আমি কে, তুমি কে…রাজাকার রাজাকার। এমন স্লোগান শোনা গিয়েছিল গত বছর ১৪ই জুলাই। বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। তারপরই দেখা যায়, রাজপথে নামে ছাত্ররা। তার কিছুদিনের মধ্যে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। গঠিত হয় মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই একই স্লোগান এবার শোনা গেল ২০২৫ এর ১৪ ই জুলাই। বিএনপি সহ তার সহযোগী সংগঠনগুলি শাহবাগ সহ একাধিক জায়গায় মিছিল করে। অন্যদিকে জামাত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির বিরুদ্ধেও স্লোগান তুলেছে তারা। তবে প্রশ্ন উঠছে, বিএনপি কি পারবে তাদের অবস্থান ধরে রাখতে? ফের কি বাংলাদেশ পরিবর্তনে জনজোয়ার বাংলাদেশে? তবে কি ভয় পেল ইউনূসের সরকার?
গত বছর ছাত্ররা কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। কিন্তু শেখ হাসিনা ছাত্রদের শান্ত থাকার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি মেধা আর কোটার বিষয়টি পরিষ্কার ভাবে তুলে ধরেন। তারপরই তিনি বলেন, মেধা আর কোটা আলাদা। মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার কোটা পাবে নাতো কি রাজাকার পাবে? তার বক্তব্যের ওই টুকু অংশ তুলে নিয়ে শুরু হয় আন্দোলন।আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, শেখ হাসিনা বিক্ষোভে জড়িত সমস্ত শিক্ষার্থীকে রাজাকার বা রাজাকারের উত্তরসূরি বলেছেন। তারপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে স্লোগান ছড়িয়ে পড়ে, তুমি কে, আমি কে, রাজাকার রাজাকার। এরপরই প্রবল বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তবে এই বিতর্ক ১১ মাসেও শেষ হয়নি। এই ধরনের স্লোগানে বাংলাদেশে রাজকারদের যুদ্ধপরাধীকে মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল। ৫ ই আগস্টের পরবর্তী সময়ে এই স্লোগানের নানা রকম ব্যাখ্যা পাওয়া গিয়েছে। এমনকি জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, এই স্লোগানটি সরকার পতনের ক্ষেত্রে সবথেকে শক্তিশালী একটি স্লোগান। তিনি দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে আওয়ামী লীগের বিভাজনের রাজনীতি অকেজো হয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে মহম্মদ ইউনূস হাজির করেছেন, বহুল প্রচলিত রিসেট বাটন তত্ত্ব। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, প্রথমে স্বীকার করতে হবে, ছাত্ররা বলেছে, আমরা রিসেট বাটন পুশ করেছি, এভরিথিং ইজ গন। অতীত নিশ্চিত ভাবে চলে গিয়েছে। এখন নতুন ভঙ্গিতে আমরা গড়ে তুলবো। দেশের মানুষও তাই চায়। নতুন ভঙ্গিতে চলার জন্য যেটা আছে সেটা আমাদের সংস্কার করতে হবে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি গত বছর ১৪ জুলাই রাতে ওই স্লোগানের মাধ্যমে পুশ করা হয়েছিল রিসেট বাটন? পরবর্তীকালে বিভিন্ন নেতৃত্বের বক্তব্য থেকে বোঝা গিয়েছে, পুরো আন্দোলনটি ছিল মেটিকুলাস ডিজাইন। এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে, বাংলাদেশের জন্মের বিরোধিতা করা রাজাকার অপরাধ আড়ালের জন্যই কি এমন স্লোগান?
অদ্ভুতভাবে ফের রাজপথে দেখা গেল ওই স্লোগানে মুখরিত হতে। এমনকি বিএনপি রাস্তায় নেমেছিল তাদের সহযোগী সংগঠনগুলিকে সঙ্গে নিয়ে। এমনকি শোনা যায়, জামাত শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়, বিএনপির মিছিলে স্লোগান। শুধুমাত্র জামাত নয়, এনসিপির বিরুদ্ধে ওঠে স্লোগান। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছে ছাত্রনেতারা। তারা বিএনপিকে চাঁদাবাজদের দল বলে উল্লেখ করেছে।
লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর বিএনপি মনে করেছিল, সরকারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ক্রমশ দূরত্ব বাড়ছে। তবে বিএনপি যে সোচ্চার হচ্ছে, তাতে শেষ পর্যন্ত কি তাদের অবস্থান ধরে রাখতে পারবে? উঠছে প্রশ্ন।












Discussion about this post