কোথায় রয়েছেন শেখ হাসিনা? ভারতে থাকলেও কোথায় অবস্থান তার? কোথায় বসে অডিও বার্তা দেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী? ভারত সরকার এমন কোন গোপন জায়গাতে রেখেছে, যেখানে এক বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও এখনও সামনে এল না? এমন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে আওয়ামী লীগ বিরোধী এবং দেশের সাধারন জনগনের মনে। বাংলাদেশের বহু পর্যবেক্ষক বলছেন, পদ্মাপাড়ের কাছাকাছিতে হাসিনার অবস্থান। তবে কি যে কোনও মুহূর্তে দেশে প্রবেশ করবেন তিনি?
গত বছর জুলাইয়ে হাসিনা বিরোধী আন্দোলন তৈরি হয়। দিনে দিনে বাড়তে থাকে আন্দোলনের ঝাঁঝ। কোটা বিরোধী আন্দোলন থেকে হাসিনা হটাও আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়। শেষমেষ ৫ই অগাষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় দেশ ছাড়েন হাসিনা। দেশ ছেড়ে আশ্রয় নেন ভারতে। নয়া দিল্লির কোনও এক গোপন জায়গায় লুকিয়ে রেখেছে ভারত সরকার। এমনটাই সূত্র মারফত খবর। সমস্ত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় নিরাপদে রয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু ঠিক কোন জায়গায় রয়েছেন সেটা নিয়ে কৌতুহল রয়েছে বাংলাদেশের বহু মানুষের।
এদিকে অনেক কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিল্লি ছাড়াও বেশ কিছু জায়গার সম্ভাবনার কথা উঠে আসছে। যেখানে শেখ হাসিনাকে সুরক্ষায় রেখেছে ভারত সরকার। যেমন উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, নয়া দিল্লি তো রয়েছেই। এবং উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের নামও। কারণ একাধিক সূত্র মারফত খবর, কলকাতার নিউ টাউন এলাকার ফ্ল্যাটে পলাতক আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা অবস্থান করছেন। সেখানেই শেখ হাসিনা থাকতে পারেন বলে অনুমান করছেন বাংলাদেশেরই বহু মানুষ। তবে যেখানেই তিনি থাকুক না কেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন তিনি।
এদিকে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ঢাকার তরফে নয়া দিল্লির কাছে একাধিক চিঠি গেছে বলে খবর। যদিও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যপণ নিয়ে মুখ খোলেনি নয়া দিল্লি। রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সরকারের তরফে এই বিষয়ে দিল্লি কে কি জানিয়েছে, সেটা এখনো ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর জন্য অনুমতি আসেনি। এর পাশাপাশি, ভারত কোন জবাব দেয়নি।
অন্যদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের বৈঠক হয় বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে। সেখানে খবর, ইউনূস মোদীকে অনুরোধ জানান, যাতে শেখ হাসিনা অডিও বার্তা না দেন। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, তার বার্তা দেওয়া না দেওয়া তার স্বাধীনতা। এটা সোশ্যাল মিডিয়া। যেটাকে কন্ট্রোল করতে পারি না আমরা। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে, ঠিক একইভাবে স্বাধীনতা দিয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে বিদ্বেষ বাড়িয়েছে। মিত্রতা বাড়িয়েছে পাকিস্তানির সঙ্গে। আর এতেই ক্ষুব্ধ ভারত সরকার।
অন্যদিকে খবর, আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা প্রস্তুতি নিচ্ছে, ফের কিভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করা যায়। যদিও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলার বিচার চলছে। ফলে তিনি দেশে ফিরলেই গ্রেপ্তার হতে পারেন বলে সূত্রের খবর। ফলে যদি ফিরতেই হয় সু কৌশলেই ফিরতে হবে হাসিনাকে। তার জন্য অবশ্য ভারত সব দিক থেকে সাহায্য করবে।












Discussion about this post