বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের ভূমিকা নিয়ে অনেক সময় কথা ওঠে বাংলাদেশের অন্দরে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হিসাবে ইসলাম ধর্মের কথা উল্লেখ থাকলেও আসলে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার কথায় উল্লেখ রয়েছে। সেখানে এখনও ২ কোটির মত হিন্দু রয়েছেন। এমনকি বৌদ্ধ খ্রিস্টান সহ বেশ কিছু ধর্মালম্বী মানুষও বসবাস করেন বাংলাদেশে। যেকোনো ধর্মেরই কোনও উৎসব থাকলে, রাষ্ট্রপ্রধানেরা সে সমস্ত মানুষের উদ্দেশ্যে শুভকামনা এবং বার্তা পাঠান। এদিকে নোবেল জয়ী মহম্মদ ইউনূস এই আচার-আচরণ বোধহয় জানেন না। সম্প্রতি পার হল হিন্দুদের একটি অনুষ্ঠান। জন্মাষ্টমী। কিন্তু সেই উপলক্ষে কোনও বার্তাই দিলেন না বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা। আরও একটি আশ্চর্যের বিষয় হল, একই কাজ করেছেন রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু। যদিও রাষ্ট্রপতি গৃহবন্দি বলেই অনেকে বলে থাকেন। কিন্তু এই মুহূর্তে রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে মোহাম্মদ ইউনূসের এই কাজ আদৌ কি সমীচীন? তবে সেই দলের নাম লেখাননি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। তিনি শুধু বার্তা দিয়েছেন তাই নয়, সেই উৎসবে সামিলও হয়েছেন। অনেকে বলছেন, এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন মহম্মদ ইউনূস।
এমনকি বাকি দুই বাহিনী প্রধান কেও সঙ্গে নিয়েছিলেন। শনিবার বিকেলে রাজধানীর পলাশী মোড়ে জন্মাষ্টমীর উৎসব ও মিছিলে ‘সম্মানিত অতিথি’ ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান। উপস্থিত হয়েছিলেন, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. মঈন খান। এই অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান বলেছেন, এই দেশ সবার, এখানে ধর্ম, জাতি, বর্ণ ও গোত্রের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। এই দেশের ওপর সব নাগরিকের অধিকার আছে উল্লেখ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্মাষ্টমী উৎসবে তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চিন্তে এ দেশে বসবাস করবেন। আমরা সব সময় আপনাদের পাশে থাকব।
কিছুদিন আগেই রংপুরে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার চালানো হয়েছে। ঘর বাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। এমনকি বেশ কিছু জনকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তখন সেনাপ্রধান তেমন কোনও বক্তব্য রাখেননি। তবে এখন স্পষ্ট হল, তিনি সবটাই নজর রেখেছেন। আর তাই জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বার্তা দিলেন সেনাপ্রধান। তিনি বুঝিয়ে দিলেন, তিনি মানুষের পাশে রয়েছেন।












Discussion about this post