কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের ঘটনার দগদগে ঘা বোধ হয় এত সহজে নির্মূল হবে না। তাই ভারতের তরফে পাকিস্তানের প্রতি এত কড়া পদক্ষেপ। যা এর আগে কখনও ভারত করেনি। এইবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের তিন বাহিনীকে পূর্ণ ছাড় দিয়ে দিলেন। আর এই খবরে খানিকটা বিপর্যস্ত হয়েছে পাকিস্তান। তারা মনে করছে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান আক্রমণ করবে ভারত। আসলে মুখে লম্বা চওড়া কথা বললেও পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে ভয় রয়েছে ভরপুর। এদিকে ভারতের হচ্ছে একের পর এক বৈঠক। আর এতেই ঘুম ছুটেছে তাদের। পাকিস্তান মনে করছে, লাহোর আক্রমণ করবে ভারত। আর তাই সেনা নিয়ে পরিপাটি পাকিস্তান। অনেকে বলছেন, স্রেফ ভয় থেকে পাকিস্তানের এই কার্যকলাপ।
ভারতে ক্যাবিনেট কমিটির অব সিকিউরিটির হাই ভোল্টেজ বৈঠক হল। কি কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হল সেখানে? জানা যাচ্ছে, এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। সিডিএস প্রধান জেনারেল অনিল চৌহান এবং তিন বাহিনীর প্রধান। সেখানে আলোচিত হয়, যেন কোনভাবেই আর্মির অ্যাকশন ভুল না হয়। এবং তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে দেওয়া হয় যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে। সূত্র মারফত খবর, pok এর জঙ্গি ঘাটিগুলিকে শেষ করা এবং আপামর পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে কিভাবে আক্রমণ আনা হবে, সেগুলি ঠিক হয়। ভারত যদি পাকিস্তানের উপর কোনওভাবে আক্রমণ করে তবে গ্লোবাল কমিউনিটির কথা মাথায় রাখতে হবে। আসলে ডিপ্লোম্যাসির সবথেকে বড় একটি বিষয় হল, গ্লোবাল কমিউনিটি ঠিক কি ভাবছে। কারণ এই বিষয়টির সঙ্গে নিজস্ব ইমেজ জড়িয়ে রয়েছে। ভারতের কাছে একাধিক অস্ত্র, পারমাণবিক শক্তি থাকলেও পাকিস্তানের মতো সেই হুমকি দেয় না। ভারত শান্তিতে বিশ্বাস করে। কোনও ভাবেই ভারতবর্ষ পাকিস্তানের মত হুমকি হুঁশিয়ারিতে বিশ্বাস করে না। কিছুদিন আগে পাকিস্তানের তরফে বলা হয়েছিল, ১৩০ টি নিউক্লিয়ার ইয়ার হেডস ভারতের দিকে তাক করানো আছে। এমনকি সেগুলি নাকি ভারতের জন্যই রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। উল্টো দিকে ভারত এখনো পর্যন্ত পারমানবিক শক্তি নিয়ে কোনো রকম বিবৃতি দেয়নি। এই পরিস্থিতিতে ভারতবর্ষ যদি যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করে, তবে তারা গ্লোবাল কমিউনিটিতে বলতে পারবে, নিজের দেশকে আত্মরক্ষা করার জন্য এই পদক্ষেপ। ঠিক এই সময়, যখন ভারত একাধিক বৈঠক করছে, তখন পাকিস্তান হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে, বড় কোন সিদ্ধান্ত তাদের বিরুদ্ধে আসতেই পারে। এই মুহূর্তে পাক সেনাপ্রধান দেশে নেই। এমনটাই শোনা যাচ্ছে। এবং বলা হচ্ছে সেনাপ্রধান কেন চুপ করে আছে? এই নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে পাকিস্তানের অন্দরেই।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ভাবতে শুরু করেছে, ভারত হয়তো লাহরকে আক্রমণ করতে পারে। এর জন্য যেভাবে তারা সেনা মোতায়েন করছে, তাতে স্পষ্ট, আগাম সতর্ক হতে রয়েছে। লাহোর কেন্দ্রিক অঞ্চলে PCL 181 মিসাইলকে মজুত করছে। এবং চীনের একাধিক অস্ত্র লাহোরের নিকটবর্তী স্থানে নিয়ে আসছে। SH 15 155mm, একাধিক মিসাইল একাধিক অস্ত্র নিয়ে সজ্জিত পাকিস্তান। অন্যদিকে দেখা গিয়েছিল শিয়াল কোট এর কাছে বিভিন্ন অস্ত্র মজুদ করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে সে সমস্ত অস্ত্র তারা LOC এর কাছে নিয়ে আসছে। এছাড়াও লাহোর কেন্দ্রিক বিভিন্ন জায়গায় অস্ত্র মজুদ করছে তারা। আসলে তারা ভাবছে ভারতবর্ষ পাঞ্জাব বর্ডার দিয়ে কিছু করতে পারে।
এছাড়াও পাকিস্তানের সেনার তিনি ধরনের রেজিমেন্ট মুভমেন্ট দেখা গিয়েছে। সিন্ধ রেজিমেন্ট যারা ছিল, তাদের সামনের দিকে এগিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে পাকিস্তান ফ্রন্টিয়ার রেজিমেন্টকেও দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ loc এর যাচ্ছে সেনা, অস্ত্র মোতায়েন করতে শুরু করে দিয়েছে পাকিস্তান। এর পাশাপাশি পাকিস্তান এয়ার ফোর্স হ্যামার স্ট্রাইক মোতায়েন করছে জম্মু সীমান্তে। অনেকেই বলছে, সেটা ভারতকে দেখানোর জন্যই এটা করছে তারা। এখন দেখার, ভারতের কাছে পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে, ভয়ের চোটে আর কি কি করে পাকিস্তান!












Discussion about this post