কিসসা কুর্সিকা,ডাকসুর নির্বাচনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক চিত্রটা ছিল একরকম। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতেই সব হিসেবে ঘেঁটে একেবারে ঘ । ফলাফল দেখে সাপও নাকি হাসছে। হাসবে নাই বা কেন? ইউনূসের রাজত্বে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ডাকসুতে তাদের আধিপত্য দেখাবে, সে ব্যাপারে সকলেই নিশ্চিত ছিল। সেটা যে উলটে যাবে, এটা কে অনুমান করেছিল। এক ছাত্রভোটেই যদি এই ফল হয়, তাহলে ফেব্রুয়ারির ভোটে কী হবে? বিএনপি যেভাবেই হোক ক্ষমতা দখল করবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ইউনূসও চাইবেন (চাইছেন) জিয়ার দল ক্ষমতা দখল করুক। আর তিনি মানে মানে কেটে পড়বেন। সুতরাং, একটা বাধার সম্মুখীন তাদের হতে হবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। অতএব রবীন্দ্রনাথের কথা ধার করে বলতে হয় – বাধা দিলে বাঁধবে লড়াই। প্রশ্ন হল বাঁধা কে দেবে?
আওয়ামী লীগের ছায়াসঙ্গীরা। এই ছায়াসঙ্গী কে বা কারা, তা এই মূহুর্তে বলা না গেলেও একজনের ব্যাপারে আগাম ঘোষণা করা যেতা পারে, তা হল আওয়ামী লীগের ছাত্রলীগ। তারা কোনওভাবই চাইবে না জিয়া ক্ষমতা দখল করুক। বাধা আসবে বাহিনীর তরফ থেকেও। বাহিনীর ই্চ্ছা ক্ষমতা দখল করুক এমন একটি দল, যারা তাদের হাতের পুতুল হয়ে থাকবে। হাসিনা বসলে সেটা কোনওভাবেই সম্ভব না। তাদের কাছে একটাই পথ – জিয়া।
ক্ষমতা দখলের বেশ কয়েক মাস পর্যন্ত ইউনূসের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সম্পর্ক বেশ মজবুত ছিল। ভোটের দিন যতই এগিয়ে আসছে, তদারকি সরকারের প্রধানের সঙ্গে তাঁর নানা বিষয়ে মত পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। প্রথম মতপার্থক্য ভোটের সময় নিয়ে। ইউনূস চাইছেন ফেব্রুয়ারিতে ভোট। আর বাহিনী চাইছে ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট করাতে। পারলে তাঁর আগে। মোদ্দা বিষয়, হাসিনা ফিরে আসার আগে ভোট হলে তাদের সব থেকে সুবিধে। তাঁর কারণ খুব সহজ। দেশের বাইরে থেকে একজন নেতার পক্ষে কোনওভাবেই দলকে চাঙ্গা করতে অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব নয়। দেশে থাকলে যেটা খুব সহজে হয়ে যাবে। তাই, হাসিনা ফিরলে তাঁর দলের নেতারা যে সাহস পাবেন, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাই, তারা কোনওরকম সভা-সমাবেশ করতে পারছে না। যদিও সরকারি নিষেধ উড়িয়ে মাঝে-মধ্যেই তারা ছোটখাটো সভা সমাবেশ করছে। পুলিশ সেই সভার খবর পেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে সভা ভেঙে দিচ্ছে। লীগের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করে তাদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের এই অতি সক্রিয়তায় দলের মধ্যে যে চাপা ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে, এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এমনকী পুলিশও নিশ্চিত, যে তাদের ভূমিকায় আওয়ামী লীগ অসন্তুষ্ট। অথচ, তাদের এটা করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনও রাস্তা নেই। তারা সরকারের নির্দেশ পালন করতে বাধ্য।
এদিকে জাতীয় পার্টি এদিন একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। দলের মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণ) হাসনাত আবদুল্লা বাহিনীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। হাসনাত বলছেন, ‘সেনাবাহিনী আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মতো গুরু দায়িত্ব পালন করে এসেছে। এই ক্ষেত্রে আমরা বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে চাই। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে তাদের হস্তক্ষেপ আমরা কোনওভাবেই মেনে নেব না। ক্ষমতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও না। ভোটের মধ্য দিয়ে আগামীদিনে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে। সেনা তাতে কোনও হস্তক্ষেপ করবে না, সেটা আশা রাখি। ’












Discussion about this post