বাংলাদেশের সেনানিবাসে হচ্ছেটা কি? একের পর এক ম্যারাথন বৈঠক চলল। বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বহু সেনাকর্তা। এমনকি ঢাকার ক্যান্টনমেন্টে সমস্ত সেনা কর্তাদের সেনা সাজে সজ্জিত হয়ে বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। আর সেই মতোই বৈঠক হয়। এরপরই মনে করা হচ্ছিল, বাংলাদেশে কিছু একটা ঘটতে চলেছে। তবে কিছু কি ঘটল বাংলাদেশে?
সবশেষে দেখা গেল, তেমন কিছুই পরিবর্তন হয়নি সেদেশে। শুধুমাত্র বাংলাদেশের রাস্তায় দেখা গেল, সেনাবাহিনীকে সক্রিয়ভাবে। তবে বৈঠকে কি এমন আলোচনা হল? জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান শুধুমাত্র সেনাকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও দেখা করেছেন রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গেও। কাজেই যে কোনও মুহূর্তে কিছু একটা ঘটতে চলেছে পদ্মাপাড়ে। সেটা আশঙ্কা করছেন অনেকে। যদিও এই পরিস্থিতি আসবে, এটা অনেক আগেই বলেছিলেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
একটু পিছনে ফিরে যাক। সেনাপ্রধান যখন মধ্য আফ্রিকায় গেলেন, তখনই ছাত্র নেতাদের একাংশ এবং সেনাবাহিনীর শীর্ষকর্তারা একটি বৈঠক করেন। সেখানে নাকি সেনাপ্রধান কি অপদস্ত করতে এবং বিপদে ফেলতে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তারপরই দেখা গিয়েছে, আগেভাগেই সেনাপ্রধানের কাছে খবর যেতেই সতর্ক হয়ে গেছিলেন। তখন তার বিরুদ্ধে কিছু করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু এখন সাধারণ জনগণের সামনে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অপদস্ত করার বিস্তর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। রাজনৈতিক দল এনসিপি বা জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেসবুকে পোস্ট করে সেনা প্রধানকে কাঠগড়ায় তোলেন। তিনি লেখেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের প্রস্তাব দিয়েছেন সেনাপ্রধান। এদিকে তাদেরই এক সহকর্মী বা ছাত্রনেতা এবং তদারকি সরকারে উপদেষ্টা সারজিস আলমকে ডেকে পাঠায় ওয়াকার। সারজিস স্পট করে উল্লেখ করেন, এমন কোনও প্রস্তাব দেননি সেনাপ্রধান। অর্থাৎ সবটাই তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত। তবে এতে চুপ করে থাকেননি দেশের সেনাপ্রধান। তিনি আপাতত নীরব থাকলেও পরবর্তীতেও যে নীরব থাকবেন, সেটা বলা ঠিক হবে না। আর তারই ট্রেলার শুরু হয়ে গিয়েছে। ঢাকার রাজপথ এবং বাংলাদেশের বহু রাস্তাতে সেনাবাহিনীর দখলদারি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন দেখার পরে কি পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরপর যদি আরও বড় কোনও পদক্ষেপ হয়, তবে সামলাতে পারবেন তো সারজিস, হাসনাতরা?












Discussion about this post