তিনটি রাজনৈতিক দলের চার নেতাকে সঙ্গে নিয়ে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ সভার অধিবেশনে ভাষণ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে বাংলাদেশের তদারকি সরকারের প্রধান ড. মহম্মদ ইউনূস। সফরে ইউনূসের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের যুক্ত করা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। এই প্রশ্ন ওঠার কারণও খুব ন্যায়সঙ্গত। চলছে আলোচনা। এই সফরে অন্য দলের নেতাদের নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য কী, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জাতিসঙ্ঘে এই চার নেতার ভূমিকা কী হবে, তারাই বা কী ভূমিকা রাখবেন, তা নিয়ে বাংলাদেশে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের সরকারি ভাষ্যে কী বলা হচ্ছে? অন্তর্বর্তী সরকারের পরাষ্ট্র উপদেষ্টা মহম্মদ তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, ২ অক্টোবর দেশে ফেরার আগে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি একাধিক দ্বিপাক্ষিক স্তরের বৈঠক করবেন অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান। এছাড়া আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে পারেন তিনি।
কিন্তু এই সফরে রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে যাওয়ার কারণ কী? আরও একটা প্রশ্ন খুব সঙ্গত কারণে উঠছে। তা হল তদারকি সরকার প্রধান সুনির্দিষ্টভাবে কেন বাছাই করে তিনটি দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে রাজনৈতিক দলের নেতারা বলছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ গঠনে রাজনৈতিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ রয়েছে, এই বার্তাই তদারকি সরকার আন্তর্জাতিকমহলকে দিতে চায়। সেই কারণে এই সফরে তাদের নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে দায়িত্ব যেহেতু রাজনীতিবিদদের হাতে থাকবে, তাই গুরুত্বপূর্ণ নানা আলোচনায় তাদের সামিল করা তদারকি সরকারের দায়িত্ব। বিএনপি মহাসচিব ড. ফখরুল মির্জা আলমগীর জানিয়েছেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক দলগুলি সরকারের সঙ্গে রয়েছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে দেশকে তারা সমবেতভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আন্তর্জাতিকমহলকে এই বার্তাই দিতে চায় তদারকি সরকার প্রধান। ’
প্রশ্ন উঠছে, সুনির্দিষ্টভাবে তিনটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে যে বার্তা বাকি রাজনৈতিক দলের কাছে যাচ্ছে তাতে তারা ভুল বুঝছে না তো? এই বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেছেন, আগামীতে ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দলীয় প্রভাব, দলীয় সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই প্রতিনিধি ঠিক করা হয়েছে। অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের প্রশ্নে একটি ঐক্য তৈরি হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানিয়েছেন, ‘সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি বেশ কিছু সেশন রয়েছে। যেখানে আমাদের অংশগ্রহণ রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ কমিউনিটির সঙ্গেও আমাদের বৈঠক রয়েছে। যেহেতু আমরা একটা রূপান্তর পর্যায়ে রয়েছি এবং সেই পর্যায়ের দিকে এগিয়ে চলেছি, দেশ পরিচালনার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের হাতে হস্তান্তর করা হবে, তাই তাদের প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
তাহের আরও বলেন, ভোটের ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। হাতে বাকি আর কয়েকটি মাস। শেষ কয়েক মাসে গুরুত্বপূর্ণ সব কাজের সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক দলগুলিকে যুক্ত রাখতে চায় অন্তর্বর্তী সরকার। যাতে ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবে, তারা এসব কাজের ধারাবাহিকতা বিষয়ে অবগত থাকে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ অবশ্য মনে করেন,‘সম্ভবত ইউনূস আর ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। রাজনৈতিক দলের দিক থেকে এ বিষয়ে যাতে কোনও বিরোধিতা না আসে, সেটাও তার মাথায় রয়েছে। এছাড়াও তিনটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধের সমাধানের পথও খুলে যেতে পারে। ’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post