২৭ তারিখ কি বিচারপতির রায়ে
ইউনূস যুগের সমাপ্তি? অনেকে বলছেন, খাদের কিনারায় মোহাম্মদ ইউনূস। বহু আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আগামী ২১ অক্টোবর এই বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেন।
কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ট্রে এন্ড জেকাবসন, তিনি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রিফাত আহমেদের বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেই সাক্ষাতটি নিয়ে নানা ধরনের কথা হয়েছে বিভিন্ন সময়। কারণ, সমস্ত প্রথা ভেঙে হঠাৎ প্রধান বিচারপতির বাসভবনে কেন সাক্ষাৎকার! অনেকে এই রায়ের সঙ্গে যোগসাযোগ খোঁজার চেষ্টা করছেন।
সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের রিভিউ আবেদনের শুনানি ছিল। বিএনপি’র পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামাত সহ আরও একটি পক্ষ থেকে এই সংশোধনীর রায় বাতিলের রিভিও অবদনের শুনানি।
পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসার পথ সুগম হয়েছে। পুরোপুরি ফিরে এসেছে, সেটি বলা যাবে না। তবে এই রিভিউ অবদনে বিষয়টি গ্রাহ্য হয়েছে।
তবে জানা উচিত, তত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হয়েছিল কিভাবে। জানা যায়, দুইভাবে বাতিল হয়েছিল তত্বাবধায়ক সরকার। একটি হচ্ছে, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন যে আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করেছিল। যে সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা স্থাপিত হয়েছিল সংবিধানের সংসদের মাধ্যমে। আদালতের মাধ্যমে একবার বাতিল হল, আবার বাতিল হল খুব শক্তভাবে সেই রায়ের আলোকে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদের দ্বারা। অর্থাৎ সংসদের ধারা যেটি সংশোধনী হয়েছিল সেটি বাতিল হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকার খানিকটা ফিরে এসেছে। বাধা হয়েছিল, এই ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের যে রিভিউ আবেদন তার শুনানির বিষয়টি। যদিও এদিন শুনানিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
অন্যদিকে শুনানিতে রায়ের পর কীভাবে কার্যকর হবে, সেই বিষয়টি নিয়ে আপিল বিভাগ জানতে চাইলে নতুন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আপিল বিভাগ পর্যবেক্ষণ দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মহম্মদ আসাদুজ্জামান।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, গত দেড় দশকে দেশের মানুষ শাসিতের পরিবর্তে শোষিত হয়েছে। গুম, খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যেসব ব্যবস্থা ছিল, সেগুলি ধ্বংস করা হয়েছে এবং মানুষ বিচার পায়নি। যার কারণে এই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে। তিনি সেই সময় ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন।












Discussion about this post