অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছিল। এবার মিয়ানমারকে দেওয়া পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ধ্বংস করল সে দেশের এক সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী। তাও আবার সাধারণ মেশিনগান দিয়ে! ফের একবার মুখ পুড়লো চিন ও পাকিস্তানের।
মায়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী আউং সান সু চির সমর্থক স্বঘোষিত একাধিক বিদ্রোহী গোষ্ঠী লড়াই চালাচ্ছে সে দেশের সামরিক জুন্টা শাসকদের বিরুদ্ধে। এঁদের মধ্যে একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘পিপল্স লিবারেশন আর্মি’ বা পিএলএ। ঘটনাচক্রে, চিনা সেনাবাহিনীও একই নামে পরিচিত। মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী পিএলএ সে দেশের ক্ষমতাসীন সামরিক জুন্টা সরকারের একটি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি করল। তাও আবার এম-২ ব্রাউনিং ভারী মেশিনগানের পাল্টা গুলিতে। এই খবর সামনে আসতেই চরম অস্বস্তিতে পড়েছে পাকিস্তান। সেই সঙ্গে মুখ পড়েছে চিনেরও। কেন? সেই কথাই বলছি আপনাদের।
২০১৫ সালে পাকিস্তান-মায়ানমার প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তি মোতাবেক মিয়ানমারের জুন্টা বিমানবাহিনীকে মোট ১৩টি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান দিয়েছিল পাকিস্তান। চিনা সহযোগিতায় নির্মিত ওই যুদ্ধবিমানগুলি ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পাকিস্তানের কারখানায় উৎপাদন করা হয়েছিল। যা মিয়ানমার বিমানবাহিনীকে সরবরাহ করেছিল পাকিস্তান। মনে করা হচ্ছে, পিএলএ-র দাবি করা যুদ্ধবিমানটি এই মডেলের। যদিও যুদ্ধবিমানটি কোন মডেলের সে বিষয়ে পিএলএ বা জুন্টাফৌজ কিছু জানায়নি।
মঙ্গলবার সাগাইং অঞ্চলের পালে টাউনশিপে কান ডাউক থানা দখলের জন্য যুদ্ধের সময় একটি জান্তা যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করে মিয়ানমারের শাসনবিরোধী পিপলস লিবারেশন আর্মি। মায়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী আউং সান সু চির সমর্থক স্বঘোষিত ‘ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট’ নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইরাওয়াদি’ এই খবর জানিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে এও দাবি করা হয়েছে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে এটি প্রতিরোধ বাহিনীর হাতে ভূপাতিত অন্তত ১০ম সরকারি বিমান। উল্লেখ্য, ২০ মে কাচিন রাজ্যের ভামো শহরের জন্য লড়াইয়ের সময় আরেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্ট আর্মি জুন্টা বাহিনীর দুটি সরকারী পরিবহন হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছিল।
মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম দি ইরাওয়াদি জানিয়েছে, মঙ্গলবার পালে শহরের অদূরে কান ডাওকে পুলিশ ও আধাসেনার ঘাঁটিতে হানা দিয়েছিল পিএলএ। সে সময় নিজেদের সশস্ত্রবাহিনীকে বাঁচাতে উড়ে আসে জুন্টার বিমানবহর। পিএলএ গোরিলাবাহিনীও তৈরি ছিল। তাঁরাও পাল্টা আঘাত হানতে শুরু করে। এমন সময় এম-২ ব্রাউনিং ভারী মেশিনগানের পাল্টা গুলিতে একটি পাকিস্তানে তৈরি চিনা যুদ্ধবিমান ধ্বংস করে দেয় পিএলএ যোদ্ধারা। মজার বিষয় হল, এই মেশিনগান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মায়ানমার তথা তৎকালীন বর্মা ব্রিটিশ-আমেরিকার বাহিনী ব্যবহার করতো। এই মেশিনগানগুলি ব্যবহার হতো জাপান সেনা ও নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসের আজাদ হিন্দ বাহিনীর বিরুদ্ধে। সেই মান্ধাতার আমলের অস্ত্রেই চিনা যুদ্ধবিমান ঘায়েল করল ‘কমিউনিস্ট পার্টি অফ বর্মা’র সশস্ত্র শাখা পিএলএ। এই ধরণের মেশিনগানগুলির দাম কয়েক হাজারের বেশি নয়, কিন্তু চিনা জে-১৭ যুদ্ধবিমানের দাম ৭২ কোটি টাকা বলে জানা যায়। ফলে ফের একবার প্রমান হয়ে গেল চিনা যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা।
উল্লেখ্য, গত মাসেই অপারেশন সিঁদূর চলাকালীন ভারতীয় সেনা ও বিমানবাহিনী পাকিস্তানের একাধিক যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছিল। সেই তালিকায় চিনা জে-১৭, জে-১০ সিরিজের বিমানও ছিল। চিনা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ভেদ করে ভারত পাকিস্তানের একাধিক শহরে একাধিক সামরিক ও বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায়। ফলে মুখ পুড়েছিল চিনের। এবার পাকিস্তানে তৈরি চিনা প্রযুক্তির বিমান কার্যত মান্ধাতার আমলের মেশিনগানেই ধ্বংস করে দিল মিয়ানমারের এক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর যোদ্ধারা। আর পাকিস্তান থেকে এই যুদ্ধবিমানই কেনার জন্য উন্মুখ বাংলাদেশ। ফলে বোঝাই যাচ্ছে কার দম কত দূর।












Discussion about this post