অনেক মিত্রই আজ হঠকারীর ভূমিকায় বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। এই হঠকারিতা জাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে জানিয়েছেন মাহফুজ আলম। ‘গণ অভ্যুত্থান ও ছাত্র-তরুণ বিরোধী শক্তি’ শিরোনাম দিয়ে মাহফুজ লিখেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পরের দশ-পনের বছরের ইতিহাস মুক্তিযোদ্ধাদের একে অপরকে হত্যার ইতিহাস। যারা চায়নি বাংলাদেশ শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াক, তারা মুক্তিযোদ্ধাদের একে অপরকে দিয়ে হত্যা করিয়েছে। তাদের নিজেদের ভুল ছিল না তা নয়, কিন্তু আমাদের মুক্তিযোদ্ধাগণের একের পর এক হত্যা বাংলাদেশকে কিভাবে পিছিয়ে দিলো, তা ইতিহাস একদিন বলবে।’ এই উপদেষ্টা বলেন, ‘এবারের আন্দোলন সাহসী ছাত্র-তরুণদের নেতৃত্বে জনগণের আন্দোলন। কিন্তু, একটি দল এবং দেশি-বিদেশি সুযোগ সন্ধানী এস্টাবলিশমেন্ট গত ৩ মাসে ছাত্রদের ভিলিফাই করেছে, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন দিয়ে ছাত্রদের মধ্যে বিভেদ ঘটিয়েছে, অন্য একটি তরুণ দলকে লেলিয়ে দিয়েছে ছাত্রদের বিরুদ্ধে, তদুপরি ছাত্রদের সাথে সম্মানজনকভাবে ডিল তো করেইনি বরং ছাত্রদের তারা শত্রুগণ্য করেছে। তার পরিণতি কি ভালো হচ্ছে, বা হবে?’ তবে, এই সমস্ত অশান্তির জন্য মোটেও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কোনও দোষ দেখছেন না মাহফুজ আলম। বরং, তিনি এই সমস্ত অশান্তির যাবতীয় দায় ‘একটি দল এবং দেশী বিদেশী সুযোগ সন্ধানী এস্টাবলিশমেন্ট’-এর উপর চাপিয়েছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, ‘বাম এবং ডান মানসিকতার কতিপয় নেতৃত্ব বা ব্যক্তি গণ অভ্যুত্থানে, এবং পরবর্তীতে সরকারে নিজেদের শরিকানা নিশ্চিত না করতে পেরে উন্মত্ত হয়ে গেছেন। তাদের উন্মত্ততা, বিপ্লবী জোশ এবং উসকানিমূলক কর্মকান্ড দেশটাকে অস্থির করে রেখেছে।’ এরই মধ্যে, নানা ইস্যুতে ছাত্র আন্দোলন, বিক্ষোভ, মিছিল হয়েছে। সর্বোপরি গত কয়েক দিনে উন্মত্ত ছাত্ররা প্রতিবাদের নামে হাসপাতাল, কলেজের মতো স্থানে নির্বিচারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট চালিয়েছে বলেও নানা মহলের অভিযোগ। এসব নিয়েই সোমবার তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বেশ লম্বা একটি পোস্ট করেছেন মাহফুজ আলম। যেখানে মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত নানা ইস্যু তুলে ধরেছেন। এসবের পরিণতি কি ভালো হচ্ছে নাকি হবে, সে প্রশ্ন তুলে মাহফুজ বলেছেন, ‘মনে রাখতে হবে, বিদেশি শক্তির কোনো সাধ্য নাই এ দেশের মানুষকে পদানত করার। কিন্তু গোলামির মানসিকতার কিছু গাদ্দার আর হঠকারীর এ শক্তি আছে। তারা গত তিন মাসে তা দেখাল। ছাত্রদের আজ সংঘাতের মুখে ঠেলে দিয়ে হত্যার মাধ্যমে ছাত্রদের বৈধতার সংকট হলে যারা যারা লাভবান হবে, তারা সবাই এ উসকানি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার সাথে জড়িত। ধীরে ধীরে আমরা সবই বলব। অথবা আপনারা চোখ খুললেই দেখতে পাবেন।’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post