বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা যেভাবে বক্তব্য রাখছেন, তাতে রাজনৈতিক দলগুলির ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দেয়। যদিও এবার বিএনপি অন্য পথে হাঁটল। ফজলুর রহমানকে বহিষ্কার করল দল। আগেই তাকে শোকজ নোটিস পাঠিয়েছিল। তার উত্তরও দিয়েছিলেন ফজলুর রহমান। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট হয়নি দল। তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অনেকে বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন কি কি হয় পরিস্থিতি। ফজলুর আতঙ্কে ভুগছে দল। তবে কি ভুল পথে গেল বিএনপি? এমন প্রশ্ন উঠে আসছে রাজনৈতিক আঙিনায়।
তিন মাসের জন্য ফজলুর রহমানকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। এমনকি বিএনপি সাধারণ যে সদস্য পদ, সেটিও থাকছে না তার। তিন মাস পর যদি বিএনপি মনে করে, তবে পরবর্তী আদেশ দলের তরফে দেওয়া হবে। অনেকে বলছেন, যদি এরপর ফজলুর রহমান রাজনীতি থেকে অবসরে চলে যান, তবে অবাক হওয়ার মত কিছু থাকবে না। দলের তরফে ফজলুর রহমানকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, গত ২৪ অগাষ্ট ২০২৫,সারুকে আপনাকে কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করা হয়।আপনি কারণ দর্শানোর নোটিসের লিখিত জবাব না দিয়ে সময় বর্ধিত করার জন্য আবেদন করেন। সেইমত একদিন সময় বর্ধিত করা হয়। তারপর আপনি কারণ দর্শানোর নোটিসের যে জবাব দিয়েছেন, সেটা সন্তোষজনক নয়। এমনকি বলা হয়, তথাপি বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে, মুক্তিযুদ্ধে আপনার অবদান বিবেচনা করে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে,আপনার প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে সমস্ত দলীয় পদ তিন মাসের জন্য নির্দেশক্রমে স্থগিত করা হল। এমনকি চিঠিতে বলা হয়, এখন থেকে আপনি টকশো বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা বলার সময় দেশের মর্যাদা এবং দলের নীতিমালা যেন ক্ষুন্ন না হয়, এবং দেশের জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতিতে যাতে আঘাত না লাগে, সেই বিষয়ে সদা সতর্ক থাকবেন।
অর্থাৎ বিএনপি মনে করছে, ফজলুর রহমান ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছেন, এবং তিনি জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। কিন্তু ফজলুর রহমান বরাবরই সোজা সাপটা কথা বলে এসেছেন। এবং সেই কারণেই তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র চলছিল বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এমনকি মুক্তিযুদ্ধকে দ্বারা কালিমা লিপ্ত করার চেষ্টা করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন ফজলুর রহমান। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, আদেও কি বিএনপিও সঠিক অবস্থান নিল? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি ফজলুর রহমান দুর্নীতি করতেন কিংবা এমন কোনও অপরাধ করতেন, যেখানে তাকে ওন করার জায়গা থাকতো না, তখন তাকে বহিষ্কার করা যেত। কিন্তু তাকে এখন বহিষ্কার করা হল, এনসিপি এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে খুশি করার জন্য। এর খুশি করার কারণ হিসাবে অনেকে বলছেন, বিএনপি যে কোনও মূল্যে নির্বাচন চায়। আর নির্বাচন হলে তারা ক্ষমতায় যেতে পারবে। এটাই তাদের এখন রাজনৈতিক এজেন্ডা। এর জন্য যদি ফজলুর রহমানের মত কয়েকটি নেতাকে সরিয়ে দিতে হয়, বিএনপি সেটাতে রাজি হবে। বলছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
তবে কি রুমিন ফারানার ক্ষেত্রেও একই পথে হাঁটতে চলেছে বিএনপি?












Discussion about this post