শেখ হাসিনা তাঁর দুই পুত্র জয় এবং পুতুলকে জাতীয় রাজনীতিতে আনুন বা না আনুন, তদারকি সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস কিন্তু তাদের জাতীয় রাজনীতিতে নিয়ে এসেছেন। তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করে বাংলাদেশের রাজনীতির মধ্যমণি করে তুলেছেন। গণমাধ্যম বলছে, বঙ্গবন্ধু কন্যার দুই পুত্রে রাজনীতিতে আসার খবর নতুন নয়। নতুন খবর হল, তাদের এই আগমনের খবর পেয়ে ইউনূস এবং তাঁর সরকারের যারা রয়েছেন, তাদের ঘুম ছুটেছে।
গত এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের রাজনীতি এমন একটা জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে, যা সাম্প্রতিক অতীতে দেখা যায়নি। গত জুলাই-অগাস্টে বিদেশি শক্তির মদত একদল সন্ত্রাসী জনগণের ভোটে জিতে আসা একটি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তারপর থেকে দেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপট বদলে যেতে শুরু করে। হাসিনা দেশ ছেড়ে দিল্লি চলে যান। প্রায় এক বছর হয়ে গেল তিনি সেখানেই রয়েছেন। যদিও এখন শোনা যাচ্ছে, খুব তাড়াতাড়ি বাংলাদেশে ফিরবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। দিল্লি থাকাকালীন অনলাইনে তিনি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। দিচ্ছেন তাদের পরামর্শ। কিন্তু দেশের ভিতর দলটিকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের চার লক্ষের বেশি নেতাকর্মী দেশের বিভিন্ন জেলে আটক রয়েছেন। অনেকে পালিয়ে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। বাকিরা আত্মগোপন করে রয়েছেন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে সজিব আহমেদ ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির মধ্যমণি করে তুলেছেন। এই নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুষায়ী, শেখ হাসিনা তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে আনার পরিকল্পনা করেছেন। পাশাপাশি এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকির। আওয়ামী লীগ এ ক্ষেত্রে ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের নীতি অনুসরণ করছে।
মাস দুয়েক আগে দিল্লিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিজিওনাল ডিরেক্টর পদে ছিলেন সায়মা ওয়াজেদ। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃপক্ষ তাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠিয়ে দেয়। তার পর থেকে শেখ হাসিনার কন্যা এখন পুরোদস্তুর রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন। অন্যদিকে, ছেলে সজীব ওয়াজেদ এখন মার্কিন নাগরিক ও আমেরিকার স্থায়ী বাসিন্দা। তবে মায়ের পর দলের প্রধান মুখ ও মুখপাত্র হিসেব দায়িত্ব পালন করছেন। দেশ ও বিদেশের মিডিয়ায় দিচ্ছেন সাক্ষাৎকার।
মেয়ে সায়মা রয়েছেন মায়ের সঙ্গে। তাই, তিনি মাকে নানাভাবে সাহায্য করছেন। অনলাইনে দেওয়া মায়ের ভাষণের খসড়া তৈরি করা থেকে শুরু করে কর্মসূচির ক্যালেন্ডার তৈরি করে দেওয়া সব কিছুই এখন তার কাঁধে। বাইরে লোকেদের সবার সঙ্গে হাসিনা দেখা করতে পারছেন না। তাই, মায়ের হয়ে তাদের সঙ্গে দেখা করছেন সায়মা।
হাসিনার এই সাকসেশন প্ল্যান দলের অনেকেই অবগত। কিন্তু তারা এই নিয়ে কোনও বিবৃতি দিতে চাইছে না। তার একটাই কারণ বিষয়টি স্পর্শকাতর। তাছাড়া বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি মোটেই হাসিনা এবং অনুগামীদের পক্ষে নয়। তবে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও প্রাক্তন তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আরাফাত দাবি করেছেন, এই নিয়ে দলের মধ্যে কোনও আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, ‘দলের মধ্যে এই নিয়ে কোনও আলোচনা হচ্ছে না। কে কী পদবি পেলেন, সেটা নিয়ে ভাবার সময় এখনও আসেনি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য বাংলাদেশ পুনরুদ্ধার। ’












Discussion about this post