বাংলাদেশে গত ৫ই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে দিল্লীতে অবস্থান করছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে, এমনকি দলটির নিবন্ধনও স্থগিত করা হয়েছে। এরই মধ্যে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।তবে নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও থেমে নেই শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতা। দিল্লীতে অবস্থানকালেই তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করছেন বলে জানা গেছে। সূত্রমতে, দলের শীর্ষ নেতাদের একে একে সবাইকে দিল্লীতে ডেকে পাঠানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মাহবুবউল আলম হানিফসহ একাধিক নেতা দিল্লীতে পৌঁছেছেন।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই বৈঠকগুলোতে আগামী নির্বাচনের কৌশল, আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় এবং দল পুনর্গঠনের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কলকাতাকেন্দ্রিক তৎপরতাও বেড়েছে, যেখানে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কয়েকজন নেতা আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।ভারতের নীতিনির্ধারকদের জন্য শেখ হাসিনার অবস্থান একটি কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিলের পর দিল্লীতে অবস্থানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিষিদ্ধ দল হিসেবে আওয়ামী লীগের এই তৎপরতা আগামী নির্বাচনের আগে নতুন মোড় নিতে পারে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান এখনও কঠোর—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে যেন বজ্রপাত! ২০২৫ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগসহ এর সকল অঙ্গসংগঠন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। দলটির নিবন্ধন স্থগিত, নেতারা আত্মগোপনে, আর দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এক অনিশ্চয়তার ছায়া।তবে নাটকীয় মোড় নেয় পরিস্থিতি, যখন জানা যায়—শেখ হাসিনা দিল্লীতে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই শুরু হয়েছে এক গোপন রাজনৈতিক কৌশলের সূচনা।
দিল্লীর অভিজাত এলাকায় একটি নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থানরত শেখ হাসিনা একের পর এক বৈঠকে ব্যস্ত। দলীয় শীর্ষ নেতাদের তিনি ব্যক্তিগতভাবে ডেকে পাঠাচ্ছেন। ইতিমধ্যে ওবায়দুল কাদের, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মাহবুবউল আলম হানিফসহ একাধিক নেতা দিল্লীতে পৌঁছেছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।কী কী হতে পারে এই বৈঠকে
সূত্র বলছে, এই বৈঠকগুলোতে আলোচনা হচ্ছে—দল পুনর্গঠনের রূপরেখা আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের কৌশল ফেব্রুয়ারির সম্ভাব্য নির্বাচনে অংশগ্রহণের গোপন পরিকল্পনা কলকাতা কেন্দ্রিক বিকল্প সংগঠন গঠনের সম্ভাবনাকলকাতায়ও আওয়ামী লীগের তৎপরতা বেড়েছে। ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কয়েকজন নেতা সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন, এবং কলকাতার একাধিক হোটেলে গোপন বৈঠক চলছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান কী?
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার এখন এক দ্বিধায়। দীর্ঘদিনের মিত্র শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে তারা কূটনৈতিক চাপে পড়েছে। হাসিনার কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল হওয়ার পর তার ভারতে অবস্থানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তির ব্যতিক্রমী ধারা ব্যবহার করে হাসিনাকে ফেরত পাঠানো হবে কি না—তা নিয়ে চলছে জটিল আলোচনা।আর এই নিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমেঅন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।তবে জনগণের মধ্যে গুঞ্জন—আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কোনো না কোনোভাবে ফিরে আসার চেষ্টা করছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “দিল্লীর ছায়ায় যা ঘটছে, তা শুধু একটি দলের পুনরুত্থান নয়—এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতির নতুন অধ্যায়।”












Discussion about this post