ইজরায়েল যা করে দেখাল, সেটা কি ভারত করতে পারবে? এই প্রশ্নটাই বর্তমানে প্রাসঙ্গিক। একদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ১৯৭১-এর ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে সরাসরি রেড সিগন্যাল দেখিয়েছেন। অন্যদিকে মার্কিন ডিপ স্টেটের ছক আর পাকিস্তানের প্রভাব। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ দুই শক্তিশালী রাষ্ট্রের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকে চমকে দিয়ে দৃশ্যপটে এন্ট্রি ইজরায়েলের। সিডনিতে ইহুদিদের উপর হামলার পর বেঞ্জামিন নেতা নিয়াহু এমন এক ঘোষণা দিয়েছেন, যা শুনে প্রত্যেকেই এখন ভারতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। সম্প্রতি ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে বেশ কিছু ঘটনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অস্থির হয়ে রয়েছে সীমান্তবর্তী এলাকা। সেখানে ইজরায়েলের নিরাপত্তা নীতি কি দক্ষিণ-এশিয়ার নীতি ঘুরিয়ে দেবে? উঠছে প্রশ্ন। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, ইউনূসের বিরুদ্ধে একজোটে। রাশিয়া-আমেরিকা-ইজরায়েল। তবে কি ভারতের ধাক্কায় ইউনূস সরকারের পতন ঘটবে?
বাংলাদেশের ইউনূস সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়েছে রাশিয়া। অন্যদিকে ইজরায়েলের পদক্ষেপের মাঝে পরে ভারত কি সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন। ২০২৪ সাল থেকে বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটা আপাতত দৃষ্টিতে মনে হয়েছিল এটা তাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়। কিন্তু যত দিন এগিয়েছে, তত বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে। গণ অভ্যুত্থান যে আসলে একটি মেটিকুলস ডিজাইন, সেটা প্রমাণিত হয়েছে। এবং সেটা ডিপ স্টেটের খেলা, সেটাও প্রমাণিত। এরপর দেখা গেল, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া বেশকিছু ছাত্র নেতা সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখেছিল। এমনকি মুহাম্মদ ইউনূসও ওই ডিপ স্টেটের অংশ। ফলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি শুধু তাদের আভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। এটা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির বিষয় হয়ে উঠেছে। ঢাকায় রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন বলেন, এটি একটি ভূ রাজনৈতিক বিষয়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে রাশিয়া। বিষয়টি শুধু দুই দেশের মধ্যে নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যত দ্রুত সম্ভব দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানো প্রয়োজন। এমনই বার্তা দিয়েছেন ঢাকায় রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন। ইতিহাস সবাই জানে। ১৯৭১ সালে যখন আমেরিকা পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল, তখন রাশিয়া ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল। স্বাধীন রাষ্ট্র হয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এখন যখন সেই বাংলাদেশ রাশিয়ার প্রজেক্ট গুলো ধীর করে দিচ্ছে, তখন রাশিয়া আর চুপ থাকল না। অনেকে বলছেন, এটা রাশিয়ার হুশিয়ারি। কারণ রাশিয়ার সরঞ্জামের উপর অগ্নিকাণ্ড, প্রজেক্ট ধীর করে করা….এই গুলো মোটেই ভালো চোখে দেখেনি মস্কো। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক রিপোর্ট দাবি করছে, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ এবং বঙ্গোপসাগরে আমেরিকার আধিপত্য বিস্তার করতে দেয়নি আওয়ামী লীগ সরকার। সেই কারণে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন, অস্থিরতা এবং মার্কিন গোয়েন্দা রহস্য মৃত্যু….এগুলি ইঙ্গিত দেয় রাশিয়া ও আমেরিকার স্নায়ুযুদ্ধের ব্যাটেল গ্রাউন্ড হল বাংলাদেশ। এই পরিস্থিতিতে এবার সামনে এল ইজরায়েল। ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু এর প্রভাব পড়েছে বিশ্বজুড়ে। ইহুদীদের উপর হামলার ঘটনায় ইসরাইল কোনও কূটনৈতিক বার্তা দিয়ে থেমে যায়নি। বরং বেঞ্জামিন নেতা নিয়াহু সরকার ও এবং তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইহুদিদের উদ্দেশে ডাক দিয়েছেন, ঘরে ফিরে এসো। ইসরাইয়েল জানিয়েছে, বিশ্বের যেখানে ইহুদিরা বিপদে পড়বে ইসরায়েল তাদের নিঃশর্তে সাহায্য করবে। আশ্রয় দেবে। তাদের নীতি পরিষ্কার। আগে রাষ্ট্র, তারপর রাজনীতি। তারা বিন্দুমাত্র আপোষ করতে রাজি নয় নিজেদের জাতিকে রক্ষা করতে। এটাই প্রমাণ করে, একটা ছোট্ট দেশ হলেও দেশের নাগরিকদের জন্য কতটা ভাবে সরকার। ইসরাইল এমন পদক্ষেপ করতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা প্রশ্ন উঠে আসছে। তবে ভারতও কি সংখ্যালঘুদের বাঁচাতে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে? ইতিমধ্যেই ভারত পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে আসা নির্যাতিতদের সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্ব প্রদান করেছে। কিন্তু প্রতিবেশী রাষ্ট্রে সংখ্যালঘুরা যেভাবে অত্যাচারিত হচ্ছে, তাতে কি কঠোর পদক্ষেপ করবে ভারত, ইজরায়েলের দেখানো পথে যাবে ভারত, নাকি ভারতের অন্য চিন্তা রয়েছে? সেটা অবশ্য সময় বলবে।












Discussion about this post