বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে খুন হয়ে যেতে হয় ওসমান হাদিকে। তিনি ঢাকা ৮ আসনের প্রার্থী ছিলেন হত্যাকাণ্ডে তেতে ওঠে বাংলাদেশে। কার্যত ক্ষোভের আগুনে জ্বলতে শুরু করে গোটা দেশ। হাদির খুনির গ্রেফতারের দাবি ওঠে। তদারকি সরকার বেশ চাপে পড়ে যায়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী ছিল ওসমান হাদি। তার অন্যতম পরিচয় একজন ভারত-বিদ্বেষী নেতা। বাংলাদেশের পুলিশে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অনেককেই গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও হত্যাকাণ্ডের মাথা ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। অবশেষে পুলিশ জালে মূল মাথা ফয়জল করিম মাসুদ। তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থেকে গ্রেফতার করা হয়। একটি পক্ষের দাবি ছিল, ফয়জল বাংলাদেশে রয়েছে। অপর একটি পক্ষের দাবি ছিল সে রয়েছে ভারতে। বলা ভালো দাবি করা হয়েছিল ভারত তাঁকে আশ্রয় দিয়েছে। সাউথব্লক সুষ্পষ্টভাবে জানিয় দেয়, হাদির মতো একজন জঘন্য অপরাধী, যে শুধু ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে গিয়েছে, তাকে আশ্রয় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ফয়জালের শেষ অবস্থান ছিল দুবাই। দুবাই থেকে এক ভিডিও বার্তায় ফয়জল জানিয়ে দেয় সে সেখানে রয়েছে। ফলে, হাদিকে নিয়ে তৈরি হয় এক ধোঁয়াশা।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিশিষ্ট ব্যক্তি এই হাদি। ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগর এলাকার বক্স কালভার্ট রোডে তাঁর মাথা লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। চিকিৎসার জন্য তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। ২০ ডিসেম্বর তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়। হাদিকে হত্যার পর মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ঢোকে দুই অভিযুক্ত ফয়জল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগীর হোসেন। হাদিকে হত্যার পর তারা দুই অভিযুক্ত মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢোকে। এরপর তারা বিভিন্ন জায়গায় গা ঢাকা দেয়। বনগাঁ সীমনান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশ চলে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। নির্ভরযোগ্য সূত্রে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের কাছে খবর আসে হাদি এবং তাঁর এক সহযোগী রয়েছে বনগাঁ সীমান্তে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। গ্রেফতার করে ফয়জল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে। এসটিএফের জেরায় ধৃতরা জানিয়েছে হাদিকে খুন করে অবৈধভাবে মেঘালয় সীমান্তে প্রবেশ করে। পরে তারা চলে যায় বনগাঁও। পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার। তার আগেই তাদের গ্রেফতার করা হল। এসটিএফ ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে। আদালতে পেশ করে পুলিশ তাদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে।কলকাতায় বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনের তরফে বলা হয়েছে, এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগযোগ করেছে। শুধু তাই নয়, ধৃতদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য কনস্যুলার অ্যাকেসেস চেয়ে নয়াদিল্লিকে অনুরোধ করা হয়েছে।
হাদি হত্যা মূল মাথা পশ্চিবঙ্গ থেকে গ্রেফতার হওয়ায় সেই পুরনো প্রশ্নগুলি আরও একবার উঠতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। ঘটনার পর পরে বাংলাদেশের তরফে দাবি করা হয়েছিল অভিযুক্তরা ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। তাদের গ্রেফতার করে অবিলম্বে যেন বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ওই সময়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার আবহে দিল্লির তরফে বলা হয়, হাদির হত্যাকারীদের ভারতে প্রবেশের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপি বারে বারে দাবি করে এসেছ, বাংলাদেশ থেকে এ রাজ্য ক্রমাগত অনুপ্রবেশ চলেছে। ভারত-বিরোধী জঙ্গিরা পশ্চিমঙ্গকে তাদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিয়েছে।












Discussion about this post