ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে জোরকদমে চর্চা শুরু হয়েছে। আমেরিকা নাকি চাইছে দ্রুত নির্বাচন দিতে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসাতে। যাতে বিএনপি আমেরিকার স্বার্থ সুনিশ্চিত করতে পারে। এবং ইউনূসকে দিয়ে ঘোষণা প্রায় করে দিয়েছেন। এদিকে চিন চাইছে না এই নির্বাচন হোক। তারা জামাতকে দিয়ে নির্বাচনের বিরোধিতা করতে শুরু করে দিয়েছে। এদিকে ভারত বলেছে, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করা যাবে না। এনসিপি এই প্রশ্নে দুই ভাগ। একদল ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চায়, আর এক দল ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চায় না। যারা চায় না, তারা ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল চীনে গিয়েছে। এদিকে চিনে রয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। চীনের এসসিও সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জাপান ঘুরে চীনে যাচ্ছেন। জাপান চায়, বাংলাদেশে ইনক্লুসিভ নির্বাচন হোক। অর্থাৎ আওয়ামী লীগকেও সেখানে রাখবেন। বাংলাদেশ নিয়ে পরাশক্তির লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে। অনেকে বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। পরে নির্বাচনের অংশগ্রহণ করতে দেবে না বাংলাদেশ সরকার। এদিকে নির্বাচনে আওয়ামীলীগ অংশগ্রহণ না করতে পারলে, ভারত ও নির্বাচন করতে দেবে না বাংলাদেশের। বলছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
এর মধ্যে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে, তবে কি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে? আওয়ামীলীগের আদেও কি ভবিষ্যৎ রয়েছে? আওয়ামী লীগের কি ভবিষ্যৎ? বাংলাদেশের ২০২৬ শে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে, আন্তর্জাতিক এবং পরাশক্তিদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিত শুরু হয়েছে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মূলত চারটি পক্ষ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চিন এবং রাশিয়া। এরা প্রত্যেককেই কৌশলগত সার্থক নিশ্চিত রাখতে চায়। আমেরিকা যেমন চাইছে দ্রুত নির্বাচন হোক। তারা চাইছে, বিএনপি ক্ষমতায় আসুক। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইন্দ স্পেসিফিক কৌশলে অংশ হিসাবে চিনা প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশে আমেরিকার অবস্থান শক্তিশালী করতে চায়। চীন বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্বাচন চায় না। পরিবর্তে চীন জামাইতি ইসলামিকে সমর্থন দিয়ে এনসিপির এক গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনের বিরোধিতাই নামিয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে জামায়াতে ইসলামি শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল চিনে যায়। এবং আগামী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেছে। চীন এই ভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে নিজের প্রভাব বিস্তার করছে। ভারত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হলে, সেই নির্বাচন একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। শেখ হাসিনার পতনের পর ভারত বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ভারতের অবস্থান হল, নির্দিষ্টভাবে কোনও রাজনৈতিক দলকে সরাসরি সমর্থন না করলেও, ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলকে পছন্দ। সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ পছন্দের প্রথম তালিকায়। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে যদি নির্বাচন হয়, তবে ভারতের তীব্র বিরোধিতা করবে। তবে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আদৌ হবে কিনা, সেটা ঘিরে বিস্তর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং বিভিন্ন দেশের চাপের ফলে নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে বলে মহৎ ওয়াকিবহুল মহলের। খুব সম্ভবত, দেশি-বিদেশি সমঝোতায় নির্বাচন হতে পারে। এবং আওয়ামীলীগ অংশগ্রহণ করতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে যে দূরত্ব তৈরি করেছে, তাতে বাংলাদেশের উপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত। প্রথমেই ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তি বাতিল করে দিয়েছে। এই পাশাপাশি স্থলবন্দর বন্ধ করে দিয়েছে। আরো অ্যাকশন নিতে পারে যদি আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেয় অন্তর্বর্তী কালীন সরকার। বলছে ওয়াকিবহাল মহল।












Discussion about this post