অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফট্যান্ট জেনারেল (অব) জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী বলেছেন, দেশে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল কমেছে। এর কৃতিত্ব তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এই ধরনের মিছিল আগামীদিনে ধীরে ধীরে নির্মূল হয়ে যাবে। বুধবার ঢাকায় সাংবাদিক সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ঝটিকা মিছিলের সংখ্যা কমেছে। এক সময় আমরা এক লপ্তে আওয়ামী লীগের ১৪৪ জন সমর্থককে গ্রেফতার করি। ওই ঘটনার পর থেকে দলের অতর্কিত মিছিল বা ঝটিকা মিছিলের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে কমে গিয়েছে।’ জনগণের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘আপনারা সাহায্য, সহযোগিতা করলে অনেক কমে যাবে। আস্তে আস্তে নির্মূল হয়ে যাবে। ’ দেশে অপরাধ সংঘটিত সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জনগণ নির্বাচিত হলে দেশে অপরাধও কমে আসবে।’
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সব রাজনৈতিক দলে সহযোগিতা প্রয়োজন। সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার দেশের জনগণ। জনগণ নির্বাচনমুখী হলে কোনও শক্তি নির্বাচন বানচাল করতে পারবে না।’ এই প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন চায়ের দোকানে, পাড়ায় নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে আলোচনা। জাহাঙ্গির আলম বলেন, দেশবাসী অত্যন্ত সচেতন। তাই, নির্বাচন হবে এবং সেটি হবে অবাধ ও সুষ্ঠু। এর জন্য আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
প্রশ্ন হল, আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল কমে যাওয়ার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কৃতিত্ব কি আদৌ যুক্তিযুক্তি। এরকম নয় তো যে আওয়ামী লীগ এবার অন্যরকমভাবে তাদের আন্দোলনের ঘুঁটি সাজাচ্ছে? সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, আওয়ামী লীগ যে ঝটিকা মিছিল কর্মসূচি নিয়েছে, সেই রিপোর্ট গোয়েন্দারা পাননি। ফলে, হাসিনা অনুগামীরা যখন রাস্তায় নামে, তখন সরকারকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, আওয়ামী লীগ এবার বড় ধরনের কর্মসূচি নিয়েছে। বাংলাদেশে কান পাতলে শোনা যাবে বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ অনেক বেশি শক্তিশালী। তাই, তাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করেও সরকার শান্তিতে থাকতে পারেনি। না ঘরে, না বাইরে। জাতিসঙ্ঘে সাধারণ সভায় ভাষণ দিতে নিউ ইয়র্ক গিয়েছিলেন ইউনূসবাহিনী। তাদের সেখানে যার পর নাই হেনস্তা হতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ যাতে আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, তার জন্য তদারকি সরকারের ওপর ভারত কূটনৈতিকভাবে চাপ তৈরি করেছে। চাপ দিচ্চে আমেরিকা এবং তাঁর মিত্র দেশ। বাড়তি অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগ। কখন তারা কী করবে, কোথায় করবে, তার তল খুঁজে পাচ্ছে না তদারকি সরকার। তাই, দেশে সরকার বিরোধী কোনও কিছু হলেই ইউনূস এবং তাঁর সঙ্গী সাথীরা ভারতের দিকে আঙুল তুলছে। খাগড়াছড়ির ঘটনাতে দেখা গিয়েছে, তদারকি সরকার দায়ী করছে ভারতকে। যদিও সাউথব্লক সোজা ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে তাদের বিন্দু বিসর্গ কোনও সম্পর্ক নেই। এমনকী অসুরের গোঁফ ঘটনাতেও তিনি ভারতের চক্রান্ত দেখতে পাচ্ছে।
মূল সমস্যা অন্য জায়গায়। আওয়ামী লীগ কেন অক্সিজেন পাচ্ছে? কে সাপ্লাই করছে? এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে অক্সিজেন সাপ্লাই করছেন হাসিনা। আর দীর্ঘদিন ক্ষমতা থাকার ফলে, দলের যে সব নেতা দুর্নীতির জালে জড়িয়ে গিয়েছিলেন, তারা হয় আত্মগোপন করেছেন। না হলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে। দলকে বাঁচিয়ে রেখে বঞ্চিত, শোষিত সদস্যরা। তাঁরাই ইউনূসের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেছেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post