এইবারের নির্বাচনে জামায়েত-এনসিপি একজোট হয়ে নির্বাচন করল। এই জোটে ১১টি দল ছিল। ফলাফল তারা যেমন চেয়েছিল, সেটা হয়নি। কিন্তু অন্য দিক থেকে দেখলে বোঝা যায়, জামায়েত বিগত বছরগুলোর তুলনায় যথেষ্ট ভালো ফল করেছে। ৬৮ টি আসন জামায়েত এককভাবে পেয়েছে। এর আগে জামায়াতের সর্বোচ্চ আসন ছিল ১৮। অর্থাৎ ৫০টি আসন বেড়েছে। অনেকে বলছেন, এতে আওয়ামী লীগের অনেকটা ভূমিকা। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি অনেকটা ভূমিকা রেখেছে। সে যায় হোক, এনসিপি সর্বমোট এই নির্বাচনে ৬টি আসন পেয়েছে। তবে জোট সঙ্গী হিসাবে জামায়েতের হাত ধরে। কিন্তু এনসিপি নেতারা যে ধরনের বক্তব্য রাখছেন কিংবা যে ধরনের আচরণ করছেন, তাতে মনে হচ্ছে তারা নিজেরাই জয়ী হয়েছেন এককভাবে। জামাতের ডাকসাইটের নেতা ডা শফিকুর ইসলাম মাসুদ ফেসবুক পোস্টে লিখছেন, এনসিপির নেতারা অকৃতজ্ঞ। অর্থাৎ এনসিপি নেতারা যে কোনওভাবেই জামায়েতের উপর কৃতজ্ঞতা রাখছে না, সেটাই বলার চেষ্টা করলেন তিনি। অনেকে বলছেন, তবে কি ভাঙনের পথে জামায়াত-এনসিপি? আর সেটা কি বিএনপির চাপে?
জামায়েত নেতা ডা শফিকুর ইসলাম মাসুদের ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে নানা রকম আলোচনা চলছে। তিনি ফেসবুকে লিখছেন,এনসিপি নেতাদের কোনও কৃতজ্ঞতা বোধ নেই। অনেকেই বলছেন, এই কথার মাধ্যমে এনসিপি,জামায়েত জোটে ভাঙন সৃষ্টি হতে পারে। তাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই একটি মনমালিন্য তৈরি হয়েছে। শফিকুর ইসলাম মাসুদ অবশ্য ফেসবুক স্ট্যাটাস দিতে গিয়ে বলেন, দুজন এনসিপি নেতা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। তিনি লিখছেন, এমসিপির ৬জন এমপি হইছে। এর নব্বই শতাংশ ক্রেডিট জামাতদের। বিজয় দের মধ্যে আক্তার ও পরাজিতদের মধ্যে দিলশানা পারুল ব্যতীত কাউকে দেখিনি জামায়েত ও তাদের নেতাকর্মীদের শ্রমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে। মিনিমাম সৌজন্যবোধ দেখাতেও ব্যর্থ হয়েছে দলগত ভাবে এনসিপি। এখন প্রশ্ন, নাহিদ ইসলাম কি মনে করছেন ঢাকা ১১ আসনে এনসেপির ভোটে তিনি জিতেছেন? তিনি কি জামায়েতের সঙ্গে জোট করার পরও, সেই জোটে জয়লাভ হওয়ার পর কোনওভাবেই জামায়াতের ওপর কৃতজ্ঞ বোধ করছেন না? হাসনাত আব্দুল্লাহ যে এক লক্ষেরও বেশি ব্যবধানে জিতলেন, তাতে কি কোনওভাবেই ক্রেডিট দিচ্ছেন না জামায়েতকে? এই প্রশ্ন উঠছে। কারণ প্রথম দিকে দেখা গিয়েছিল, এনসিপি বড় মুখ করে বলেছিল, তারা একাটই নির্বাচনে জিতবে। কিন্তু পরিস্থিতি ঘুরতেই তারা জোট করে জামায়েতের সঙ্গে। এদিকে জামায়েত নারীদের দুর্বল মনে করে। তারা নারী প্রার্থী দিতে নারাজ। সেই কারণে এনসিপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বহু এনসিপির নারী প্রার্থীরা। তাসনিম জারা থেকে শুরু করে বহু নেত্রী এনসিপি ত্যাগ করেন। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে দাঁড়ান। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমনিতেই নির্বাচনের আগে দল ভেঙেছে এনসিপির। এরপর নির্বাচনের পরও দেখা যাচ্ছে, এনসিপির মধ্যে ঐক্য নেই। ফলে প্রশ্ন উঠছে, দলটা কি আর থাকবে? ৬টি আসন পেলেও তারা সামান্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করাতে গোটা বাংলাদেশ জুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এখানে জামায়েতের সঙ্গেও ভাঙনের ইঙ্গত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেউ কেউ আবার বলছেন, বিএনপির চাপে জামায়েত-এনসিপি ভাঙনের পথে। এখন দেখার, শেষমেশ কি পরিস্থিতি তৈরি হয়।
.












Discussion about this post