বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কলকাতার একটি পত্রিকাকে সাক্ষাৎকার দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশে। সাক্ষাৎকারে যে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফকরুল ইসলাম, সেটি কলকাতার একটি পত্রিকা ছাপতেই পড়শী দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিতর্ক এড়াতে বাংলাদেশের এক পত্রিকা জানাচ্ছে, বিএনপি মহাসচীব এমন সাক্ষাৎকার নাকি দেননি। আর সেটা তিনি নিজে বলেছেন। অথচ কলকাতার পত্রিকা ছবি দিয়ে সেটি প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি এখনও পর্যন্ত, বিএনপি অফিসিয়ালি এই বিষয়ে কিছুই জানায়নি। ফলে বিতর্ক দানা বেঁধেছে প্রবলভাবে। অনেকে বলছেন, তাহলে কি মুহূর্তে মুহূর্তে বয়ান বদল করছেন মির্জা ফকরুল? তবে কি ভারতীয় গণমাধ্যমের চাপে পড়ে গেলেন তিনি?
এই ঘটনাকে ঘিরে বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যম একটি খবর করেছে। তারা বলছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপিকে এখন আর কোনও শক্তি মনে করে না বিএনপি। জামায়াতি ইসলামীকে আর মাথায় উঠতে দেবে না। দলটির যত শক্তি না বিএনপি তার থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। কলকাতার পত্রিকাকে এই ধরণের সাক্ষাৎকারে এই ধরণের মন্তব্য করাতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হচ্ছে এনসিপি এবং জামাতের পক্ষ থেকে। বিএনপি জামাতকে ভারত কেন একই বন্ধনীতে রাখছে, প্রশ্ন মির্জার, শিরোনামে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারটি নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন এবং বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সাক্ষাৎকারের কিছু বক্তব্য নিয়ে জামায়াতি ইসলামী তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এমনকি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এনসিপি নেতারা।
যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা বিএনপির মহাসচিবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই পত্রিকাতে সাক্ষাৎকারটি ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর। বিএনপির মহাসচিব এই ধরনের কোনও বক্তব্য নাকি দেননি।
এইদিকে কলকাতার পত্রিকাটি একটি ছবি পোস্ট করেছে। যেখানে তারা লিখছে, ঢাকার গুলশানে বাংলাদেশে এই মুহূর্তে বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে তারা। এমনকি ওই সাক্ষাৎকারটা যে এই মাসে ৪ তারিখে নেওয়া হয়েছে, সেটিও উল্লেখ করা হয়েছে ওই পোস্টে।
অথচ বাংলাদেশের একটি সংবাদ মাধ্যমকে নাকি মির্জা ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি এই সাক্ষাৎকারটি দেননি। তিনি বলেছেন, এটি নাকি এআই দিয়ে বানানো। এখন প্রশ্ন উঠছে, একটি সংবাদপত্র যখন কোনও সাক্ষাৎকার নেয়, সেক্ষেত্রে নিশ্চয় তার প্রমাণ রয়েছে। অডিও পর্যন্ত থাকতে পারে। পাশাপাশি তারা ছবি দিয়ে পোষ্ট করে দিয়েছে। ফলে কেন তারা বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দলের মহাসচীবের বক্তব্যকে ভুলভাবে তুলে ধরবে। আরও বেশি করে প্রশ্ন উঠে যায়, যখন বিএনপির তরফ থেকে এই ধরণের কোনও মন্তব্য বা অফিসিয়ালি কোনও বক্তব্য এখনও পর্যন্ত রাখেনি।
অনেকে বলছেন, আসলে মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর যে সাক্ষাৎকারটি তিনি দিয়েছেন, সেটি প্রকাশিত হতেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি বুঝেছেন, ভুল সময়ে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছে। সেই কারণেই এই ধরণের তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। ফলে একটি বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে মানুষকে সংশয়ে ফেলছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গণে খানিকটা পরিবর্তন এসেছে। ডাকসু, জাকসু নির্বাচনের ফলে সে দেশের রাজনীতির হাওয়া কোন দিকে বইছে, তা ঘিরে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। এরমধ্যেই কলকাতার পত্রিকাকে দেওয়া বিএনপির মহাসচীবের এমন সাক্ষাৎকার আরও বেশি করে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে বিএনপিকে। যদিও এই বিষয়ে তারা এখনও কোনও বক্তব্য রাখেনি।












Discussion about this post