কোটা না মেধা, আইফোন আইফোন। বিএনপি এবং তার সহযোগী দলগুলির মধ্যে থেকে এমন স্লোগান শোনা গিয়েছে গোটা বাংলাদেশ জুড়ে। আসলে সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি কথোপকথনের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়েছে। এনসিপি নেতা সারজিস আলম কোনও একটি মহিলার সঙ্গে কথপোকথন হচ্ছে। তার মধ্যে আইফোনের রশিদ দেখানো হচ্ছে। এমনকি ওই আইফোনটি সারজিস আলমের জন্য কেনা হয়েছে বলে বলা হচ্ছে। এবং সেটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হবে, সেটি নিয়েও বলা হয় কথোপকথনে। এটি সামনে আসতেই অনেকে মনে করেছিলেন, ছাত্রনেতাকে বিতর্কের মধ্যে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি উল্টে গিয়েছে যখন সারজিস আলম ফেসবুকে পোস্ট দেন। তিনি এই ঘটনাটি একরকম স্বীকার করে নিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি আবার, গোয়েন্দা এজেন্সি গুলি ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। অনেকে আবার বলছে, তোলাবাজিতে হাত পাকাতে গিয়ে ফেঁসে গিয়ে এখন বিএনপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে আঙুল তুলছে তারা।
সারজিস আলমের সঙ্গে এক মহিলার কথোপকথন এর কয়েকটি স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, এক মহিলা সারজিসের জন্য একটি আইফোন কিনেছে। এমনকি সেটা কোথা থেকে সংগ্রহ করা হবে, সেটাই ওই কথোপকথনে বলা হয়েছে। এমনকি সেখানে লেখা, গুলশানে রয়েছি, সেখানে এসে সংগ্রহ করে নিয়ে যান। অনেক দেরি করে ফেলেছেন। অনেকে অপেক্ষা করছিল। সবাই চলে গিয়েছে। এমন কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে এই কথোপকথনে।
অন্যদিকে সারজিস আলম ফেসবুকে নাটকের স্ক্রিপ্ট বলে উল্লেখ করে তিনি লেখেন, মাসের পর মাস বারবার কল ম্যাসেজ দিয়ে পার্টির ১-২জন টপ লিডারের সঙ্গে যেকোনও মূল্যে কথা বলতে হবে। নিচে Mission-successful উল্লেখ করে ফের লেখেন,
পার্টির এগিয়ে যাওয়ার জন্য নিঃস্বার্থভাবে আবেগ অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ করে, দানবীর হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করে স্বপ্রণোদিত হয়ে স্বেচ্ছায় পার্টির বিভিন্ন প্রোগ্রামে সহযোগিতা করতে হবে। এর মাধ্যমে পার্টির টপ কয়েকজন লিডারের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে হবে।
নিচে আরও লিখে জানান, ভালো সম্পর্ক তৈরি হলে সেই সম্পর্কের দোহাই দিয়ে, পূর্ববর্তী সহযোগিতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে এবং পরবর্তীতে আরও সহযোগিতা করা হবে এই আশ্বাস দিয়ে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা, ব্যবসা, টেন্ডার চাইতে হবে। Mission- Failed.
যদি দুর্ভাগ্যক্রমে কাঙ্খিত চাওয়া না পূরণ হয় তখন হোয়াটসঅ্যাপ কনভারসেশনের স্ক্রিনশট, ভয়েস ম্যাসেজ, চুরি করে করা সহযোগিতার ভিডিও এসব অন্য রাজনৈতিক দলের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টদের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করার পুরাতন ও নোংরা রাজনৈতিক গেইম খেলতে হবে। অর্থাৎ সাম্প্রতিক তার বিরুদ্ধে এবং আরেক ছাত্র নেতা বিরুদ্ধে ৭ লক্ষ টাকার নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে উল্লেখ করতে চেয়েছেন সারজিস আলাম। তিনি কিছু উপদেশ দিয়ে লিখেন, প্রিয় ধান্দাবাজ বাটপার আপু, এরপর থেকে যার সাথে বাটপারি করবেন, আইফোন কেনার ফেইক ম্যমোতে তার নাম দিয়েন। তাহলে বেশি গ্রহণযোগ্য হবে। আরো ভালো হবে যদি এমন সস্তা জিনিস দিয়ে স্ক্রিপ্ট না বানিয়ে দামি কিছু দিয়ে বানান।
অর্থাৎ ছাত্র নেতাদের কাছে আইফোন যে নিত্যান্তই সস্তা বিষয় সেটা উল্লেখ করতে চাইলেন সারজিস। বলতে চাইছেন কোনও গোয়েন্দা এজেন্সির এগুলি কাজ। প্রশ্ন উঠছে, গোয়েন্দা এজেন্সি গুলি তো সরকার চালায়। সরকার তো ছাত্রনেতাদেরই। সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস তো ছাত্র নেতাদের স্নেহ করেন। তাহলে কেন এই বক্তব্য? এর পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে, দিনের পর দিন ছাত্র নেতাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে, সাধারণ মানুষ তাদের উপর আস্থা রাখতে কি করে? যদিও দেখার, এর জল কোথায় গিয়ে গড়ায়!












Discussion about this post