বাংলাদেশে জুলাই অভ্যুত্থানের শিল্পীরী ভোট চাইতে গেলে নাকি তাদের কপালে জুটছে মারধর? এনসিপি অবশ্য তেমনই দাবি করছে। কারা মারছে এনসিপি নেতাদের? গত রবিবার দলের তরফ থেকে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলন বসে রাজধানী আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে। সেখানে সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। মুখ্য সমন্বয়ক আরও অভিযোগ করে বলেন, একটি দল বলেছে, প্রশাসনে তাদের লোক থাকতে হবে। প্রশাসনে থাকা আওয়ামী নিয়োগপ্রাপ্ত লোকদের এখনো সরানো হয়নি। তাদের সরানোর দাবি জানান তিনি। প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা সৎ প্রার্থী দিচ্ছি এটাই আমাদের চমক। এটাই বাংলাদেশের ৫৩ বছরের রাজনীতির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চমক।’ চব্বিশের আবেগ ধরে রাখতে গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধিদের সংসদে যাওয়া উচিত উল্লেখ করে পাটোয়ারী বলেন, ‘সংস্কার প্রক্রিয়া সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলির দায়বদ্ধতার অভাবের ফলে সেটা হচ্ছে না। আমরা সংসদে গেলে সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাব। ’
রবিবারের সাংবাদিক সম্মেলনে ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম কুশীলব নাহিদ ইসলাম। ভোটের মুখে তারা যে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে পারে। তবে সেই সমঝোতার লক্ষ্য কখনই হবে না ক্ষমতা ভোগ করা বা যত বেশি সংখ্যক আসন সম্ভব নিজেদের দখলে ধরে রাখা। নাহিদ বলেন, ‘আমাদের যদি কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা হয়, সেটা একটা নীতিগত জায়গা থেকে হতে হবে। কোনো ধরনের ক্ষমতার জন্য আসনের জন্য আমরা কারও সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা করবো না।’ এমনকী এটি আসনও তারা না পেলেও দল তাদের আদর্শ, লক্ষ্য,নীতিতে অটুট থাকবে বলে জানিয়ে দেন নাহিদ। মুখ্য সংগঠক (উত্তর) সারজিস আলম জানান, ‘আগামী নির্বাচনে শক্তিশালী অবস্থান বজায় রাখতে সাংগঠনিক কাজ চলছে। ব্যালট বিপ্লবের মধ্য দিয়ে এনসিপি সংসদে লোক পাঠানোর কাজ করছে।’
কিন্তু যে প্রশ্নটা সব থেকে বেশি করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচিত হচ্ছে এনসিপির নেতা বা কর্মীদের কপালে যদি মার জুটবে সেটা কোনও সংবাদমাধ্যমে দেখা গেল না। ওই দলের পিছনে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের একাংশের তো সমর্থন রয়েছে। তাদের মধ্যে একটিও এই নিয়ে কোনও প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। সেটা রীতিমতো বিস্ময়ের। আর যদি ভোট চাইতে গেলে ওই দলের নেতাদের কপালে মার জোটে, তাহলে তো রাস্তা ছিল। তারা তো রাস্তায় প্রতিবাদ মিছিল বের করতে পারতেন। দরকার হলে যমুনাভবন ঘেরাও করতে পারতেন। সে সব না করে এনসিপির নেতারা খালি পাবলিকের মার হজম করছে, এটা ধরে নেওয়াটা কি ঠিক হবে। অথচ তারা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে সোমবার তারা একটি মিছিল করে। সেই মিছিল থেকে কিন্তু মারধরের বিষয়ে একটি শব্দ খরচ করা হয়নি। দেওয়া হয়নি স্লোগান। আসলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলেও তাদের ভূত এখনও তাদের তাড়া করে বেরাচ্ছে। তাই, যে কোনও একটি বিষয় উত্থাপন করার পর কীভাবে আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গ টেনে শেষ করা যায়, সেটাই এখন তাদের ভাবনা চিন্তায়।
দলটা কিন্তু দেশের তৃতীয় বৃহত্তম দল।












Discussion about this post