মঙ্গলবার সকাল ৬টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এর মাত্র ৫ দিন ১৭ বছর পর লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফিরেছিলেন তাঁর একমাত্র জীবিত পুত্র তারেক রহমান। প্রসঙ্গত, ১৭ বছর আগে বাংলাদেশ ছাড়ার সময় এই তারেকই বলেছিলেন, তিনি আর রাজনীতি করবেন না। কিন্তু বাংলাদেশে ফিরে তাঁর প্রথম বার্তাই ছিল রাজনৈতিক। এমনকি নতুন করে ‘নতুন দেশ গড়ার’ স্বপ্নও দেখালেন তিনি। এখন বিএনপির অভিবাবক খালেদা জিয়া প্রয়াত। ফলে এবার দলের যাবতীয় দায়দায়িত্ব তাঁর ছেলের কাঁধেই এসে পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। যদিও কয়েকমাস ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেকই সবকিছু পরিচালনা করছিলেন লন্ডনে বসে। তবে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বেগম জিয়া অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ছেলে তারেক এবং ঢাকায় থাকা শীর্ষ নেতাদের দিতেন। বিদগ্ধ রাজনৈতিক খালেদার সেই সমস্ত পরামর্শ অনেকটাই সাহায্য করতো বিএনপি নেতাদের রণকৌশল ঠিক করতে। কিন্তু এখন থেকে সেটা হওয়ার নয়। ফলে যাবতীয় সিদ্ধান্ত তারেকের উপরই ন্যাস্ত হয়ে যাবে। তবে এসব কিছুকে ছাপিয়ে যে প্রশ্নটা সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে, সেটা হল বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু কি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ আমূল বদলে দেবে?
খালেদা জিয়ার মৃত্যু কী বিএনপি-র জন্য বাড়তি ডিভিডেন্ড এনে দেবে নাকি নেতৃত্বহীনতার মুখে পড়বে দল? এটা সময়ই বলবে। তারেক রহমান বিদেশে থেকেছেন কিন্তু দল থেকে দূরে থাকেননি। সময়ে সময়ে দলকে এবং সভ্য-সমর্থকদের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা, বাংলাদেশের দিকে সবসময় নজর রাখা সবই তিনি করেছেন লন্ডনে বসে। কিন্তু এবার তারেক বাংলাদেশেই রয়েছেন। ফলে বাড়তি সুবিধা তিনি পাবেন সেটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। বিএনপির প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ এখনও বাংলাদেশ থেকে দূরে। শেখ হাসিনার দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম এখনও নিষিদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে বিএনপির সুবিধা ছিলই। এবার খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর সহানুভূতি ও আবেগের বাড়তি সুবিধা পাবে তারেক। কিন্তু রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আওয়ামী লীগ ছিল বিএনপির চেনা প্রতিপক্ষ। এবার তাঁদের লড়াই করতে হবে জামায়তে ইসলামী এবং এনসিপির সঙ্গে। জামাত দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকায় প্রতিপক্ষ হিসেবে নতুন। অন্যদিকে এনসিপি কোনও কোনও জায়গায় জনপ্রিয়তার নীরিখে যথেষ্ট শক্তিশালী। অপরদিকে, বিগত দেড় বছরে জামাত ও ছাত্র শিবির বাংলাদেশে তাঁদের সংগঠনিক শিকড় আরও গভীরে প্রবেশ করিয়েছে। বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জামাত তাঁদের সাংগঠনিক শক্তির পরিচয় দিয়েছে। বিএনপিকে কার্যত ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। ফলে এবার, তারেককে লড়তে হবে জামাত-সহ কয়েকটি সংগঠিত ইসলামিক দলের বিরুদ্ধে।
এক বছর আগে পর্যন্ত বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল ছিল আওয়ামী লীগ। এখন তাঁরা রাজনীতির ময়দানে না থাকায় তাঁদের ভোটব্যাঙ্কের দিকে নজর দিয়েছে বিএনপি। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী গোপালগঞ্জ, যা আওয়ামী লিগের অন্যতম ঘাঁটি, সেখানে এবার বাড়তি জোর দিচ্ছে বিএনপি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অলিন্দে এমন কানাঘুঁষোও শোনা যাচ্ছে, হাসিনার সঙ্গে নাকি তারেকের কথাও হয়ে গিয়েছে। ভারতও নাকি এই জায়গায় বড় ভূমিকা পালন করেছে। ফলে যে বিএনপির রাজনৈতিক ইউএসপি ছিল ভারত-বিরোধিতা, আজ সেই বিএনপিই ভারতকে নিয়ে একটা কথাও বলছে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাসিনা-হীন বাংলাদেশে এই পক্ষ টানার ক্ষেত্রে ব্রহ্মাস্ত্র হতে পারে খালেদা জিয়ার আবেগ। কিন্তু বিষয়টা এত সহজ নয়। কারণ, একদিকে জামাত ও এনসিপি অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে কিছু সুযোগ-সুবিধা পাবে বলেই ধরে নেওয়া যায়। সরকার ও বিরোধী রাজনীতির সমীকরণে নতুন পরিবর্তন আসতে পারে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। এখন দেখার, এই পরিবর্তন কতটা প্রভাব ফেলে বিএনপি ও বাংলাদেশের রাজনীতির উপর।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post