পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তথা উপ-প্রধানমন্ত্রী ঈশকদার বাংলাদেশ সফর করেছেন। তার তিনদিনের বাংলাদেশ সফর ঘিরে সরকারের মধ্যে সাজ সাজ রব দেখা যাচ্ছে। গতবছর ৫ই আগস্টের পর, বিশেষত বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দৃঢ় হয়েছে। এরপর দেখা গেল, প্রায় এক বছরে পাকিস্তানের তিন মন্ত্রী সদস্য বাংলাদেশ সফরে এলেন। বাংলাদেশের অন্তরবর্তী সরকার তো বৈঠক করবেনই। পাশাপাশি বিএনপি আলাদাভাবে তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে। জামাতের শীর্ষ নেতারাও নাকি বৈঠক করবেন। আসলে কি কারণে এসেছেন ইশকদার? শুধুই কি দুই দেশের বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন? নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে? অনেকে বলছেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রতিশোধ নিতেই ইশাকদারের বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসাবে বলা হচ্ছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, এর মধ্যে মোহাম্মদ ইউনুসের ষড়যন্ত্র রয়েছে।
এমনকি যখন বাংলাদেশের পট পরিবর্তন হল, তখন পাকিস্তানের তরফে বলা হয়েছিল, পাকিস্তান তার হারিয়ে যাওয়া ভাইকে খুঁজে পেয়েছে। বলা হচ্ছে, ঈশকদার যে বাংলাদেশ সফরে এলেন, সেখানে ব্যবসা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি ছাড়াও বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। কিছু কিছু বিল নাকি স্বাক্ষরিত হবে। তবে অমীমাংসিত কয়েকটি জিনিস রয়েছে। যেমন একাত্তরের গণহত্যার জন্য পাকিস্তান এখনো ক্ষমাপ্রার্থনা করেনি। বাংলাদেশে আজকে পড়া পাকিস্তানিদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি। অবিভাগিত সম্পদে বাংলাদেশের ন্যায্য ৭১ কে কেন্দ্র করে। এই অমীমাংসিত বিষয়গুলি মীমাংসা ছাড়া তাদের সঙ্গে কিভাবে বাংলাদেশের সম্পর্ক গড়ে উঠবে? এবং এই পাকিস্তানপন্থী, যারা বাংলাদেশকে এবেবারে জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, তারা এই ধরনের অপ ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছেন কিছুদিন ধরে।
এর আগে দেখা গিয়েছে, পাকিস্তানের আইএসআইয়ের কর্তারা বাংলাদেশ সফর করেছেন । গোপন এই সফরগুলি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও স্টেটমেন্ট দেওয়া হয়নি। এগুলি কোনও কোনও ক্ষেত্রে এর সত্যতা রয়েছে। বাংলাদেশের তরফ থেকে কেউ কেউ দাবি করেছেন, পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র কিছু অংশ বাংলাদেশে এলে ভারতের দিকে তাক করে রাখা উচিত। অর্থাৎ ভারত বিরোধী চরমে। ভারতের সঙ্গে অতি সখ্যতার কারণে কিছু অভিযোগ আছে। আওয়ামী লীগের তরফে নাকি সম্পর্ক মজবুত হয়েছে বলে অভিযোগ। সেক্ষেত্রে বলতে হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে যা যা ঘটেছে, তাতেও তো এই সরকার কিছু বাতিল করেনি। বরং ভারত কিছু ক্ষেত্রে বাতিল করেছে।
এদিকে একাত্তরের যুদ্ধ নিয়ে ভুলে যায়নি পাকিস্তান। তারা সেই হারের বদলা নিতে চায়। এখানেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসাকদার একাত্তরের প্রতিশোধ নেওয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন।












Discussion about this post