বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বাউলশিল্পী আবুল সরকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি “ইসলাম ধর্মের বিশ্বাসের অবমাননা করেছেন এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে কটূক্তি করেছেন। পাশাপাশি এই অভিযোগও করা হয়েছে যে তিনি নাকি অবমাননামূলক অট্টহাসি দিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে উসকানি দেয়ার অপরাধ” করেছেন। ঠিক যেমনটা করা হয়েছিল গত বছর চিন্ময়কৃষ্ণ প্রভুর বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধেও ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং দাঙ্গায় উস্কানি দেওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে। তবে পার্থক্য এটা যে চিন্ময়কৃষ্ণ প্রভু একজন হিন্দু সন্নাসী এবং আবুল সরকার একজন বাউলশিল্পী এবং পালাগানকার। জানা যাচ্ছে আবুল সরকারের একটি ভিডিও ক্লিপ সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয় সম্প্রতি। যাতে তাঁকে একটি আসরে পালাগান গাইতে শোনা যাচ্ছে। যদিও তার ভক্ত-শিষ্যদের দাবি পালাগানের নির্দিষ্ট একটি অংশ কেটে বিভ্রান্তিমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁর পুরো গানের ভিডিও না তুলে কয়েকটি অংশকে তুলে ধরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে ওই ভাইরাল ভিজিওর মাধ্যমে।
মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছিল। দাবি ইউনূসের আমলেও পুলিশ এখনো আগের মতো ক্ষমতার অপব্যবহার করে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন ধর্মীয় ও আদিবাসী গোষ্ঠীর ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত থাকায় ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। আরও কিছু ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কীভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মী-সহ অন্যদের নিশানা করে বিভিন্ন রকম প্রতিশোধমূলক কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উপর যে অত্যাচার হয়েছে তাও তুলে ধরা হয়ে জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে। প্রতিবেদন অনুসারে, জুলাইয়ের বিদ্রোহের সময় এবং পরে আওয়ামী লীগের সদস্য, পুলিশ কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের পিটিয়ে হত্যা; থানায় অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট; আওয়ামী লীগের অফিস এবং দলীয় নেতাদের বাড়িতে হামলা; শেখ হাসিনার পরিবারের ধানমন্ডি-৩২ নম্বরের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ; আওয়ামী লীগের মহিলা সদস্যদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা; এবং শেখ হাসিনার সরকারের সাথে জড়িত বলে অভিযোগে সাংবাদিক এবং গণমাধ্যমের উপর আক্রমণের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হিন্দুদের বাড়িঘর ও স্থাপনার উপর ব্যাপক আক্রমণ, পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী সম্প্রদায়ের উপর বাঙালি গোষ্ঠী কর্তৃক আক্রমণ, যাদের বিরুদ্ধে প্রাক্তন শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি অনুগত থাকার অভিযোগ আনা হয়। উল্লেখ্য, গত মাসেই পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। সেখানেও দাবি উঠেছিল সমতলের বাঙালি মুসলিম এবং রোহিঙ্গাদের একটা বড় অংশ সেনাবাহিনী ও বিজিবি-র সাহায্য নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীদের জমি ও বাড়িঘর দখল করে নিচ্ছে। এর প্রতিবাদ করতে গেলে সেনাবাহিনী তাঁদেরই উপর গুলি চালায়। এই সমস্ত ঘটনার উল্লেখ রয়েছে জাতিসংঘের রিপোর্টে। কিন্তু ইউনূস সরকারের তাতেও কোনও হেলদোল নেই। তার প্রমান বাউলশিল্পী আবুল সরকারকে গ্রেফতারের ঘটনা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post