হিমালয়ের পাদদেশে ছবির মতো সুন্দর ছিমছাম এক ক্ষুদ্ররাষ্ট্র নেপাল। যেখানে বরাবরই শান্তিপ্রিয় হিন্দু ও বৌদ্ধদের সহাবস্থান ছিল। কিন্তু সেই শান্তিপ্রিয় নেপালের সড়কে এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে সেনাবাহিনী। তা সত্ত্বেও বিক্ষিপ্ত প্রতিবাদগুলি হিংসাত্মক রূপ নিচ্ছে বহু জায়গাতেই। অনেকটাই গত বছর জুলাই-আগস্টের বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি। তবে তফাৎ একটাই। বাংলাদেশে দুই থেকে তিন মাস লেগেছিল পালাবদল ঘটতে, আর নেপালে সময় লাগলো মাত্র ৩৬ ঘণ্টা। আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এত কিছু সত্ত্বেও ‘জেন জি’ গোষ্ঠীর দাবি, গত দুদিন ধরে যে ভাঙচুর, অগ্নিকাণ্ড, লুটতরাজসহ ধ্বংসাত্মক কাজ চলছে তার সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁদের বক্তব্য, তাঁদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে বাইরে থেকে ঢুকে পড়া সুবিধাবাদী শ্রেণির লোকজন। অর্থাৎ সেই বহিরাগত তত্ত্ব সামনে আসছে।
মঙ্গলবার নেপালের সেনাপ্রধানের চাপেই পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। সেই সঙ্গে পদত্যাগ করেছিলেন একাধিক মন্ত্রীও। ঠিক যেমন, গত বছর বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানের সময় সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন পদত্যাগ করা ছাড়া আর কোনও রাস্তা খোলা নেই।
নেপালের সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেল মঙ্গলবার রাতে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে বলেন, নেপালের ইতিহাস জুড়ে সেনা সবসময় দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতেও আমরা সেই দায়িত্বে অবিচল। দেখা যাচ্ছে, এই একটি বিষয়ে বাংলাদেশ ও নেপালের সেনাপ্রধানের বক্তব্য পুরো এক। কারণ, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর নেপালের সেনাবাহিনী দেশের নিরাপত্তা রক্ষার ভার নিলেও তাদের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কাঠমান্ডুর ত্রিভূবন নারায়ণ বিমান বন্দর রক্ষা করা ছাড়া সেনার আর কোনও সক্রিয় ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। বুধবারও নেপালে সংঘর্ষ, অশান্তি, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে চলেছে। নেপালের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কোথায় আছেন সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। এরমধ্যেই জেন জ়ি আন্দোলনের নেতৃত্ব বুধবার জানিয়ে দিল পরবর্তী সরকার প্রধান হিসেবে তাঁরা বেছে নিয়েছেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে। মজার বিষয় হল, বাংলাদেশে যেমন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে নেপালে সময় লাগল মাত্র ৩৬ ঘণ্টা। প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান গত বছর ৫ আগস্ট বড় বড় বার্তা দিয়েও এখনও তিনি হাত গুটিয়ে বসে আছেন বলে অভিযোগ। এখন দেখার নেপালের সেনাপ্রধান এই বিষয়ে কতটা সফল হন। তাঁর বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে, সোম ও মঙ্গলবার যখন কাটমাণ্ডু-সহ গোটা নেপাল জ্বলছে, তখন হাত গুটিয়ে বসে ছিল সেনাবাহিনী। তবে জানা যাচ্ছে, বুধবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু শহরের পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সেনাবাহিনী কার্ফু জারি করেছে। হিংসা ও ভাঙচুরের জড়িত বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এমনকি লুঠ হওয়া অস্ত্রশস্ত্র ফেরত দেওয়ার জন্য সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন নেপালের সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেল।












Discussion about this post