একটি আতঙ্কজনক খবর সামনে এসেছে সরকারের পক্ষ থেকে। আগামী নির্বাচন নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নিশ্চিত করলেন যে জুলাই আন্দোলনে লুঠ হওয়া অস্ত্র আগামী নির্বাচনে ব্যবহৃত হবে না। কিন্তু পরের দিনই বাংলাদেশবাসীকে হতাশ করার মতো খবর দিলেন তিনি। অনেকে বলছেন, নির্বাচন এখনও কয়েকদিন বাকি রয়েছে। এরমধ্যে আরও আতঙ্ক বাড়বে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন, দেশের অধিকাংশ আসন কিংবা কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এমন তথ্য তিনি দিচ্ছেন। এর পিছনে কারণ কি? সরকার বা প্রশাসন এর কি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে? কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, পদ্মাপাড়ের আসন্ন নির্বাচন কি কলঙ্কিত হবে ?
৫৯ শতাংশ ভোট কেন্দ্র নাকি ঝুঁকিপূর্ণ। বলছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এখন প্রশ্ন উঠছে, যদি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কথা সত্যি হয়ে থাকে, তবে আগামী নির্বাচন কিভাবে সম্ভব? তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪২, ৭৬১টি। তারমধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ৮ হাজার ৭৮০ টি। গুরুত্বপুর্ণ ভোটকেন্দ্র ১৬ হাজার ৫৪৮ টি ও সাধারণ ভোট কেন্দ্র ১৭ হাজার ৪৩৩ টি। সোমবার সচিবালয়ে আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে এমন কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। এরপরই সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, গুরুত্বপুর্ণ মানে কি এগুলো ঝুঁকিপূর্ণ? উত্তরে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, গুরুত্বপুর্ণ মানে হল ঝুঁকিপূর্ণ যেগুলো নিরাপত্তার দিক থেকে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হবে। এছাড়াও প্রায় ৯ লক্ষ সদস্য মোতায়েন করা হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এরমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থাকবে ১ লক্ষ সদস্য, নৌ বাহিনীর ৫ হাজার, বিমান বাহিনী ৩ হাজার ৭৩০, পুলিশ ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৪৪৩ জন, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্ট গার্ড ৩ হাজার ৫৮৫ জন এবং র্যাবের ৭ হাজার ৭০০ জন, সাপোর্ট সার্ভিস হিসাবে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ হাজার ৩৯০ জন থাকবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যেভাবে সরকারের অন্দরে থেকে আতঙ্কের খবর আসছে, তখন কি আদেও বাংলাদেশের প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে? এদিকে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, সেনাবাহিনী সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাউকে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ না করার সুপারিশ করেছে জামায়েত। প্রধান উপদেষ্টা তাতে সম্মতি দিয়েছেন। অর্থাৎ সেনাবাহিনী, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কেউ ভোট কেন্দ্রের ভিতরে ঢুকতে পারবে না। এটাতে প্রধান উপদেষ্টা নাকি সম্মতি দিয়েছেন। এমন বক্তব্য যখন উঠে আসছে, তখন গত ৫ই জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছিলেন, ভোট কেন্দ্র-সহ যে কোনও স্থানে প্রবেশ করতে পারবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলছেন, সেনাবাহিনী-সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলছেন, বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। সবমিলিয়ে একটি আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আসলে কোন দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ? বাংলাদেশের নির্বাচন কি আদেও শৃঙ্খল বজায় রেখে হবে? এই প্রশ্নই উঠছে। পাশাপাশি আদেও নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন হবে কিনা, সেটাও নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এখন দেখার, শেষমেশ কি পরিস্থিতি তৈরি হয়।












Discussion about this post