বাংলাদেশের সেনাবাহিনী কি নিজেদের গরিমা হারিয়েছে? কথায় কথায় সেনাবাহিনীকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কথায় কথায় সেনানিবাস গুড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। চরম অসহায় সেনাবাহিনী। তবে কি অসহায় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান? এবং যারা এই হুমকি দিচ্ছেন, তারা সরকারের উপদেষ্টারা। কিন্তু কেন? কেন তারা এমন হুমকি দেওয়ার সাহস পাচ্ছেন? গত মঙ্গলবার নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী তাদের অন্যতম উইং জাতীয় যুবশক্তির সম্মেলনে যে মন্তব্য করেছেন, সেটা অত্যন্ত অবাক করার বিষয়। তিনি বলেছেন, একটি বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই আমার আপনার পকেটের টাকা চলা ফেরা করে। তারা কত টাকা খরচ করে, কেউ জানতে পারে না। তাদের কোনও দায়িত্ববোধ নেই। জবাব দেয় না। তাদের একটাই কাজ, মানুষকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা। কিছু হলেই আয়না ঘরে তুলে নিয়ে যায়। আমরা আয়না ঘরে কেন, ডিজিএফআইযের হেড কোয়াটার ভেঙে গুড়িয়ে দেব। যদি বাংলাদেশে ডিজিএফআই থাকতে হয়, তবে অবশ্যই সেটা সংস্কার করতে হবে। প্রশ্ন এখানেই উঠছে, দেশের এত বড় একটি আইন সংস্থার বিরুদ্ধে উপদেষ্টারা এমন কথা বলছেন, সেখানে দাঁড়িয়ে কি তাদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে, কোনও বিশেষ দূর্বলতার জায়গা থেকে? নাকি তারা ধৈর্য ধরছে, যে কতদূর তারা যেতে পারে?
তবে কেউ কেউ বলছেন,
সেনাবাহিনী এদের ছাড়বে না। অন্তত দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায়। তবে হঠাৎ এই এনসিপি নেতাদের যুদ্ধংদেহী মনভাবের কারণ কি? তারা নিজেরা তো জানে, তাদের জনপ্রিয়তা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। তারপরও এমন হুমকি, হুশিয়ারি কেন দিচ্ছে?
গোপালগঞ্জের ঘটনার সময় দেখা গিয়েছে, সেনাবাহিনী তাদের নিরাপত্তা দিয়ে ওই ঘটনা থেকে বের করে নিয়ে এসেছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বহু সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে সেনাবাহিনীকে। এমনকি পরবর্তী এনসিপির বেশ কিছু কর্মসূচিতে জনগণের রোষের মুখে পড়তেই সেনাবাহিনী তাদের রক্ষা করেছে। বেশ কিছু জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের মুখে সেনাপ্রধান এবং সেনাবাহিনীর ভুয়সী প্রশংসা শোনা গিয়েছে। কিন্তু আবার দেখা যাচ্ছে, নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর মত নেতাদের মুখে এমন বক্তব্য!
এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ট্রেসি এন্ড জেকাবসনের সঙ্গে বৈঠকের পর উপদেষ্টারা বলে উঠলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না, সেটা আগেই বলেছিলেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। অর্থাৎ প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস যে যে বলেছেন, তাতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, সেটার বিরুদ্ধে যাবেন। ফলে গোটা বাংলাদেশে একটা অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হতে যাচ্ছে।












Discussion about this post