সম্প্রতি পাকিস্তানের এক সেনাকর্তার সাক্ষাৎকার নেয় একটি গণমাধ্যম। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর লেফট্যান্ট
জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী। তিনি আবার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বটে। সেখানে তাকে প্রশ্ন করা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতকে অশান্ত করার চেষ্টা করলে গোটা পাকিস্তানকে তারা শেষ করে দেবে। এই নিয়ে কি বলবেন? তখন ওই সেনাকর্তা বলেন, আপনারা কি করে ভাবছেন, পাকিস্তান বসে থাকবে? পাকিস্তান পূর্ব দিক থেকে অ্যাটাক করবে। অর্থাৎ তারা যে বাংলাদেশের দিক দিয়ে আক্রমণ শানাবে, সেটা বুঝতে বাকি নেই প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের। তবে কি আরো একটি যুদ্ধ বাঁধতে চলেছে বিশ্ব দরবারে?
অর্থাৎ বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতকে আক্রমণ করতে চায় পাকিস্তান। এদিকে শোনা যাচ্ছে, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসাক দার বাংলাদেশ সফরে আসছেন। এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের কি সম্পর্ক হবে সেটা ভারত ডিসাইড করবে না। ঠিক যেমনটা পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের কি সম্পর্ক হবে, সেটাও আমরা ডিসাইড করি না। অর্থাৎ রাজনৈতিক মহল বলছে, এটা ভারতকে হুঁশিয়ারি দিল বাংলাদেশ।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের সঙ্গে লড়াই করেছিল ভারতের সেনাবাহিনী। পাকিস্তানকে পরাজিত করেছিল ভারত। তারপর থেকেই ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক হয়ে ওঠে অভূতপূর্ব সুন্দর। সেই পরম্পরা চালিয়ে গিয়েছিল বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ভারত বিদ্বেষ বাড়ে। আর বাংলাদেশ ঝুকে পড়ে পাকিস্তানের দিকে। তার উপর পাকিস্তান সেনা কর্তার একটি বিস্ফোরক দাবি। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর লেফট্যান্ট
জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ভারতকে আক্রমণ করতে পূর্ব দিক ব্যবহার করবে পাকিস্তান। পূর্ব দিক বলতে কি বোঝাতে চাইলেন তিনি? পাকিস্তানের পূর্বে ভারত থাকলেও ভারতের পূর্ব সীমান্তে রয়েছে বাংলাদেশের উত্তর পূর্ব অংশ। বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডোর। যদি ভারতের জন্য স্পর্শকাতর এলাকা। এটি চিকেন নেক নামে পরিচিত। গত ছয় মাসের খবর, এই এলাকাতে সবথেকে বেশি সেনা মোতায়ন করেছে ভারত। এমনকি ভারতের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের কিছু সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ভারতের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসবাদের সাহায্য করেছে। তাহলে পাকিস্তানের এই হুমকি কি যৌথ সাময়িক হামলার হুমকি? তবে এই বিষয়ে ভারত এখনও সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে বাংলাদেশের উপর ভারত নজর রাখছে। জানিয়েছেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এমনকি ভারত বাংলাদেশ পাকিস্তানের চুক্তিকে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। এমনকি বাংলাদেশ চীন ও পাকিস্তানের প্রভাব অত্যন্ত বাড়ছে। সেটাও নজর এড়ায়নি নয়া দিল্লির।
জানা যাচ্ছে, ভারত শিলিগুড়ি করিডোরে নিরাপত্তা নিয়ে রেখেছে। সেখানে বিমানবাহিনী এবং মাউন্টেন্ট ডিভিশনে সেনা মোতায়েন, ত্রিপুরা ও মেঘালয় সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এমনকি বাংলাদেশ সীমান্তে বেশকিছু জায়গায় মহড়া করছে ভারতীয় সেনা। এদিকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দাবি করছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক মহড়া নিরপেক্ষতার ভিত্তিতেই করা হচ্ছে। এটি ভারতের বিরুদ্ধে নয়। বরং দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চেষ্টা করা হচ্ছে মাত্র। অনেকেই বলছেন, পাকিস্তান এবং চীন যেভাবে চালনা করছে বাংলাদেশকে, সেই ভাবেই বাংলাদেশ কাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিবৃতি দিচ্ছে।
সেই কারণেই কিছুদিন আগে দেখা গিয়েছে, বাংলাদেশী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন একটি বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, আমরা যেমন ভারত পাকিস্তান সম্পর্ক কি হবে ডিসাইড করি না। কিভাবে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সম্পর্ক কি হবে সেটা ভারত ডিসাইড করবে না। আন্তর্জাতিক মহল বলছে, এমনিতেই ভারত বাংলাদেশকে চাপে রেখেছে। স্থলবন্দর বন্ধ করে দেওয়া থেকে ট্রানশিপমেন্ট বাতিল। এমনকি আরও বড় কোনও একশন নিতে পারে ভারত। কারণ পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকেও জঙ্গিবাদী দেশ করে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করতে ভারতের সময় লাগবে না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, মায়ানমারের মত বাংলাদেশেও সামরিক অভিযান চালাতে পারে ভারত।
তাই এখন প্রশ্ন, বাংলাদেশ কি পাকিস্তানকে সাহায্য করতে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে? নাকি নিজেদের ভূখণ্ড বাঁচানোর জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি? এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নই উঠছে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে। তবে প্রথমটি হলে আরও একটি যুদ্ধ বাঁধতে পারে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।












Discussion about this post