বর্তমান সরকারের মেয়াদ এখনও একদিন রয়েছে। কিন্তু তার আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে নানা রকমের আলোচনা চলছে। সোশ্যাল মাধ্যমে লেখালেখি চলছে তাদের বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার একজন বিশেষ সহকারী দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে খবর। এই সমস্ত অভিযোগ যখন সামনে আসছে, তখন ঢাকার রাস্তায় দেখা গেল প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের কুশপুতুল দাহ করা হচ্ছে। এই ঘটনা বলে দেয়, যে প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বহু মানুষ ফুঁসে রয়েছে। যেগুলি নির্বাচনের পর শুরু হয়েছে। যখন প্রায় নিশ্চিত বিএনপি জিতছে, তখনই এই বিষয়গুলি সামনে আসছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি জামায়েত ই ইসলামী জিতত, তাহলে এই পরিস্থিতি তৈরি হত না। কারণ জামায়েত জিতলে খানিকটা মনে করা হত ইউনূসের সরকারই ক্ষমতায় রয়েছে। এমনকি ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করা হবে, এমনটাও প্রায় চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু খেলা ঘুরে গিয়েছে। তাই এমন পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বাংলাদেশে। আসলে কি কি কারণে মুহাম্মদ ইউনূস সরকার প্রশ্ন চিহ্নের মুখে, সেটা নিয়েই নানা আলোচনা চলছে।
অন্র্বতকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কঠোর সমালোচনা করে এবং উপদেষ্টাদের গ্রেফতারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে ইউনূসের পোস্টার জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এই প্রতিবাদ কর্মসূচিটি পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ সেশনের সাবেক শিক্ষার্থী এবং ডাকসু নির্বাচনের সবচেয়ে বেশি বয়সী ভিপি পদপ্রার্থী আবতাব হাবিলদার। কর্মসূচিতে তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে দ্বিতীয় মীরজাফরখ্যাত, দেশদ্রোহী আমেরিকার দালাল, জুলাই বিপ্লব ধ্বংসকারী হিসাবে অভিহিত করেন। পাশাপাশি তাঁকে সুদখোর বলে কটাক্ষ করেন। পাশাপাশি দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং বর্তমান উপদেষ্টাদের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি। কেউ কেউ বলছেন, যে মব কালচার তিনি নিজেই একদিন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলাদেশে, সেখানে তিনি নিজেই শিকার হচ্ছেন। বিএনপি পন্থী একজন বিশ্লেষক সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ এবং ৪৮ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলেন, ইউনূস ফেঁসে গিয়েছেন। তিনি বলছেন, ৯৩ অনুচ্ছেদে বলছেন, রাষ্ট্রপতি আধ্যাদেশ দিতে পারবেন। যেকোনো সংকট তৈরি হলে রাষ্ট্রপতি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন। অন্যদিকে ৪৮ ৩ অনুচ্ছেদে বলা হচ্ছে, প্রধান বিচারপতি এবং প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ছাড়া বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী একা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। মাত্র দুটি জায়গাতে প্রধান উপদেষ্টা বা প্রধানমন্ত্রীর কথাতে কাজ করবেন না বা নিজের ইচ্ছে কাজ করবেন। সেটা হল প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন। বা প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগে স্বাধীনতা থাকবে। এছাড়া রাষ্ট্রপতি যা যা কাজ করবেন সবটাই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ক্রমে করবেন। বাংলাদেশের সংবিধান বলছে, রাষ্ট্রপতি যা যা করবেন সবটাই প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শ ক্রমে করবেন। এখনো পর্যন্ত যা যা অধ্যাদেশ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু, সবটাই প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শ ক্রমে। এখনও পর্যন্ত এমন কিছু ওদের জারি করেছে, সেগুলোর জন্য প্রধান উপদেষ্টা পরে ফেঁসে যাবেন। এমনটাই তিনি বলার চেষ্টা করছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যে শেখ হাসিনার বিচার করেছেন, সেটাও একটি হিংসার বশবতি হয়ে। আইন সংশোধন করে করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আইন ১৯৭৩ আইন অনুযায়ী, এই আদালতের একমাত্র ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যারা জড়িত তাদের বিচারের জন্য এই আদালত তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু সেই আদালতে শেখ হাসিনার বিচার করা হল। এমনকি গ্রামীণ ব্যাংক নিয়েও ইউনূস বিপদে পড়তে পারেন। গ্রামীণ ব্যাংকের সরকারের মালিকানা ছিল ২৫ শতাংশ এবং গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা ছিল ৭৫ শতাংশ। সেটা ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পরে সরকারের মালিকানা ২৫ শতাংশ থেকে কমে দশ শতাংশ হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা ৯০ শতাংশে নিয়ে গিয়েছে। এই কারণে তাকে আইনের মুখোমুখি হতে পারে। অন্যদিকে ঘনঘন বিদেশ সফর, সেটা নিয়েও তিনি কাঠগোড়ায় উঠতে পারেন। কারণ সবগুলো সরকারি সফর ছিল না। এমনকি এখনও পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে যা যা মামলা ছিল, সেগুলি সরকারের প্রভাব খাটিয়ে মামলাগুলি তুলে নিয়েছেন। ফলে অভিযোগের পাহাড়। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সরকার থেকে বিদায় নেওয়ার পর কি পরিস্থিতি তৈরি হয় বাংলাদেশে, কি পরিণতি হয় প্রধান উপদেষ্টার, সেটাই দেখার
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post