মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প দিল্লি সফরে আসবেন। এমনটাই খবর উঠে আসছে। তার সফরটি এগিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। এখানে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি নতুন কোনও পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প? হাসিনা এখনও ভারতের আশ্রয় এ। তবে কি হাসিনাকে নিয়ে কোনও পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন মোদি এবং ট্রাম্প।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় বসতেই বিস্ফোরক কিছু মন্তব্য করছেন। শুধু তাই নয়, এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা মার্কিন ইতিহাসে কখনও ঘটেনি। কিছুদিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে গভর্নরদের এক ওয়ার্কিং সেশনে বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। বাংলাদেশের রাজনীতি শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে এমন এক সংস্থা ২৯ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে, যে সংস্থার নাম আগে কেউ শোনেনি, এমনকি সেই সংস্থায় মাত্র দুজন কাজ করেন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এমন অভিযোগে সমস্যায় পরবে না তো বাংলাদেশের সরকার?
এর আগে দেখা গিয়েছিল, চলতি মাসের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রের ডিওজিই বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের অনেক প্রকল্পের অর্থায়ন বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিল।
ডিওজিই ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডলে জানিয়েছিল, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া ২৯ মিলিয়ন অর্থায়ন বাতিল করা হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তখনকার মার্কিন প্রশাসন বাংলাদেশের অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে তার জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছিল। ডিওজিইর ওই বক্তব্যের পর এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক রাজনীতি শক্তিশালী করতে ২৯ মিলিয়ন ডলার এমন এক সংস্থার কাছে গেছে, যে সংস্থার নাম আগে কেউ শোনেনি। তিনি বলেন, ছোট একটি সংস্থা, এখান থেকে ১০ হাজার ডলার, সেখান থেকে ১০ হাজার ডলার পায়। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে পেয়েছে ২৯ মিলিয়ন ডলার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউএসএআইডি কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো সংস্থার কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পেতে হলে সেই সংগঠন বা সংস্থার যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধন প্রয়োজন। আর ব্যক্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব থাকাটা বাঞ্ছনীয়। এই সহায়তা সরাসরি বাইরের কারও কাছে যাওয়ার কথা নয়।
হোয়াইট হাউসের ওই অনুষ্ঠআনে ভারতের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ২১ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হচ্ছে আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতকে ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধির জন্য। আমাদের কি হবে! আমিও তো চাই ভোটার উপস্থিতি বাড়ুক।’
ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে নেপাল দুটি প্রকল্পের জন্য ৩৯ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে। এর মধ্যে জীববৈচিত্র্যের জন্য নেপাল পেয়েছে ১৯ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া সার্বিয়া, মলদোভাসহ আরও কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থ পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছেন, ট্রাম্প ক্ষমতায় বসতেই চাপে পড়েছেন ইউনুস। পাশাপাশি তার একের পর এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত, চিন্তায় ফেলছে বাংলাদেশের মতো অন্যান্য দেশগুলি কেউ। এইবার কি তবে ভারত সফর করে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেবেন বাংলাদেশ নিয়ে?












Discussion about this post