সংবাদ মাধ্যমমের নিরপেক্ষ ভুমিকাকে পুরোপুরি ধ্বংস করার পরও শান্তিতে নেই ইউনূস সরকার। বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমকে সরকারের চাটুকার বানাতে চায় অন্তবর্তী সরকার। এবার শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার নিয়ে গণমাধ্যমকে সতর্ক করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। গত শুক্রবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং এক বিবৃতিতে এই সতর্কবার্তা জানিয়েছে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, শেখ হাসিনার বক্তব্য কেউ ভবিষ্যতে প্রকাশ করলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার আইন ও আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসকের একটি ভাষণ কিছু গণমাধ্যম প্রচার করেছে। সেখানে শেখ হাসিনা মিথ্যা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।
বাংলাদেশের কোনও সংবাদমাধ্যম ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনে’ কঠোর পদক্ষেপ করা হবে! শুক্রবার এই বার্তা দিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।
বৃহস্পতিবার হাসিনার একটি বক্তৃতা বাংলাদেশের কিছু সংবাদমাধ্যম প্রচার করেছিল। তার পরেই এই সতর্কবার্তা দিয়েছে ইউনূস সরকার। বাংলাদেশের প্রথম সারির কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হাসিনার বক্তব্য কেউ ভবিষ্যতে প্রকাশ করলে তৎক্ষণাৎ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের টেলিভিশন, সংবাদপত্র এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলি যদি ফৌজদারি অপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী কার্যকলাপে অভিযুক্ত পলাতক আসামি তথা ‘নিষিদ্ধ সংগঠন’ আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনার অডিয়ো সম্প্রচার করে, তবে তা ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে বিবেচনা করা হবে। এ ছাড়াও গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাক্তন স্বৈরশাসকের ঘৃণা ছড়ায় এমন বক্তব্য সম্প্রচার নিষিদ্ধ করেছে বলেও সরকারি বিবৃতিতে সংবাদমাধ্যমগুলিকে জানানো হয়েছে।গত বছরের ৫ই অগস্ট গণবিক্ষোভের জেরে প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি দিল্লিতে রয়েছেন। কিন্তু সমাজমাধ্যমে ধারাবাহিক ভাবে অনুগামীদের উদ্দেশে বিক্তিতা করছেন তিনি। ইউনূস সরকারের নানা ‘জনবিরোধী’ নীতির সমালোচনাও করে চলেছেন। হাসিনার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ইতিমধ্যেই ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করেছে ইউনূস সরকার। এ বার শুরু হল তাঁর ‘কণ্ঠরোধের’ তৎপরতা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং বর্তমানে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচারাধীন। আইন অনুসারে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে । সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ অনুসারে, যেকোনো ব্যক্তি বা সংগঠন যারা তাদের নেতাদের কার্যকলাপ বা বক্তৃতা প্রচার, প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, টেলিভিশন, অনলাইনে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত অপরাধী এবং গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পলাতক আসামি আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনার অডিও সম্প্রচার এবং প্রচার ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্বৈরশাসকের ঘৃণা ছড়ায়, এমন বক্তব্য সম্প্রচার নিষিদ্ধ করেছে।
সংবাদমাধ্যমগুলোকে শেখ হাসিনার অডিও এবং বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতা উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি বক্তব্য প্রচার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা অবলম্বন করার আহ্বান জানানো হয়েছে ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয় শেখ হাসিনার মন্তব্য, বক্তৃতা এবং তার যেকোনো উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার, পুনঃপ্রচার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ঝুঁকি তৈরি করে। এটি কেবল জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কাজ করে। এ ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ অমান্যকারী যেকোনো সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশের আইনের অধীনে আইনি জবাবদিহির আওতায় পড়বে।’












Discussion about this post