বাংলাদেশের ৪ দলীয় জোটের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। এই চার দল হল, বিএনপি, জামাত, এনসিপি এবং ইসলামী আন্দোলন। সরকারের মতে এই চারটি দল বাংলাদেশে সবথেকে বড়। তাই এই চারটি দলের সঙ্গে আলোচনা করলেই, আর কোনও দলের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে না বলে মনে করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। মাইলস্টোনে যে দুর্ঘটনা ঘটেছে, মূলত সেই নিয়েই ছিল এই বৈঠক। তবে বৈঠক শেষে আসিফ নজরুল যে প্রেস ব্রিফিং করলেন, তাতে মনে করা হচ্ছে, মাইলস্টোনের ঘটনাটি সেকেন্ডারি। আসলে বৈঠক হয়েছে আওয়ামী লীগকে কিভাবে ঠেকানো যায়। প্রশ্ন উঠছে, আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করার জন্য সঠিক সময় কি এটা? কারণ দেশের ঘটে গিয়েছে একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা। যেখানে ছাত্রদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে কি হাসিনার ফেরার ভয় পাচ্ছেন ইউনূস এবং জেনারেল ওয়াকার?
জানা যাচ্ছে, বিএনপি, জামাত, এনসিপি এবং ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। বিএনপি নিশ্চিতভাবে বড় দল। জামাতেরও সমর্থন রয়েছে। কিন্তু যে দলটি এখনও নির্বাচনে লড়ার জন্য নিবন্ধন পায়নি। যে দলটি কোথাও মিছিল, মিটিং করতে গেলে মানুষের তাড়া খেয়ে হচ্ছে, সেই দলটিকে সরকার বড় দল ভাবলো কিভাবে? অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান নির্দিষ্ট কয়েকটি জেলায়। তার ভিত্তিতে সরকার দেশের বড় দলগুলির মধ্যে চার নম্বর স্থানে রাখছেন কিভাবে? এদিন বৈঠকের পর আসিফ নজরুল বলেছেন, কয়েকটি ঘাটতি রয়েছে। সেগুলিকে পূরণ করতে হবে। এমনকি তিনি ইঙ্গিত করেন, ফ্যাসিস্ট ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের দিকে যে তারা ইঙ্গিত করছেন সেটা স্পষ্ট। এমনকি সচিবালয়ের ভিতর ছাত্ররা ঢুকে বিক্ষোভ চালাচ্ছিলেন। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খায়। আর এই ঘটনায় অনেকে বলছেন, আওয়ামী লীগ করেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, আওয়ামী লীগের যদি এত শক্তি থাকে, তাহলে বিগত ১১ মাস ধরে এই সরকার কি করল? এমন প্রশ্ন উঠছে। আসিফ নজরুল বলেন, সব রাজনৈতিক দল বলেছে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যে তাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র মতপার্থক্য নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য আছে, তার প্রমাণ হচ্ছে যখনই প্রধান উপদেষ্টা ডাকছেন, তখনই তারা আসছেন। তারা এটাও বলেছেন যে, ঐক্যবদ্ধ আছেন বলেই তারা নিয়মিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। অর্থাৎ পুরো বৈঠকে আওয়ামী লীগ কে কিভাবে দমানো যায়, সেটা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সেই বিক্ষোভ বা আন্দোলন চলছে, সেটা আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগ করছে, এমন দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, এই মুহূর্তে কি এগুলি নিয়ে আলোচনা সময় সরকারের?
এদিকে বৈঠকের পর একটি ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস প্রাণ খুলে হাসছেন, এবং আর এক উপদেষ্টা কিছু একটি খাচ্ছেন। এটা ঘিরেও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। যে দিনটিকে প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রীয় শোক হিসেবে ঘোষণা করেছেন, সেই দিনে বৈঠক করে কিভাবে হাসছেন তারা?











Discussion about this post