আবারও বাংলাদেশে দ্রুত সময়ের মধ্যে ‘অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন’ চাইল ভারত। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার তোলা অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে খারিজ করে সে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকেই আঙুল তুলল নয়া দিল্লি। সেই সঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হল, বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকারকেই বেছে নেবেন, তাঁদের সঙ্গেই কাজ করবে ভারত। অর্থাৎ, আবারও একবার মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারে অনাস্থা জানিয়ে দিল নয়া দিল্লি। সেই সঙ্গে বুঝিয়ে দিল, ভারত আসলে কি চায়। ভারতের তরফে ঢাকাকে এমনই কিছু বার্তা দিলেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি এবং বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
সম্প্রতি বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়িতে হিংসাত্মক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। অভিযোগ পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসিন্দা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনদের উপর আক্রমণ শুরু হয়। তাঁদের জমিজমা দখল করে নিচ্ছিল বহিরাগত মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন। যা নিয়ে প্রতিবাদে ফেটে পড়েন পার্বত্য চট্টগ্রামের আদি বাসিন্দারা। কিন্তু অভিযোগ, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাঁদের উপরেই গুলি চালায়, তাতে সরকারি হিসেবে কমপক্ষে চার জনের মৃত্যু হয়। এরপরই খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দারবনের বিস্তৃর্ণ এলাকায় প্রবল বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়। এই ঘটনার নেপথ্যে ভারতের ইন্ধন রয়েছে বলে প্রকাশ্যেই অভিযোগ করেছিলেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিক সুযোগ পেলেই ভারতের ওপর দোষারোপ করার চেষ্টা করেন। এই ঘটনা এই প্রথমবার নয়, এর আগেও বহুবার ঘটেছে। এবার ভারতের তরফে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া এল নয়া দিল্লির। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের তরফ থেকে আসা কিছু মন্তব্য আমরা খারিজ করছি। আমরা দেখেছি, যখনই বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হয় তখনই অন্য দেশের উপর দোষারোপ করতে থাকে। আমরা মনে করি এ সব না করে বাংলাদেশের উচিৎ পার্বত্য চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা বহাল করা।
কেবলমাত্র বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্রই নয়, ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রিও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে ভারত বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গেই সম্পর্ক স্থাপন করবে। সম্প্রতি বাংলাদেশের সাংবাদিকদের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন নিয়ে ঘোষণা ও বিবৃতি আমরা সবাই দেখেছি। আমি যেটা বুঝেছি তা হলো, এ ক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারি নাগাদ একটি সময়সীমার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করে বাংলাদেশ সরকার যে বার্তা দিয়েছে, আমরা তাতে উৎসাহিত এবং আমরা প্রতীক্ষায় আছি যে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরপরই তিনি বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশে একটি ‘অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন’ হবে।
বাংলাদেশের মুহাম্নদ ইউনূসের অন্তবর্তী সরকারের সঙ্গে খুব একটা ভালো সম্পর্ক নেই ভারতের। আর সেটা বারবারেই প্রমাণিত হয়েছে দুই দেশের একাধিক মন্তব্যে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে যে ভারত ভালো সম্পর্ক রাখতে ইচ্ছুক, সেটা জানিয়ে দিলেন বিক্রম মিশ্রি। তিনি ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন ভারত বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ করবে না। বরং যে সরকারই নির্বাচিত হয়ে আসবে, ভারত তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করবে। এটা ইউনূসের কাছে একটা কঠোর বার্তা বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post