ইউনিফাযেড পেমেন্ট ইন্টারফেস, যাকে আমরা ইউপিআই বলে চিনি। বর্তমান সময়ে ছোট পান বা চায়ের দোকান হোক অথবা বড় বড় শপিং মল, আমরা সহজেই কিউআর কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট করে দিচ্ছি। আপনারা জেনে গর্বিত হবেন, এই মুহূর্তে বিশ্বের এক নম্বর রিয়েলটাইম পেমেন্ট ইন্টারফেস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ভারতের ইউপিআই। আর এই স্বীকৃতি দিয়েছে স্বয়ং আইএমএফ। পিছনে পড়ে গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাকার্ড বা মাস্টারকার্ড।
এই মুহূর্তে ভারতের অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থার শিরদাঁড়া হল ইউপিআই। কিউআর কোড স্ক্যান করে বা ইউপিআই আইডি মারফত সহজেই টাকা পাঠানো বা গ্রহণ করা যায়। আর এই পদ্ধতিতে টাকা ট্রান্সফার হয় চোখের নিমেষে। যাকে ব্যাংকিং পরিভাষায় বলা হয় রিয়েল টাইম ট্রানজাকশন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ ভারতের ইউপিআইকে স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্বের এক নম্বর রিয়েল টাইম পেমেন্টস ইন্টারফেস হিসেবে। আন্তর্জাতিক এই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী এই মুহূর্তে ভারতের মোট লেনদেনের প্রায় ৮৫ শতাংশ ইউপিআই দিয়ে হচ্ছে। অন্যদিকে বিশ্বের মোট ডিজিটাল পেমেন্টের ৫০ শতাংশ দখল করে নিয়েছে ইউপিআই।
ভারত সরকারের মাই গভঃ পোর্টালে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ভারতের ইউপিআই পরিষেবা গত আর্থিক বছরের নিরিখে প্রতিদিন গড়ে ৬৫০. ২৯ মিলিয়ন গ্রাহক ব্যবহার করেছেন। সেখানে মার্কিন পেমেন্ট মার্চেন্টস ভিসাকার্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬৩৯ মিলিয়ন প্রতিদিন। মজার বিষয় হল ইউপিআই পরিষেবা ভারতবর্ষ বাদে পৃথিবীতে আর মাত্র ৮টি দেশে ব্যবহার করা হয়। তাতেই ইউপিআই ব্যবহারকারীর সংখ্যা সকলকে ছাপিয়ে গিয়েছে বলেই দাবি করছে আইএমএফ। এটা নরেন্দ্র মোদি সরকারের একটা উল্লেখযোগ্য সাফল্য বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি পাঁচ দেশের সফরে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে আফ্রিকার দেশ ঘানাতে ভারতের ইউপিআই চালু করার ঘোষণা করে এসেছেন। এবার জেনে নেওয়া যাক ভারত বাদে আর কোন কোন দেশে ইউপিআই চালু আছে।
২০১৬ সালে ভারতে পথ চলা শুরু হয়েছিল ইউপিআইয়ের। ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া বা এনপিসিআই ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের যৌথ উদ্যোগে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। এখনই দাবি করা হয়েছিল এই ব্যবস্থা গোটা পৃথিবীর অর্থনৈতিক লেনদেনের ভবিষ্যৎ বদলে দেবে। হচ্ছেও ঠিক তাই। কিউআর কোড বা ইউপিআই আইডির মাধ্যমে সহজে পেমেন্ট করা যায় বলে এই ব্যবস্থা এবার ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে গোটা বিশ্বেই। ভারত বাদে এখনও পর্যন্ত মোট ৮টি দেশে এই ইউপিআই ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ভারতের বাইরে প্রথম দেশ হিসাবে ২০২১ সালে ইউপিআই চালু হয় ভূটানে। ওই বছরই ইউপিআই চালু হয় সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে। ২০২৪ সালে প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসাবে ইউপিআই গ্রহণ করে ফ্রান্স। এরপর নেপাল, মরিশাস, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর ও ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোতেও চালু হয়েছে ইউপিআই। এবার ঘানা, নামিবিয়া, সাইপ্রাসেও ভারতের ইউপিআই চালু হওয়া সময়ের অপেক্ষা। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের দাবি, আগামীতে কাতার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ব্রিটেন, ওমান ও মালদ্বীপের মতো দেশে ইউপিআই চালু হতে পারে। ওই সমস্ত দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এখানেই শেষ নয়, বহু ইউরোপীয়ো দেশ ইউপিআই ব্যবস্থা চালু করতে আগ্রহী। এনপিসিআই দাবি করে, এই মুহূর্তে প্রতিমাসে প্রায় ১৮ বিলিয়ন লেনদেন হয় ইউপিআই মারফত। যা আগামীদিনে আরও বাড়বে।
২০২৫ সালের মে মাসে ইউপিআই প্ল্যাটফর্ম প্রায় ২৫.১৪ লক্ষ কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন করেছে। যা ভারতের সমস্ত কার্ড পেমেন্টের সম্মিলিত মূল্যের ১২ গুণ। দুই মার্কিন বহুজাতিক সংস্থা ভিসাকার্ড ও মাস্টারকার্ড ইতিমধ্যেই আতঙ্কিত তাঁদের ব্যবসা হারানোর ভয়ে। জানা যাচ্ছে, ভারতের ইউপিআই অধিগ্রহণের জন্য বিভিন্ন দেশকে সতর্ক করতে শুরু করেছে মার্কিন প্রশাসন। ভিসা ও মাস্টারকার্ড কর্তৃপক্ষ মার্কিন সেনেটকে চিঠিও দিয়েছে এই বিষয়ে পদক্ষেপ করার জন্য। কিন্তু নরেন্দ্র মোদির সফল দৌত ও কূটনীতির জেরে ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভারতের এনপিসিআইয়ের সহায়তায় তাঁদের দেশে ইউপিআইয়ের ধাচে অনলাইন পেমেন্টস সিস্টেম চালু করতে আগ্রহী। ফলে অচিরেই দুই মার্কিন সংস্থা তাঁদের একছত্র ব্যবসা হারাতে চলেছে।











Discussion about this post