে। প্রতিবেশী দেশের এক তরুণ নেতা হুমকি দিয়েছে সেভেন সিস্টার্স কেড়ে নেওয়ার। হুমকি দিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরে আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়ার, যাতে তারা এদেশের বুকে নাশকতা চালাতে পারে। সে দেশের সরকার প্রধান নিজেই তো সেভেন সিস্টার্স নিয়ে কার্যত হুমকি দিয়ে বসেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে হাত ধরে পথ চলা এখন জলভাত হয়ে গিয়েছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশের বিদেশনীতি হয়ে গিয়েছে কিছুটা এরকম না তারা ভালো থাকবে, না আমাদের ভালো থাকতে হবে। নতুন যে বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে, সেটা ভয়ঙ্কর বললে কম বলা হবে।
শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশে নিয়মিত বসছে আইএসআই আর জামাতের নিয়মিত বৈঠক। তেমন একটি বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তৈরি করা হবে সশস্ত্রবাহিনী। তাদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেওয়া হবে সামরিক প্রশিক্ষণ। এই নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের একটি গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, সেই বাহিনীতে থাকবে হুজি (হরকত-উল-জিহাদি-ইসলামি) এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিম। এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জসিমুদ্দিন রহমানিকে। হাসিনার আমলে এর ঠিকানা ছিল জেল। ইউনূসের বদান্যতায় ইনি জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে স্বমূর্তি ধারণ করেছেন।
চাঞ্চল্যকর খবর আরও রয়েছে। ১৯৭১-য়ের যুদ্ধের সময় জামাত-ই-ইসলামির আমির গোলাম আজম পালিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর ছেলে ব্রিগেডিয়ার (অব) আবদুল্লাহিল আমান আজমি সম্প্রতি বনানিতে পাকিস্তানের উপ হাইকমিশনার মহম্মদ আসিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। সূ্ত্রের খবর, তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পদের দাবি করেছেন। ভারতের এই গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, আবদুল্লাহিল আমান নিয়মিত উত্তরপাড়ার কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। এমনকী বাহিনী থেকে যাঁরা অবসর নিয়েছেন, তাদের সঙ্গে তাঁর টেলিফোনে নিয়মিত কথাবার্তা হয়। ঢাকায় পাক দূতাবাসের কর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রেখে চলেছেন। প্রশ্ন এখন একটাই এটা কি বাংলাদেশ-পাকিস্তান-আইএসআই-জামাতের নতুন কৌশল? না কি বাংলাদেশের ভিতরে আরও একটি বাংলাদেশ তৈরির ছক?
ঢাকার অন্যতম একটি অভিজাত এলাকা হল বনানী। আর সেই বনানী ডিউসেসে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে জামাত আইএসআই-য়ের। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে একটি সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা হবে। বাহিনীর সদস্য সংখ্যা আট হাজারের বেশি। বাহিনীর নামও ঠিক হয়ে গিয়েছে। বাহিনীর নাম হবে ন্যাশনাল আর্মড রিজার্ভ। এদের অধিকাংশই জামাতের ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্র শিবির। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তাদের দেওয়া হবে অস্ত্র প্রশিক্ষণ। মাঠে নেমে কীভাবে কাজ করতে হয়, সেই প্রশিক্ষণও তাদের দেওয়া হবে। আর এই পরিকল্পনা চলছে সম্পূর্ণ গোপনে। বলা হচ্ছে, এতটাই গোপন যে ইউনূস সরকার ঘুণাক্ষরে টের পাচ্ছে না। জাতীয় সশস্ত্র রিজার্ভ আসলে কী? এটা আসলে রাষ্ট্র বহির্ভূত সামরিক কাঠামো। বাহিনীর বাইরে আনুগত্যবাহিনী। জামাত কেন এমন পথে হাঁটতে চাইবে?
জামাতে ইসলামি বহুবছর রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে। নানা ইস্যুতে দলটি কোণঠাসা ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সব থেকে সুবিধেজনক জায়গায় আছে তারা। বিশ্লেষকেরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করছে জামাত। আর এই জামায়াত সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে। তারা তাদের মতো করে একটি প্রশিক্ষিত বাহিনী গড়ে তুলতে চাইছে, যাতে এই রিজার্ভ চাপ তৈরির কৌশল হতে পারে। আবদুল্লাহিল আমান আজমি তিনি না কি সেনা বাহিনীতে সমান্তরাল নেতৃত্ব গড়ে তুলেছেন। গত ২৩ ডিসেম্বর দুপুর ২টোর সময় ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার মহম্মদ ওয়াশিফের সঙ্গে বনানীতে বৈঠক করেন। আসলে ৭১-য়ের মুক্তিযুদ্ধে হার এখনও ভুলতে পারেনি পাকিস্তান। তাই, তারা বাংলাদেশে তারা নিজেদের প্রভাব তৈরির চেষ্টা করে চলেছে। আর তাঁর অঙ্গ হিসেব আইএসআই জামাতের সঙ্গে মাখামাখি শুরু করেছে।












Discussion about this post