দিল্লির কেল্লাকাণ্ডের তদন্ত রিপোর্টে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা স্পষ্ট উল্লেখ করে যে পাক সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করেছিল। সেই রিপোর্টে তদারকি সরকার রীতিমতো চাপে পড়ে যায়। চাপে পড়ে যান তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস। তার চাপ আরও বাড়িয়ে দিল বাংলাদেশের একটি প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা। তারা দিল্লির কেল্লাকাণ্ড নিয়ে যমুনাভবনের বাসিন্দার হাতে একটি রিপোর্ট তুলে দিয়েছে। একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই রিপোর্ট আবার ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের হাতেও এসেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, দিল্লি বিস্ফোরণ শুধুমাত্র জঙ্গি হামলা নয়। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর চাপ তৈরির ইঙ্গিত বহন করছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাকিস্তানি প্রভাব বা়ড়ছে। ভারত এই বিষয়টিকে গুরুতর ঝুঁকি হিসেবে দেখছে। রিপোর্টেও এও বলা হয়েছে, এই প্রেক্ষাপটে ভারত সীমান্তের কাছে সীমিত প্রতিরোধ মূলক অভিযান পরিচালনা করতে পারে। গণমাধ্যমের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ভারত সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালাতে পারে।
দিল্লিতে কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভে যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকে এসেছিলেন সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, তাঁর সঙ্গে এসেছিলেন সে দেশের বাহিনীর দু’জন পদস্থকর্তা। কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভ শুরু হওয়ার একদিন আগেই বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা দিল্লি পৌঁছন। প্রথমে বৈঠক করেন জেমস বন্ড অজিত ডোভালের সঙ্গে। সাধারণভাবে এই ধরনের বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে কোনও পক্ষই মুখ খোলে না। নিরাপত্তার স্বার্থেই উভয়পক্ষ এই নিয়ে কোনও বিবৃতি দেয় না। সেটাই দস্তুর। তবে যে আবহে খলিলুর রহমান দিল্লি এলেন, সেই পরিস্থিতি বিবেচনা করে এটা ধরে নেওয়া যেতে পারে, ডোভালের সঙ্গে বৈঠকে কেল্লাকাণ্ড নিয়ে কথা হয়েছে।
ভারত মহাসাগরীয় দেশগুলির এই মঞ্চের বৈঠক এমন সময় অনুষ্ঠিত হল যখন ভারতের রাজধানীতে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় গোটা উপমহাদেশে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বাড়তি চিন্তার কারণ হয়েছে। পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলি কাশ্মীরের পহেলগামে নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করার পর নতুন করে হামলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল বলে একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে। অতীতে একাধিক জঙ্গি সংগঠনের ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। গত বছর হাসিনা সরকারের পতনের পর নতুন করে ভারত বিরোধী জঙ্গি সংগঠনগুলি বাংলাদেশের সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে নয়া দিল্লি একাধিক বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তাৎপর্যপূর্ণ হল সম্মেলনে খলিলুর রহমান দিল্লি বিস্ফোরণ দিয়ে তাঁর ভাষণ শুরু করেন। কড়া ভাষায় এই সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা করেন। বিস্ফোরণের নিন্দা এবং হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। তাঁর দাবি, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে অপরাধ ও সন্ত্রাসমুক্ত করার উদ্দেশ্যে কনক্লেভের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে বাংলাদেশ একমত। সন্ত্রাস প্রতিরোধে ঢাকা যথাযথ পদক্ষেপ করতে চায়।
সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ইউনূস সরকারের আমলে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে খলিলুরের হাতে একটি ডসিয়ের তুলে দিয়েছেন অজিত ডোভাল। ডসিয়েরে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, পাক মৌলবাদী নেতাদের বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলিতে ঘুরে ঘুরে জিহাদি পথে আসার আহ্বানের বিষয়টি। সূত্রের দাবি, দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মধ্যে হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে কোনো কথা হয়নি। ডোভাল-খলিলুর আলোচনায় রাজনীতি নয়, দুই দেশের নিরাপত্তার ঝুঁকিস্থল, স্থল, সমুদ্রে সীমান্তে পাচার এবং সন্ত্রাস রোধে সমন্বয়ের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
আশঙ্কা ছিলই। আর সেটাই সত্যি হল। এনসিপিতে ভাঙন লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এখন সেটা স্পষ্ট। এনসিপি থেকে নতুন রাজনৈতিক দলের জন্ম...
Read more












Discussion about this post