বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেছেন আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধেই সে দেশে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসাথে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে হাতে আর বেশি সময় নেই ধরে নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলি একে একে তাঁদের প্রার্থী তালিকাও প্রকাশ করতে শুরু করেছে। যেমন গত ৩ নভেম্বর বাংলাদেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি ২৩৭ জনের একটি প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে দিয়েছে। পাশাপাশি তাঁরা বলেছে, সম মনোভাবাপন্ন রাজনৈতিক দল ও তাঁদের সহযোগীদের জন্য কিছু আসন ছাড়া হচ্ছে। এরপরই বিএনপির সাথে বাংলাদেশের ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির একটা বোঝাপড়া নিয়ে চর্চা শুরু হয়ে যায়। সদ্যই এনসিপি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পেয়েছে। ১৮ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী)-এই দুটি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দিয়েছে। ফলে তাঁদের আর ভোটে লড়তে কোনও বাঁধা নেই। এর পরই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে একটা চর্চা শুরু হয়েছে, এনসিপি কি আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সঙ্গে জোট করবে?
যেটা জানা যাচ্ছে, তা হল ছাত্র উপদেষ্টাদের একটা বড় অংশ চাইছেন, বিএনপির সঙ্গে জোট হোক। এরজন্য তাঁরা কয়েকটা শর্তও দিয়েছেন। যেমন, অন্তত ২০টি আসন তাঁদের ছেড়ে দিতে হবে, নির্বাচনের মাঠে সাংগঠনিক সহায়তা দিতে হবে এবং দলের বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকার নিশ্চয়তা দিতে হবে বিএলপিকে। এই নিশ্চয়তা না পেলে তারা বিএনপির সঙ্গে জোট করতে রাজি নন। মজার বিষয় হল, এই জোটের অঙ্ক তৈরি হচ্ছে জামায়তে ইসলামীর ক্রমবর্ধমান সাংগঠনিক শক্তি এবং তাঁদের অগ্রাসী মনোভাবকে মাথায় রেখে। তবে এনসিপির যা সাংগঠনিক ক্ষমতা তাতে তাঁদের কোনও একটা পক্ষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভোটে লড়তে হবে। ফলে ছাত্রদের দলের সামনে জামাতের বিকল্পও খোলা রয়েছে।
জানা গিয়েছে, গত ১৩ নভেম্বর মন্ত্রিপাড়ায় একজন ছাত্র উপদেষ্টার সরকারি বাসভবনে এনসিপির ৩০ জনের বেশি নেতার বৈঠক হয়েছে। পরের দিন দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভা হয়।পরের দিনই বাংলামোটরে তাঁদের দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভা। ওই বৈঠকগুলিতে অংশ নেওয়া এনসিপি নেতাদের সাথে কথা বলে বাংলাদেশের একাধিক সংবাদপত্র দাবি করেছে, দুই উপদেষ্টা ছাড়াও এনসিপির শীর্ষ ১০ নেতার অন্তত দুজন বিএনপির সঙ্গে জোট চান। তাদের একজন ঢাকায়, আরেকজন উত্তরবঙ্গে বিএনপি জোটের প্রার্থী হতে চান। জানা যাচ্ছে বিএনপির ফাঁকা রাখা ঢাকা-১০ আসনে প্রার্থী হতে চাইছেন ক্রীড়া, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। পাশাপাশি যে কোনও একটি সুবিধাজনক আসনে মাহফুজ আলমকেও প্রার্থী করতে চায় এনসিপি। দৈনিক সমকালের দাবি, দুই ছাত্র উপদেষ্টার একজন জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহী নন। অন্য উপদেষ্টার অভিমত, আগামী নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সরকারের সময়ে নিরাপত্তার কারণে বিএনপির সঙ্গে থাকা উচিত।
ইতিমধ্যেই পঞ্চগড়-১ আসনের জন্য মনোনয়ন ফর্ম সংগ্রহ করেছেন এনসিপির অন্যতম নেতা তথা উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারি জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ১১০০ জন ফর্ম বিতরণ করা হয়েছে। এরমধ্যে কনফার্মড সারজিস আলম।
গত বছর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র সমাজের নেতৃত্ব দেওয়া নেতাদের ভোটে লড়ার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টাও চান বিএনপির সঙ্গে জোট করুক এনসিপি। তবে জানা যাচ্ছে, বিএনপির সঙ্গে জোটে যেতে রাজি নন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন। যদিও তাঁদের অভিমত এনসিপির চাহিদা পূরণ হলেই এই জোট বা সমঝোতা হতে পারে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিএনপিও মনে প্রাণে চাইছে এনসিপি তাঁদের সাথে জোট করে নির্বাচনে লড়ুক। এতে তাঁদেরও সুবিধা। কারণ, জামায়তে ইসলামী বাংলাদেশ যেভাবে একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বাজিমাত করেছে তাতে আসন্ন ভোটে তাঁরা অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এই মুহূর্তে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক খুব একটা মধুর নয় জামাতের। জামাত চাইছে তাঁদের সহয়োগী দলগুলির সাথেই জোট করে ভোটে লড়তে। এনসিপিকেও খুব একটা পাত্তা দিতে নারাজ জামাত নেতৃত্ব। ফলে আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের মাথায় চেপেই ভোট বৈতরণী পার করার চেষ্টা করবে এনসিপি। এটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।












Discussion about this post