বাংলাদেশের পলাতক সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে মেজর সুমন আহমেদ এর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, ভারত কি বাংলাদেশ দখলের পায়তারা কষছে? গত বছরের জুন-জুলাইয়ের বিপ্লব এবং গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকেই যে কয়েকজন বিদেশ থেকে বাংলাদেশের জনগণকে ক্রমাগত উস্কানি দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম এই ইলিয়াস হোসেন। এবার গত ১৬ এপ্রিল এক ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ দ’খলের পায়তারা ভারতের! তাঁর এই দাবির পিছনে কয়েকটি সূত্রও জানিয়েছেন তিনি। যেমন, বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি থেকে মাত্র ২৪ মাইল এবং ফেনী থেকে মাত্র ৯৬ মাইল দূরে, মিজোরামের লেংপুই বিমানবন্দরকে ভারত এখন ফুল-স্কেল এয়ারফোর্স বেসে আপগ্রেড করতেছে। পাশাপাশি তাঁর দাবি, সম্প্রতি প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে পশ্চিমবঙ্গের পানাগড় এয়ারফোর্স স্টেশনে বড় আকারে মেরামত ও পুনঃনির্মাণ শুরু হয়েছে। সেখানে ২৬ মিটার X ৩১ মিটার আকারের শেড ও নতুন ট্যাক্সিওয়ে দেখে স্পষ্ট – সেখানে সুখোই-৩০ সহ আধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে। এই দাবি করে ইলিয়াস হোসেন বাংলাদেশের বর্তমান তদারকি সরকারকে পরামর্শও দিয়েছেন এখন কি কি করতে হবে। তিনি লেখেন, উত্তর ও দক্ষিণ ফ্রন্ট থেকে হু’মকি বিবেচনায়, বাংলাদেশকেও এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।
সেগুলি হল – উত্তরবঙ্গ কেন্দ্রিক প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বিমানবন্দর পুনর্নির্মান, যেমন লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও ও বগুড়া বিমানবন্দর। দক্ষিণাঞ্চলের জন্য তাঁর পরামর্শ হল ফেনী রুট রক্ষা ও দ্রুত প্রতিরক্ষা মোতায়েনের জন্য ফেনী বিমানবন্দর, কুমিল্লা বিমানবন্দর, শমসেরনগর বিমানবন্দর, মৌলভীবাজার বিমানবন্দরের আধুনিকিকরণ করা। পাশাপাশি স্ট্র্যাটেজিক এবং ইনভেস্টমেন্ট-ভিত্তিক এলাকা মিরসরাই ইকোনমিক জোনে দ্রুততার সঙ্গে একটি স্থায়ী সে’নানিবাস স্থাপন করার দাবিও জানিয়েছেন ইলিয়াস হোসেন। এখন প্রশ্ন হল, কত দ্রুত এই সমস্ত বিমানবন্দর ও ইকোনমিক জোন রক্ষা করার পরিকাঠামো গড়ে তুলতে পারবে ঢাকা? পাশাপাশি কৌতুহল জন্মাচ্ছে, ভারত কি কি ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশে পায়তারা কষার জন্য?
নয়া দিল্লি সূত্রে জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই ভারত মোট ছটি বিষয় চিহ্নিত করেছে যা বাংলাদেশের প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক ত্রুটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেগুলি হল – এক, ভারতের সঙ্গে কৃত্রিম সংঘাতের বাতাবরণ তৈরি করে বন্দর বন্ধ করে ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ আটকে রাখা। দুই, যারা ইতিমধ্যে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে, সেই পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে বিকল্প অর্থনৈতিক সুযোগসুবিধা চাইছে ঢাকা। তিন, দেশের মানুষকে অর্থনৈতিক ভাবে হাঁফ ছাড়ার সুযোগ না করে, ক্রমাগত রাজনৈতিক লাভের সন্ধান করে যাওয়া। চার, একের পর এক রেডিমেড পোশাক শিল্প কারখানা বন্ধ হওয়া। পাঁচ, প্রবল মুদ্রাস্ফীতি এবং ছয় নম্বর হল বেকারত্বের হার বৃদ্ধি। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ভারত সম্প্রতি ভারত বাংলাদেশকে দেওয়া ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করেছে। উল্লেখ্য, মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় আসার পরই শেখ হাসিনার আমলে ভারতকে দেওয়া ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করেছিল ঢাকা। এর বেশ কয়েকমাস পর পাল্টা ভারত সেই চাল দিল। আর তাতেই ঘটি উল্টানোর জোগাড় বাংলাদেশের। নয়াদিল্লির বক্তব্য, এতে বাংলাদেশের বাণিজ্যের ক্ষতিই শুধু নয়, দীর্ঘমেয়াদে লোকসান হবে সে দেশের নাগরিকদেরও।
বাংলাদেশের ইউনূস প্রশাসনকে প্যাচে ফেলতে ভারত বেশ কয়েকটি কূটনৈতিক ব্যবস্থা নিলেও বিকল্প পথও খোলা রাখছে। যেমন, ভারতের চিকেন নেক বা শিলিগুড়ি করিডোরের সুরক্ষা ব্যবস্থা মজবুত করতে ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে ভারী অস্ত্রসম্ভার। যেমন এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, অগ্নী, আকাশ, পৃথ্বী ও ব্রক্ষ্মসের মতো ক্ষেপণাস্ত্র সমুহ। শিলিগুড়ি করিডোরের কাছে হাসিমারা বিমানঘাঁটিতে রাখা হয়েছে রাফালের মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং সবচেয়ে অ্যাডভান্স চিনুক হেলিকপ্টার। জানা যাচ্ছে, এবার চিনুকের সাহায্যে ওই এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বোফর্সের মতো কামানও। যদিও সেখানে আগে থেকেই মোতায়েন ছিল টি-৯০ অত্যাধুনিক ট্যাঙ্ক। সবমিলিয়ে যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে ভারত। অর্থাৎ কিনা সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বেঁকাতেও পারে ভারত। এটাই হয়তো আঁচ পেয়েছেন ইলিয়াস হোসেনরা।











Discussion about this post