ধরে নিন ইরানের জায়গায় বাংলাদেশ রয়েছে, তাহলে তাঁরা কতটা যুদ্ধ চালাতে পারতো? ইরান বিগত এগারো দিন ধরে ক্রমাগত লড়াই করে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী সামরিক শক্তিধর দুটি দেশের বিপক্ষে। শুধু তাই নয়, ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে ইজরায়েলের যেমন বহু ক্ষতি করেছে তেমনই যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বন্ধু রাষ্ট্রে হামলা চালিয়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির বহুত ক্ষয়ক্ষতি করে দিয়েছে। আর সেই হামলা এখনও অব্যাহত। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি সামরিক দিক থেকে কতটা শক্তিশালী, তাঁদের হাতে কত ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে?
একদিকে ইরানের রাজধানী তেহরানে লাখো মানুষ সমাবেশ করে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তিনি সম্প্রতি তাঁর বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মঙ্গলবার জানিয়েছেন, প্রয়োজন যতদিনই হোক, ততদিন পর্যন্ত ইরান লড়াই চালিয়ে যাবে। প্রশ্ন উঠছে এত অস্ত্র কোথা থেকে পাচ্ছে ইরান। পশ্চিমা মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানে সাড়ে চার হাজারের বেশি হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে ইরানও কম যায় না, তাঁরাও তিন হাজারের মতো হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল-সহ একাধিক মধ্যপ্রাচ্যের দেশে। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা অবশ্য দাবি করেছে, এথনও পর্যন্ত ইরানি সেনা ৫৭১টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে আর ১৩৯১টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলির সংবাদমাধ্যম দাবি করছে, ইরান প্রথম দিন থেকে যে হারে শয়ে শয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছিল তাতে তাঁদের অস্ত্রভাণ্ডার কমে আসা স্বাভাবিক। তাঁদের দাবি, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের কাছে আনুমানিক দুই হাজারেরও বেশি স্বল্প-দূরত্বের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। এদিকে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, যুক্তরাষ্ট্র যেমন ভাবছে, তাদের “শত্রুকে প্রতিরোধ করার সক্ষমতা” তার চেয়েও বেশি। কারণ, ইরান এখনও একাধিক গন্তব্যে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি তাঁরা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে শাহেদ ড্রোন ব্যবাহার করছে। বিশ্লেষকদের দাবি, যুদ্ধের আগেই এই শাহেদ ড্রোন হাজার হাজার সংখ্যায় উৎপাদন করেছে ইরান।
২০২৬ সালের গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্সে ইরানের সামরিক শক্তি মূলত সংখ্যাধিক্য এবং অসম যুদ্ধের কৌশলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের সূচকে তাঁরা বিশ্বের ১৬তম অবস্থানে রয়েছে। ইরানের সক্রিয় সৈন্য সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার, যা ইসরায়েলের তুলনায় অনেক বেশি। পাশাপাশি ইরানের হাতে রয়েছে প্রক্সি গ্রুপ যেমন হিজবুল্লাহ ও হুথি জঙ্গিগোষ্ঠী। ইরান এখনও তাঁদের ব্যবহার করেনি। অপরদিকে ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি হল তাদের বিশাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার। ইরানের হাতে প্রায় ১৫০০ থেকে ৩০০০-টির বেশি উন্নত মানের ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। সেজ্জিল, খোররামশাহর এবং ফাত্তাহ-ওয়ানের মতো ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ২০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানতে পারে। তবে মার্কিন হানায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে মার্কিন ও ইজরায়েলের বিমানবাহিনী ইরানের আকাশে কার্যত ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে। তবুও লড়ে যাচ্ছে ইরান।
এবার আসা যাক বাংলাদেশের প্রসঙ্গে। একটি দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সাধারণত তিনটি স্তরে থাকে: স্বল্প পাল্লা, মাঝারি পাল্লা এবং দীর্ঘ পাল্লা। বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা অনেকটা এমন যে আমাদের কাছে ঘরের দরজা বন্ধ করার জন্য সাধারণ ছিটকিনি আছে, কিন্তু বাড়িটি মাটির। ফলে যে কেউ এসে সিঁদ কেটে সাফ করে দিয়ে যেতে পারে। আমরা দেখছি, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে হামলা চালিয়েছে, কিন্তু তাঁদের উন্নত প্রযুক্তির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে প্রায় বেশিরভাগ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করেছে সৌদি, আরব আমিরশাহী বা কাতার। তেমনই ইজরায়েলের হাতে থাকা আয়রন ডোম প্রায় সিংহভাগ ইরানি মিসাইল আকাশেই ধ্বংস করেছে। তবুও বেশ কয়েকটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইজরায়েলে আঘাত হেনেছে বলে জানা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের হাতে নেই কোনও ক্ষেপণাস্ত্র, নেই কোনও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে সম্প্রতি তুর্কি থেকে আনা কিছু ড্রোন রয়েছে তাও সংখ্যায় অতি নগন্য। ফলে ইরানের মতো বাংলাদেশে হামলা হলে, ঢাকা সেটা প্রতিরোধই করতে পারবে না, পাল্টা হামলা তো দূরের কথা।












Discussion about this post