চট্টগ্রামে বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি। আতঙ্ক ছড়াচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ায়। চট্টগ্রামের উপকূলে রাত নামলেই এক রহস্যময় পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। ঘাটের অন্ধকার জলে অচেনা জাহাজের ভেসে ওঠা আলো, নোঙরের জাল ফেলার শব্দ। ঘন কুয়াশার বুক চিড়ে আকাশে উড়ে যাচ্ছে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ। পরিবেশ স্থানীয়দের মধ্যে গুজবের ঝড় তুলেছে।
প্রকাশ্যে বাংলাদেশের তদারকি সরকার এই নিয়ে কিছু বলতে চাইছে না। আমেরিকাও অনেকটাই চুপচাপ। তবে কূটনৈতিক মহল বলছে, হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে মার্কিন সেনা অতিসক্রিয় হয়ে উঠেছে। চট্টগ্রামে মার্কিন সেনার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর, পার্শ্ববর্তী ঘাঁটিগুলিতে বিদেশি রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর নৌচলাচলের তৎপরতা আগের থেকে অনেক বেড়েছে। ঠিক কী বিষয়ে এই তৎপরতা, কেনই বা এই বিশাল পরিমাণে সেনার উপস্থিতি কোনও তরফ থেকেই কেউ কিছু বলছে না। যাদের বাহিনী, তারাও যেমন কিছু বলছে না, বাংলাদেশের তদারকি সরকারও কিছু বলছে না। তাদের কথা আলাদা। আসলে ইউনূস সরকার ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছে। তাঁর কোনও কথা ডিপস্টেট চটে গেলে সমূহ বিপদ।
ভারতীয় গণমাধ্যম ওয়ান ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পোস্ট হাসিনা বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গোপসাগরের জলসীমা দিয়ে চিন-ভারতের শক্তি প্রতিযোগিতা যেভাবে তীব্র হচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশকে ঘিরে যে নতুন দাবার বোর্ড সাজানো হচ্ছে। সেটি কেবল সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।’
কিন্তু এই উপস্থিতি শুধু ঢাকার আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ নয়। ভারতের গুপ্তচর সংস্থা থেকে শুরু করে মায়ানমারের সামরিক মহল পর্যন্ত সকলেই মার্কিন সেনার এই সক্রিয়তায় তারা রীতিমতো অস্বস্তিতে। এমনকী বন্দরনগরীর সাধারণ মানুষও অস্বস্তির মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
চট্টগ্রামে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন জহুরুল হক ঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক বিমান এবং বন্দরনগরীর একটি হোটেলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে সব আলোচন হচ্ছে, তাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আইএসপিআর (ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেশন্স)।
তারা একটি বিবৃতি জারি করেছে, যেখানে তারা বলছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক এয়ারফোর্সের অংশগ্রহণে সাত দিনের একটি যৌথ সেনামহড়া শুরু হয়েছে। মার্কিন সেনা এই মহড়ায় অংশ নিয়েছে। সে কারণে চট্টগ্রামে তাদের উপস্থিতি চোখে পড়ছে।
জহরুল হকে অপারেশন প্যাসিফিক অ্যাঞ্জেল ২৫-৩ নামের যৌথ মহড়া শুরু হয় গত ১৪ সেপ্টেম্বর। মহড়ার উদ্বোধন করেন জহরুল হকের অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল হায়দার আব্দুল্লাহ। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্তাদের পাশাপাশি মার্কিন সেনাবাহিনীর পদস্থকর্তারাও সেখানে ছিলেন। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মহড়ায় রয়েছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি সি ওয়ান থ্রি নট পরিবহন বিমান, একটি এমআই সেভেন্টিন হেলিকপ্টার দুটি সি জে ওয়ান থ্রি নট। পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৫০ সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৯২জন সদস্য ছাড়াও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরাও এই মহড়ায় অংশ নিয়েছেন। আইএসপিআর বলছে, দুই দেশের বিমান বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, আন্তঃকার্যক্ষমতা জোরদার করা ও সহযোগিতা শক্তিশালী করাই এই মহড়ার উদ্দেশ্য। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন মঙ্গলবার ঘাঁটি জহুরুল হকে গিয়ে মহড়া পরিদর্শন করেন। পরে তিনি দুই দেশের বিমান বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
বাংলাদেশ সরকার মুখে যাই বলুক না কেন, মহড়ার উদ্দেশ্য যে মোটেই শুভ নয়, তা সহজেই অনুমান করা যায়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post