অপেক্ষার অবসান। ভারতের মাটি থেকে বাংলাদেশের তদারকি সরকারকে কড়া বার্তা দিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেষ হাসিনা। তিনি একটি অডিও বার্তা দিয়েছেন। যেখানে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে এখন যে সরকারটি রয়েছে, তার প্রতি জনগণের কোনও সমর্থন নেই। জনগণের ভোটে সরকার ক্ষমতায় আসীন হয়নি। তাই, সেই সরকারের জণগনের প্রতি কোনও দায়বদ্ধতা থাকে না। জনগণের কাছে সেই সরকারকে কোনও জবাব দিহি করতে হয় না। অডিও প্রায় ১২ মিনিটের বেশি, যা ইউনূসের মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছে। দেশবাসীর জন্য হাসিনার বার্তা, – স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সময় হয়ে গিয়েছে। সবাই প্রস্তুত থাকেন।
হাসিনার বিরুদ্ধে ইউনূস এবং তাঁর সরকার একাধিক অর্থ তছরূপের অভিযোগ এনেছেন। এবার হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে পালটা অর্থ তছরূপের অভিযোগ তুললেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা লোক ছয় হাজার টাকা বেতনে একটা গ্রামীন ব্যাংকে ১৯৯০ সালে এমডির চাকরি শুরু করে। আজকে সে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার কোথায় পেল? আবার নিজে চোর বলে সবাইকে চোরই দেখে। নিজে মানি লন্ডারিং করে বলে সবাইকে মানি লন্ডারিং দেখে। আমার বিরুদ্ধে রটাচ্ছে আমি নাকি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মানি লন্ডারিং করে গিয়েছি। আমি যদি মানি লন্ডারিং করতাম, তাহলে বাংলাদেশে এত উন্নতি হত কী করে। ’
ইউনূসের লক্ষ্য কী, সেটাও এই অডিও বার্তায় কাটা কাটা ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছেন হাসিনা। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘ইউনূসের মেটিকুলাস ডিজাইন হচ্ছে ইউনিয়ন, পঞ্চায়েত পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করা। আমাদের নেতাদের নাম জোগাড় করে তাদের বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়েছি। খুন করেছে। এমনকী সংবাদমাধ্যমের টুঁটি টিপে ধরেছেন। কেউ তার সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারবে না। অথবা জেলে যেতে হবে। অন্তত ১০ জন সাংবাদিককে খুন করা হয়েছে। ’ বিচারমাধ্যমের ওপর কীভাবে তদারকি সরকার প্রভাব খাটিয়েছে, এই অডিও বার্তায় সেটাও জানিয়ে দিয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আমাদের কোনও আইনজীবী কিন্তু কোর্টে দাঁড়াতে পারে না। আমাদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। সেখানে সাক্ষী নেওয়া হচ্ছে। সব নেওয়া হচ্ছে। সেটা কী। ওই বিএনপি জামাতের বাহিনী। এরাই হচ্ছে চেয়ারম্যান, এরাই হচ্ছে জজ, এরাই হচ্ছে চিফ প্রসিকিউটার। আমার পক্ষে যে আইনজীবী দেওয়া হয়েছে, সেটাও ওদের লোক। ’
ইউনূস সরকারের উদ্দেশ্যে হাসিনার চ্যালেঞ্জ – আজ পর্যন্ত তো দেখাতে পারল না কোথায় টাকা রেখেছি? বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার নাকি পাচার করেছি। আমার সরকার জনগণের জন্য কাজ করেছে।
যত সময় এগোচ্ছে, ততই সক্রিয়তা বাড়াচ্ছেন বাংলাদেশের বিতাড়িত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর শেষ অডিও বার্তায় তিনি বুঝিয়ে দিলেন, এক ইঞ্চিও জমি ছাড়বেন না অন্তর্বর্তী সরকারকে। সেই সঙ্গে তিনি ঝামা ঘষে দিলেন মুহাম্মদ ইউনূসের মুখে।












Discussion about this post