শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে মহম্মদ ইউনূস শপথ গ্রহণের পর তিনি বিভিন্ন সময় বলেছিলেন, ছাত্রদের আন্দোলনের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে খবর পেয়েছিলেন তিনি। সরকার পতনের পর হঠাৎই যখন তাকে প্রধান উপদেষ্টার পদ সামলানোর জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়, তখন তিনি নাকি রাজি হননি। তিনি জানান, তখন তিনি হাসপাতালে ছিলেন। অর্থাৎ পুরো এই আন্দোলনের সঙ্গে আগে থেকে তার কোনও সংযোগ ছিল না। এটাই বলতে চেয়েছেন তিনি। এদিকে নাহিদ ইসলাম বলছেন, সরকার পতনের আগেই মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়েছিল। পরে তাকে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। অর্থাৎ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব স্বীকার নাহিদের। বোঝাই যাচ্ছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগেই ঠিক করেছিলেন ছাত্ররা। দুই পক্ষের দু রকম ভাষ্য শুনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার যে বিচার প্রক্রিয়া চলছে, সেই বিচার প্রক্রিয়াতে নাহিদ ইসলাম সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি ৪৭ নম্বর সাক্ষী। তার সাক্ষ্য দেওয়ার মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণের কাজ শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। সাক্ষী দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছে মন্তব্য করেছেন নাহিদ ইসলাম, সেটা ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। তিনি বলেছেন, ৪ঠা আগস্ট অধ্যাপক ইউনূসকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এর আগে আরেক নেতা আব্দুল হান্নান মাসুদ বলেছিলেন, ৩রা আগস্ট ইউনূসের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। মালয়েশিয়ার কোনও একটি অ্যাপের মাধ্যমে কথা বলেছিলেন তিনি। অর্থাৎ এটা পরিষ্কার, সরকার পতনের আগেই ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল তাদের।
এখানেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৫ই আগস্টের পর যেভাবে আলোচনা চলছিল, যে কি হবে প্রথম উপদেষ্টা, সেগুলো সবই মিথ্যে। এমনকি বঙ্গভবনে আলোচনা, সেনাপ্রধান, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক, এগুলি সবই সাজানো। নাহিদ ইসলাম বলেছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য চৌঠা আগস্ট অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এমনকি তিনি এটাও বলেন, ৩ রা অগাষ্ট যখন আমরা এক দফার দাবি তুলি, তখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, এই সরকার আর থাকবে না। নতুন করে সরকার গঠন করতে হবে।
এদিকে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর, ইউনূস বিভিন্ন জায়গায় বলেছিলেন, ছাত্রদের আন্দোলন সম্পর্কে তার জানা ছিল না। এমনকি কারও সঙ্গে তার এই বিষয়ে কথাই হয়নি। এমনকি কারও সঙ্গে পরিচয় গড়ে ওঠেনি। ৫ ই আগস্ট এর পর তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এমনকি তিনি প্রথমে দায়িত্বভার গ্রহণ করতে চাননি। পরে ছাত্ররা তাকে বুঝিয়ে এই দায়িত্ব দেয়। তারপর তিনি সেই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বর্তমানে এখন দেখা যাচ্ছে, তথ্যের বিভ্রাট, সেটা কেন? কেন মহম্মদ ইউনূস বলতে চাইছেন না, ৫ই অগাস্টের আগে তার এই আন্দোলনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল? কেন তিনি এই আন্দোলনে তার ভূমিকার ক্রেডিট নিতে চাইছেন না? অনেকে বলছেন, তিনি ভয়ে এই ক্রেডিট নিতে চাইছেন না। তার কারণ পরবর্তীকালে যেন এই আলোচনা না আসে যে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পিছনে তার হাত ছিল। সেই কারণে তিনি বলতে চাননি। তবে আর কোনও কারণ রয়েছে কিনা, সেটা পরবর্তীকালে বোঝা যাবে। ঠিক যেমন এতদিন পর একেবারে নাহিদ ইসলামে মাধ্যমে জানা গেল, সরকার পতনের আগেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল, প্রধান উপদেষ্টা হবেন মহম্মুদ ইউনূস।












Discussion about this post