বাংলাদেশে ইমারজেন্সি নাকি তত্বাবধায়ক সরকার নাকি হাসিনার নির্বাসিত সরকার, এটা ঘিরেই বাংলাদেশে জোর আলোচনা চলছে। মহম্মদ ইউনূসের পতন ঘটবে, এটা প্রায় নিশ্চিত। অন্যদিকে করিডোর, বন্দর ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউনূসের মাথার উপর থেকে হাত সরিয়ে নিচ্ছে। কারণ ট্রাম্প বুঝে গিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে কিছু পাওয়ার নেই। এমনকি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর কাছে সিগন্যাল পাঠাচ্ছে আমেরিকা। যে কোনও মুহূর্তে শেখ হাসিনাও দেশে ফিরতে পারেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে অনেকে বলছে, রাষ্ট্রপতি ক্ষমতা হাতে নিয়ে নিতে পারে। কিন্তু এটা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। জানা যাচ্ছে, ভারতের যে কোনও রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে। কিন্তু কেন্দ্রে নয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তাই। অনেকে আবার বলছেন, ইমারজেন্সি ঘোষণা করে দেশ চালনা। বাংলাদেশের সংবিধানের ৯ এর এ ধারায় রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে দেশে জরুরি বা ইমারজেন্সি অবস্থার ঘোষণা। যদি দেশে বহি শত্রুর আক্রমণ বা কোনও গোলযোগের বিষয়ে দেশের সুরক্ষা, নাগরিকদের স্বাধীনতা , অর্থনীতি এগোলো ক্ষুন্ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা জারি করতে পারে। তবে রাষ্ট্রপতি তখনই এই জরুরি অবস্থা জারি করতে পারবেন যখন প্রধানমন্ত্রী সুপারিশ করবে। প্রধানমন্ত্রী সুপারিশ নিতে হবে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে গেলে। তারপর পার্লামেন্ট বসলে পার্লামেন্ট থেকে নিশ্চিত করে নিতে পারে। তবে বাংলাদেশে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়েছে। চাইলে ফিরিয়ে দেওয়া যায়। যারা এই মুহূর্তে রয়েছেন, তাদের দিয়েই করা যেতে পারে। এটাই হল সাংবিধানিকভাবে ইউনূসকে সরিয়ে দেওয়ার একটি পদ্ধতি।
অন্যদিকে অনেকে বলছেন, সংবিধান তো মানা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নেই। রাষ্ট্রপতিকে কে সুপারিশ করবে জরুরি অবস্থা জারির জন্য? সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে পদত্যাগ করেননি, সেটি তিনি স্বীকার করেছেন। এমনকি রাষ্ট্রপতিও স্বীকার করেছেন। ফলে এখনও দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফলে তাকে ফিরিয়ে এনে জরুরি অবস্থা জারি করা যায়। তবে এই প্রস্তাবে ঝড় তুলবে জামাত, বিএনপি সহ এনসিপি। তারা বিরোধিতা করবে। তবে সেটি যদি না ঘটে, তবে গত বছরের মত সুপ্রিম কোর্টের সাহায্য নিয়ে একটি সরকার গঠন করতে পারবে রাষ্ট্রপতি। ফলে ক্ষমতা হাতে নিতে বিএনপি, জামাত এই রাজনৈতিক দলগুলি প্রবলভাবে নিজেদের মধ্যে লড়াই শুরু করে দেবে। অনেকে বলছে, এই করেই দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। তবে শেখ হাসিনা যে ফিরতে পারেন দেশে, সেটা তার অডিও বার্তাতে তিনি বারবার বলছেন।
অডিও
অনেকে বলছেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন না হলে বিএনপি সহ আরও বেশ কিছু রাজনৈতিক দল মহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে আন্দোলন তৈরি করবে। এবং গোটা দেশ জুড়ে ফের বিশৃংখল শুরু হবে। এবং সেই সময় শেখ হাসিনাও নিজের ক্ষমতা লড়াইয়ের জন্য লড়াই করবেন। তবে সবই সম্ভাবনার খেলা। আদতে কি ঘটতে চলেছে, এখন সেটাই দেখার।












Discussion about this post