ঘুরে ফিরে সেই ভারত। মানে, দেশটাকে কোনও না কোনওভাবে অস্থির করে তুলতেই হবে। না হলে ডিপ স্টেটের ভাত হজম হচ্ছে না। প্রথম টার্গেট করেছিল বাংলাদেশকে। দারুণ ফল পেয়েছে। দ্বিতীয় টার্গেট ছিল নেপালে। সেখানেও সফল। কিন্তু ভারতকে কোনওভাবেই কবজা করতে পারছে না। নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দিল্লির রাতের ঘুম কেড়ে নিতে।
বাংলাদেশে আমেরিকা একটি বিমান পাঠিয়েছে। এ থ্রি ওয়ান থ্রি নট জে সুপার হারকিউলিস। এইরকম আরও তিনটি বিমান বাংলাদেশের সঙ্গে সেনামহড়ায় অংশ নিয়েছে। মহড়ায় অংশ নিয়েছেন দুই দেশের মোট ২৪২ জন সেনাকর্তা। এর মধ্যে মার্কিন সেনাকর্তার সংখ্যা ৯২। বাকিরা সকলেই বাংলাদেশের। চট্টগ্রাম এয়ারবেস পরিদর্শন করেছেন সে দেশে নিযুক্ত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন। তার সঙ্গে ছিলেন ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস, ইউ এস প্যাসেফিক এয়ারফোর্স, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পদস্থকর্তারা। সরকারি ভাষ্যে বলা হয়েছে, মহড়ার উদ্দেশ্য উন্নত প্রশিক্ষণ, উন্নত মানের পরিকল্পনা, অবকাঠামোখাতে যৌথ সহায়তা।
যৌথ সেনা মহড়া নতুন কিছু বিষয় নয়। নতুন বিষয়টি হল আমেরিকার হঠাৎ এমন কী প্রয়োজন হয়ে পড়লে যে তারা আর বাংলাদেশের সঙ্গে মহড়ার অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। যে বাংলাদেশ রাজনৈতিকভাবে অস্থির, আর্থিক দিক থেকে কার্যত দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে, সে দেশের সঙ্গে সেনামহড়ার সিদ্ধান্ত কেন। বাংলাদেশ বা কোথা থেকে সেনা মহড়ার খরচ জোগাড় করছে। যে দেশের এখন নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যায়, সেই দেশ কেন আমেরিকার সঙ্গে সেনামহড়ার সিদ্ধান্ত নিল। মহড়ার জায়গাটিও কিন্তু নজর করার মতো। মহড়া হচ্ছে চট্টগ্রামের কাছে। যে ভারত ও মায়ানমার সীমান্তের খুব কাছেই। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব চিন্তাভাবনা করেই কিন্তু আমেরিকা বাংলাদেশের সঙ্গে মহড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর জায়গাটাও বাছাই করার পিছনে কৌশল কাজ করেছে। চট্টগ্রামে মহড়া হলে ভারতকে অনেকটাই মানসিক দিক থেকে চাপে রাখা যাবে। বাংলাদেশকে তারা সেনা ছাউনি হিসেবে ব্যবহার করলে প্রয়োজনে ভারতের ওপর পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করবে। এটা কোনওভাবেই ভুলে গেলে চলবে না যে হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার কারিগর কিন্তু আমেরিকা। যদিও আমেরিকা সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। জানিয়ে দেয়, কোনও একটি স্বাধীন দেশের বিষয়ে তারা নাক গলাতে চায় না। আমেরিকা মুখে যাই বলুক না কেন, বাংলাদেশের ওপর তারা যে অসন্তুষ্ট, সেটা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। হাসিনা যখন প্রধানমন্ত্রী সেই সময় হোয়াইট হাউস ঢাকার কাছে সেন্ট মার্টিন আইল্যান্ড তাদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব (প্রস্তাব না বলে দাবি বলাই বাঞ্ছনীয়) দেয়। হাসিনা পত্রপাঠ প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। আমেরিকার স্বভাব সকলের জানা। সে দেশের কোনও প্রস্তাব কেউ ফিরিয়ে দিলে আমেরিকা তাকে ছেড়ে কথা বলে না। তারপর ঢাকার একটি হোটেল থেকে এক মার্কিন সেনার দেহ উদ্ধারের বিষয়টি ধরা যাক। এই ধরনের মৃত্যুর ক্ষেত্রে ময়নাতদন্ত হওয়াই বাঞ্ছনীয়। কিন্তু মার্কিন ওই সেনার দেহ ময়নাতদন্ত না করেই আমেরিকার হাতে বাংলাদেশকে তুলে দিতে হয়। আমেরিকা তাদের যুদ্ধবিমানে ওই মৃত মার্কিন সেনার দেহ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে।
আর চট্টগ্রামে সেনামহড়ার আরও বড় কারণ, দক্ষিণ এশিয়ায় চিনের দাপাদাপি আমেরিকার সহ্য হচ্ছে না। তাই, তাদেরও মানসিক দিক থেকে চাপে রাখতে আমেরিকা বাংলাদেশের সঙ্গে সেনামহড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post