বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার গুলিস্তানে ঝটিকা মিছিল করলো আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ। তাঁদের বহু নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শেখ হাসিনা-সহ আওয়ামী লীগের প্রথমসারির প্রায় সমস্ত নেতা নেত্রী দেশছাড়া। এই পরিস্থিতিতে রাজধানী ঢাকার বুকে বিশাল মিছিল করে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তরবর্তী সরকারকে চমকে দিল আওয়ামী লীগ। সূত্রের খবর ওই মিছিল থেকে মাত্র তিনজনকে আটক করতে পেরেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তরবর্তীকালীন সরকার দাবি করেছিল ভারতের দিল্লি কলকাতা সহ কয়েকটি শহরে দলীয় কার্যালয় খুলেছে আওয়ামী লীগ। যদিও ভারতের বিদেশ মন্ত্রক পত্রপাঠ সেই দাবি নাকচ করেছে। তবে বিভিন্ন সূত্রের খবর, আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নেত্রী তথা বাংলাদেশের বিতাড়িত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই দিল্লিতে বেশ কয়েকবার গোপন বৈঠক করেছেন ভারতে অবস্থানকারী দলীয় শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে। বাংলাদেশে দলের সংগঠন কিভাবে পুনস্থাপন করা যায়, যারা এই মুহূর্তে বাংলাদেশেই আত্মগোপন করে আছেন তাঁদের একত্রিত করা এবং নতুন মুখদের কিভাবে নেতৃত্বে নিয়ে আসা যায় তা নিয়ে একাধিক বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। যদিও ভারত সরকার এই ধরণের কোনও বৈঠকের কথাও অস্বীকার করেছে কিন্তু ভারতে অবস্থানকারী আওয়ামী নেতারা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন হাসিনার নেতৃত্বে এরকম বৈঠক হয়েছে। জানা যাচ্ছে, মুহাম্মদ ইউনূস সরকারকে চাপে ফেলতে বড়সড় পরিকল্পনা করেছেন নেত্রী শেখ হাসিনা। এর আগেও বহুবার রাজধানী ঢাকা-সহ বাংলাদেশের একাধিক শহরে ঝটিকা মিছিল করেছিল আওয়ামী সমর্থকরা। কিন্তু রবিবার বিকেলে যেভাবে আচমকা মিছিলের আয়োজন করল আওয়ামী সমর্থকরা, তাতে একটা স্পষ্ট পরিকল্পনার ছাপ রয়েছে। সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে আওয়ামী নেতা ও কর্মীরা আচমকা জড়ো হন গুলিস্তান এলাকায়। এরপরই জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় শেখ হাসিনা স্লোগান তুলে মিছিল যত এগোতে শুরু করে, ততই ভিড় বাড়তে থাকে মিছিলে। পথ চলতি সাধারণ মানুষও ওই মিছিলে যোগ দিতে থাকেন। ধারে-ভারে মিছিলের বহর বাড়তে শুরু করে। আচমকা এই মিছিল শুরু হওয়ায় প্রথমে হকচকিয়ে যান আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। কিছুক্ষণ পরই তাঁদের স্বম্বিত ফেরে। এরপরই শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে তেড়ে গেলে যে যেদিকে পারেন পালিয়ে যান। বাকিরা সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে যাওয়ায় মাত্র তিনজনকে আটক করা সম্ভব হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা পুলিশ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, এদিনের মিছিলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল মুহাম্মদ ইউনুসের সরকারকে। তাঁরা বোঝাতে চাইল, বিনাযুদ্ধে এক ছটাক জমিও ছাড়তে নারাজ তাঁরা। অন্যদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যে এই মিছিল যথেষ্টই আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। যেভাবে সাধারণ মানুষ মিছিলে পা মিলিয়েছেন, তাতে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন উপদেষ্টারা। সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে গণমাধ্যমগুলিকে নির্দেশ দিয়েছিল শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতার বক্তব্য প্রচার করা যাবে না। না হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যারা শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট বলে দেগে যাচ্ছেন, তাঁরাই এখন ফ্যাসিস্টের মতো আচরণ করছে। আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে এমন সব নির্দেশিকা জারি করেছে যা আইনবিরুদ্ধ। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনও আইনের ধার ধারছেন না। শেখ হাসিনাও ছাড়ার পাত্রী নন। তিনি নিজের মতো করে দলীয় সংগঠনকে ঢেলে সাজাচ্ছেন বলেই খবর। আর এই বিষয়ে ভারতীয় গোয়েন্দাদের রিপোর্ট তাঁকে সাহায্য করছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এমনও জানা যাচ্ছে, ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরই দলীয় নেতাদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেছেন। দিল্লিতে তাঁর গোপন আস্তানায় কয়েকজন কর্মী-সহ পুরোদস্তুর এক অফিস দেওয়া হয়েছে তাঁকে। সেখানেই কন্ট্রোলরুম খুলে সমস্ত দিক পরিচালনা করছেন শেখ হাসিনা। ফলে অনেকেই মনে করছেন, এখন থেকে গোটা বাংলাদেশেই মাঝে মধ্যে এরকম ঝটিকা মিছিল বা বিক্ষোভ প্রদর্শন করবে আওয়ামী লীগ। যাতে মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা যায়।












Discussion about this post