বাংলাদেশে এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দাবি করছে। এদিকে আওয়ামীলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। যদি নির্বাচন ঘনিয়ে আসে, তবে শেখ হাসিনার দল কি করবে? এমন স্বাভাবিক প্রশ্নই উঠছে। এদিকে জানা যাচ্ছে, মহম্মদ ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ দলটি। তিনটি ধাপে আওয়ামী লীগ দেশে ও দেশের বাইরে মহ করবে। এমনকি এই লক্ষ্যে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে বসেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ৭ই আগস্ট নাকি দলের ছয় নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এর আগে ৩১ জুলাই প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনা দলের ছয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। একাধিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের একাধিক জেলার তৃণমূল নেতাদের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব বাছাই করে আন্দোলন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের তৎপরতা বাড়তে পারে এমন খবর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরকারকে দিয়ে রেখেছে। অর্থাৎ সক্রিয় হতে শেখ হাসিনা কর্মীদের মাঠে নামিয়েছেন। এদিকে খবর পেয়ে ইউনূসও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
এদিকে জানা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের প্রায় ১৬০০ নেতা, কর্মীকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে ৫ ই আগস্ট যাতে দলটি বড় কোনও কর্মসূচি নিতে না পারে, সেই কারণে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।
এক বছর হয়ে গিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটেছে। এখনও পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহ সরকারের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, আমলারা দেশের বাইরে রয়েছেন। এমনকি দেশে থাকা বহু নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করেছে সরকার। পাশাপাশি মবের মাধ্যমে বহু পরিবারের বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আওয়ামীলীগ দলের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে মানুষ এটা করেছে। এদিকে জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য মামলা দায়ের করা হয়েছে শেখ হাসিনা সহ বেশ কিছু জনের বিরুদ্ধে। তাদের বিচার প্রক্রিয়া চলছে। এরমধ্যেই আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এদিকে সোশ্যাল মিডিয়াতে সক্রিয় হয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে মাঠে ময়দানে খুব একটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এদিকে নির্বাচনের প্রসঙ্গ উঠে আসছে। যেখানে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে থেমে থাকবে না আওয়ামী লীগ। মহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবে বলে ঠিক করেছে আওয়ামী লীগ। মূলত দিনটি ধাপে তারা আন্দোলন করবে বলে খবর। প্রথম ধাপে, দলের সমস্ত নেতা, কর্মীদের মনবল চাঙ্গা করতে গতবছরের শেখ হাসিনার পতনের বিষয়টি পুরোপুরি একটি সাজানো ঘটনা এবং বহিবিশ্বের চাপের কারণেই এই পতন। এই কারণেই শেখ হাসিনা দলের বেশ কিছু নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। জানা যাচ্ছে, দ্বিতীয় ধাপে, দলীয় নেতা কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে খুব শীঘ্রই শেখ হাসিনা ভিডিও বার্তা দেবেন বলে খবর। তৃতীয় ধাপ অনুযায়ী, যে সমস্ত দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলে বলা হচ্ছে, তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামীলীগ মাঠে নামবে। যাতে তাদের ছাড়া নির্বাচন সম্পন্ন না হয়।
অন্যদিকে সরকারের সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামীলীগের তৎপরতা ঠেকানোর জন্য সরকার অত্যন্ত সক্রিয়। একটি সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি হয়েছিলেন বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, কেন আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, যদি আওয়ামী লীগ মাঠে ময়দানে থাকে, তবে দেশে কখনোই নির্বাচন সম্ভব নয়। এমনকি গোপালগঞ্জের ঘটনার পর মনে করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের শক্তি ক্ষয় হয়নি। তারা এখনো বেশ সক্রিয় রয়েছে। ফলে সবমিলিয়ে চাপে রয়েছে সরকার।












Discussion about this post