বাংলাদেশ, নেপালের পর কি এ বার ফ্রান্সের পালা? ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর প্রশাসনিক কার্যকলাপের বিরোধিতায় বিক্ষুব্ধ জনতা নেমে পড়ল রাস্তায়। বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে প্রেম ও ভালোবাসার শহর প্যারিস। প্রবল গণবিক্ষোভের আগুনে পুড়ছে ‘নেপোলিয়নের দেশ’। এমনকি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয়েছে ফরাসি পুলিশকে। আন্দোলনের নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র? না কি প্রাচুর্ষের আড়ালে কোষাগারের দেউলিয়া দশা দায়ি, এই নিয়ে চলছে চর্চা। চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ‘ব্লক এভরিথিং’-এর ব্যানারে গোটা ফ্রান্স জুড়েই শুরু হয় এক গণআন্দোলন। বহু রাস্তা অবরোধ করে, ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। পথে নেমে বিক্ষোভ দেখানো হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় জনতা। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের উপর হামলার মতো ঘটনা ঘটতে থাকে। অবস্থা বেগতিক বুঝে এর পরই ইস্তফা দেন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বেরু। কিন্তু কেন বারবার ফ্রান্সে প্রধানমন্ত্রী বদল হচ্ছে? বিগত ২ বছরে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী দেখেছে ফ্রান্স। আসলে মধ্যপন্থী নেতা ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ধ্বনিভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেও দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট ফরাসি পার্লামেন্টে কোনও দলই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে তাঁর আমলে মোট সাত জনকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েও একজনও টেকেনি বেশিদিন। ফলে এভাবে ঘন ঘন প্রধানমন্ত্রী বদল হওয়ার জেরে কেন্দ্রীয় বাজেট পাশ করতে সমস্যার মুখে পড়েছে ফ্রান্স। এর জেরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে বিদেশি ঋণের পরিমান। পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে ফরাসি সরকারের ঘাড়ে ঋণের পরিমান ৩ লক্ষ ৩৪ হাজার ৫০০ কোটি ইউরোয় পৌঁছেছে। যা ফ্রান্সের ‘মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন’ বা জিডিপির ১১৪ শতাংশ। আর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, ফ্রান্সের আর্থিক অবস্থা এতটাই বেহাল যে এই মুহূর্তে নেপোলিয়ানের দেশে জন্মানো একটি শিশুর মাথায় ৫০ হাজার কোটি ইউরোর ঋণ। এই বিস্ফোরক তথ্য দিচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডার’ বা আইএমএফ।
ফ্রান্সের অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, এর সঙ্গে হু হু করে বাড়ছে বাজেট ঘাটতি। গ্রীস ও ইতালির পর ফ্রান্সও দেউলিয়া হওয়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। একসময় আফ্রিকা ও এশিয়ার একের পর এক দেশ দখল করে বিশাল ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল ফ্রান্স। প্রায় ২০০ বছর তাঁরা সেই সমস্ত দেশ থেকে ধনসম্পদ লুট করে নিজের দেশে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন সেটা হচ্ছে না। আঁচড় লেগেছে বৈভবে। গোদের ওপর বিষ ফোঁড়া হিসেবে ২০২০ সালের কোভিড মহামারী ফ্রান্সকে আরও বেহাল করে দেয়। ফলে সেই ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ঠাট বজায় রাখা ফ্রান্স তাই এখন দেউলিয়া হওয়ার পথে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যয় সঙ্কোচনের সিদ্ধান্ত নেয় মাকরঁ সরকার। সেই আভাস মিলতেই রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে সামিল হতে শুরু করে ফ্রান্সের সাধারণ মানুষ। গত ৯ মে বেরু পদত্যাগ করলে দীর্ঘ দিনের সহযোগী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। মজার ব্যাপার হল, বেহাল অর্থনীতিকে ঠিক রাস্তায় নিয়ে আসতে তিনিও ব্যয় সঙ্কোচনের কথা বলেছেন। ফলে ফরাসী বিপ্লব যে এত সহজে থামবে না, সেটা বলাই বাহুল্য।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post