ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুই দেশের মধ্যে যে শুল্ক যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, এটার ইতি তো ঘটেছেই। উল্টে আমেরিকা ভারতের ওপর থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক নামিয়ে ১৮ শতাংশ করেছে। অর্থাৎ বিশ্বের সবথেকে কম শুল্কের দেশের মধ্যে অন্যতম ভারত। এদিকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মার্কিন সফরে গিয়েছেন। আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন তিনি। এখানে প্রশ্ন উঠছে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দেশ যে ভারত, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে কি দক্ষিণ এশিয়াকে পুরোপুরি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে ভারত? সেই কারণেই কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক করছে? যুক্তরাষ্ট্র কি সেই লাইসেন্স দিয়ে দিল? যদি তাই হয়, তবে কি ভারত বাংলাদেশের রাজধানীতে নাক গলাবে? যদিও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের রাজনীতিতে যেমন অন্য কোনও দেশ হস্তক্ষেপ করে না, ঠিক অন্য দেশের গণতন্ত্রের প্রতি সম্মান জানিয়ে ভারত সেই কাজ করে না। তবে দেশের সুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ হিসাবে যদি কোনও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি থেকে থাকে, সেখানে ভারত নাক গলাবেই। অনেকে বলছেন, ভারতের টার্গেট কি তবে মুহাম্মদ ইউনূস? তার কারণ, তার সরকার আসার পরই তো ভারতের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত এখন শক্তিশালী দেশ। ফলে এখানকার নিয়ন্ত্রণ যে ভারত করবে, বা এর নিরপত্তা নিয়ে ভাববে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আরও বেশি করে এই বিষয়টি নজরে এসেছে, সেটি হল আমেরিকা যখন ভারতের শুল্ক একদম নিচে নামিয়ে এনেছে। এরপরই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বৈঠকে বসে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিউর সঙ্গে।
প্রতিরক্ষার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি এই বৈঠকে পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে খবর। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এক্স হ্যান্ডলের একটি পোস্টে লিখেছেন, আজ বিকেলে মার্কিন পর রাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুনিয়র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। তিনি লেখেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যার মধ্যে বাণিজ্য,পারমাণবিক শক্তি ও গুরুত্বপুর্ণ খনিজ এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। উল্লেখ্য, এর আগে এস জয়শঙ্কর মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা এগিয়ে যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এরপরই মনে হয়েছিল,দুই দেশের মধ্যে বরফ গলতে শুরু করেছে। দেখা গেল তাই। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর ফোনে কথা হয়। এরপরই শুল্ক পতন হয় ভারতের ক্ষেত্রে। সেই প্রেক্ষিতে যখন বেশ কয়েকদিন থেকে শোনা যাচ্ছিল, যে জয় শঙ্কর আমেরিকা সফর করবেন। এবং এই সফরে গুরুত্বপুর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত হবে। এরইমাঝে নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনালাপ। অনেকে বলছেন,এরপরই জয় শঙ্করের মার্কিন সফরের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। অনেকে মনে করছিলেন, যে আমেরিকা পাকিস্তানের সম্পর্ক ভালো জায়গায় পৌঁছছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ভারত আমেরিকার কাছাকাছি আসতেই পাকিস্তান দূরে গেছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের উপর কিভাবে প্রভাব পড়বে? অনেকে বলছে, আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, বাংলাদেশের বিষয়টি আমি বন্ধু মোদীর উপর ছেড়ে দিলাম। এই প্রেক্ষিতে যখন দুই দেশের সম্পর্ক যখন স্বাভাবিক দিকে পৌঁছল, তখন বলাই বাহুল্য বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারত পদক্ষেপ করতে পারে। সেক্ষেত্রে জামায়েত ই ইসলামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যোগাযোগ করছিল, এই ধরনের খবরগুলি ভিত্তিহীন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি ব্যাকডোরে বিএনপির সঙ্গে যে ভারত যোগাযোগ করছে, বিএনপিকে প্রাধান্য দেবে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বলাই যায়, ভারত-আমেরিকার সম্পর্কের স্বাভাবিকতায় একটি বড় ভূ রাজনৈতিক পরিবর্তন হল।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post